শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস পালিত

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের সম্ভবনাময় উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তী রায় বলেছেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তাই, কক্সবাজারের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার কক্সবাজারে তিন লাখ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যেখানে রেললাইন, তাপভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ,গভীর সমুদ্র বন্দর, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে ২৫টি মেগা প্রকল্পসহ ৭৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে কক্সবাজারের চেহারা। আর পর্যটন খাতে বাংলাদেশের অর্থনীতির দুয়ার যেমন খুলবে, তেমনি কক্সবাজারের প্রতি আকৃষ্ট হবে বিদেশী পর্যটক।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বার) সকাল দশটায় আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস উপলেক্ষ্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত র‌্যালি পরবর্তী এক সমাবেশে তিনি উপরোক্ত কথা বলেছেন। এসময় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুন্দর্য্য রক্ষায় তিনি পর্যটন শিল্প ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এরআগে র‌্যালিটি সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু হয়ে লাবনি পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে হোটেল মোটেল, গেষ্ট হাউস, ট্যুর অপারেটরস্ এসোসিয়েশন, কিটকট মালিক সমিতি, ঝিনুক, হকার ব্যবসায়ীসহ পর্যটনসেবী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রধান এ.কে.এম তারিকুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান, হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল কাশেম সিকদার, পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান, ট্যুর অপারেটরস্ এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) এর ফাউন্ডার চেয়ারম্যান এম.এ হাসিব বাদল ও সভাপতি আনোয়ার কামাল।

অনুষ্ঠান শেষে সৈকতে আগত পর্যটকদের ফুল দিয়ে ‘পর্যটন দিবসের’ শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে আলোক প্রজ্জ্বলন, ফানুস উড়ানো ও আতশবাজি করা হবে বলে জানানো হয়।

এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস ঘিরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে আবাসিক হোটেলগুলো সাজিয়ে নিয়েছেন হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস মালিকরা। রুম বুকিংয়ে দেয়া হয়েছে ৫০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ‘হোয়াইট অর্কিড’ নামে হোটেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রিয়াদ ইফতেখার জানান, কক্সবাজারে প্রতিদিন লাখো মানুষের আবাসনের সুযোগ রয়েছে। শুধু দেশের যেকোনো শহর নয়, বিশ্বের নানান পর্যটন নগরীর চেয়ে এখানে আবাসন খরচ তুলনামূলক কম বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক রেস্তোঁরা কয়েকশ কনফেকশনারি পর্যটকদের খাবারের সেবা দিয়ে আসছে। কক্সবাজারে বেড়াতে আসা যেকোন পর্যটক হাত বাড়ালেই পান প্রছন্দের খাবার।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জিল্লুর রহমান জানান, ‘পর্যটন এলাকা হিসেবে কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি ইউনিট কাজ করছে। তাদের পাশাপাশি নিরাপত্তায় মাঠে কাজ করে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মনিটর করা হচ্ছে অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা।’

তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের কলাতলী, সি-ইন ও লাবণী পয়েন্ট সৈকতে ২৪ ঘণ্টাই পুলিশের পাহারা থাকে। এছাড়া হিমছড়ি, দরিয়ানগর ও ইনানি পর্যটন স্পটে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয় রাত ১০টা পর্যন্ত। পর্যটকরা যেন জোয়ার-ভাটার সময় দেখে সাগরে নামতে পারেন সেজন্য পরামর্শ সংবলিত নির্দেশনা সৈকতের বিভিন্ন স্পটে রাখা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনূর রশীদ জানান, বিশেষ ছুটি ছাড়াও সপ্তাহিক ছুটির দিনে লাখো পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন। পর্যটকরা যাতে ছিনতাই, ইভটিজিং, হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া কিংবা খাবার নিয়ে প্রতারণার শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে পর্যটন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত টহলে থাকেন। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের একটি নাম্বার পর্যটন এলাকার তথ্য সেবা কেন্দ্রে দেয়া রয়েছে। যেকোন বিপদ বা প্রয়োজনে সেই নাম্বারে যোগাযোগ করলে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটৌকল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’ এ শ্লোগানে এবারে পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে। পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102