বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

‘প্রধানমন্ত্রীই আমার অনুপ্রেরণা’-রিমা

সায়ীদ আলমগীর:
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

রিমা সুলতানা রিমু (১৯)। কক্সবাজারের রামুর রাজারকুল পশ্চিম সিকদার পাড়ার কৃষক আবদুর রহিম ও গৃহিণী খালেদা বেগমের দু’ছেলে-দু’মেয়ের পরিবারে দ্বিতীয় সন্তান। চলতি বছর এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র।

জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী হয়ে সমমনা তরুণীদের নিয়ে দল বেঁধে পাড়া-মহল্লা, রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে বয়স্ক নারীদের স্বাক্ষরতা থেকে শুরু করে সমাজের ভালো কাজগুলো নিয়ে শেয়ার করতো তারা (রিমুরা)। বাল্যবিয়ে রোধ কেন প্রয়োজন উদাহরণে বুঝিয়ে নারীর সহিংসতা নিয়েও আলোচনায় নারীরা কেন পিছিয়ে থাকে সেইসব ব্যাপারেও সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করতো। কোভিড-১৯ এর শুরু থেকে চলমান সময়েও রিমুর স্বেচ্ছাসেবক দল নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণবিরোধী র‌্যালি থেকে শুরু করে ধর্ষণ বিষয়ে সচেতনতা নিয়েও কাজ অব্যাহত রয়েছে তার দলের।

এরই স্বীকৃতি স্বরূপ বিবিসি’র জরিপে অগ্রগামী ১০০ নারীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন অজপাড়ার অদম্য আত্মপ্রত্যয়ী তরুণী রিমু। বিরল এ সম্মাননা তাকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। এ বিশ্ব স্বীকৃতির প্রতিদানে আরো বেশি কর্মততপরতায় মানবতার কল্যাণে ‘অদম্য-১৮’ আজন্ম লালন করতে চান তিনি। দেশের জন্য এমনটি করা সম্ভব হলে গৌরবান্বিত অনুভব করবেন রিমা সুলতানা রিমু।

সম্প্রতি বিবিসি’র অদম্য ১০০ নারীর তালিকায় স্থান করে নেয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় কক্সবাজারের রামুর মেয়ে রিমু এসব কথা বলেছেন।

রিমু আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও স্পীকার নারী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি আমাদের রামু এলাকারই মেয়ে। ইনারা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিভাগে নারীরা বড় বড় পদে কাজ করে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন ও রাখছেন। আমিও উনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরিশ্রমী নারী হয়ে সমাজ পরিবর্তনে কাজ করে যেতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে দেখেই অনুপ্রেরণা পাই।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমের সংবাদে বিবিসি’র ১০০ নারী তালিকায় বাংলাদেশের যে দুজন নারী স্থান পেয়েছেন, তন্মধ্যে আমার নামটিও রয়েছে দেখে প্রথমে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারিনি। একাধিক সংবাদ মাধ্যমে একই খবর দেখে খুশিতে দৌঁড়ে মাকে ঝাপটে ধরেছি। তারপর ছুটে গেছি, যার অনুপ্রেরণায় আজকের এ স্বীকৃতি পেয়েছি সেই এনজিও-জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী শিউলি ম্যাম’র কাছে।

বিবিসি’র বাছাই করা ১০০ নারীর মাঝে স্থান পাওয়ার অনুভুতি সম্পর্কে রিমু বলেন, এতদিন কাজ করেছি খেয়ালিপনায়। আজ থেকে দায়িত্ব বেড়েছে। সে হিসেবে এখন আমার যাত্রা নতুন করে শুরু হলো।

ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে রিমু বলেন, আমি মনে করি নারীরা সাহসী হলেই এগিয়ে যাওয়া সহজ। সাহস না থাকায় নারীরা অনেক কিছুতেই রয়েছে পিছিয়ে। নারীরা সাহস করে কিছু না বলায় অনেক সমস্যারও সমাধান হয় না। এমন স্বভাবের নারীরা গ্রাম-শহর সবখানেই কষ্টে রয়েছে। তাদের কষ্ট আমাকে পীড়া দেয়। আবার অনেক প্রতিভাবান নারীর রয়েছে অনেক কিছু উদ্ভাবন। কিন্তু এসবের কেউ খোঁজ নেয় না। পিছিয়ে থাকা এসব কর্ম নিয়েই আমি কাজ করতে আগ্রহী। আমার চাওয়া বাংলার একজন নারীও পেছনে পড়ে থাকবে না। স্কুলে পড়াকালীন আমিও ভাবতাম সবকিছু মেনে নিয়ে চুপ করে থাকা-ই নারীর নিয়তি। কিন্তু জাগো নারীর সাথে যোগ দিয়ে বুঝলাম আমার ধারণা ভূল। কলেজে গিয়েই নিজেদের অধিকার নিয়ে কাজ করার বাসনা জাগলো। সাহস নিয়ে শুরু করেছি বলেই আল্লাহ আমাকে ভালো কাজের প্রতিদানও দিয়েছেন। তাই প্রত্যেক নারীদের সাহসী করে তুলতে কাজ করে যাবো।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়ে হিসেবে রিমুর বেড়ে উঠাও বন্ধুর ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে স্কুল জীবন পার করার পর নিজেকে পরার্থে বিলাতে মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিই। আমার মতের সাথে মিলে এমন কয়েকজনকে খুঁজব না পেলে একলা হাটবো। আমার সিদ্ধান্তে মা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালেদা ম্যাডাম সাহস যোগালেন।

তাদের সাহসকে পুঁজি করে জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থার রামু অফিসে এলাম। এনজিওটিতে স্বেচ্ছায় কাজ করতে এসেছি বলার পর প্রথম দর্শনে সংস্থার চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী শিউলি শর্মা ম্যাম তেমন পাত্তাই দিতে চাননি। পরে একটি দলভিত্তিক কাজ দিয়ে পরীক্ষা নিলেন। কাজে সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে দায়িত্ব দিলেন, ‘গার্লস এ্যাম্বেসেডার ফর পিচ’ নামের একটি প্রকল্পে। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অফ উইমেন পিচ বিল্ডার্স (জিএনডাব্লিউপি)’র সহায়তায় সমাজ পরিবর্তনে কাজ করা হয় এ প্রকল্পের আওতায়। আমি হয়ে গেলাম শান্তির দূত। কক্সবাজারভিত্তিক ইয়াং উইমেন লিডার্স ফর পিসের সদস্য হিসেবে রয়েছি আমি।

রিমু বলেন, আমার মতো আরো অনেক নারীকে নিয়ে দল বেঁধে পাড়া-মহল্লা, রোহিঙ্গা শিবিরসহ এনজিওটির নির্ধারিত অফিসে যাই। সেখানে বয়স্ক নারীদের স্বাক্ষরতা থেকে শুরু করে সমাজের ভালো কাজগুলো নিয়ে তাদের সাথে শেয়ার করি। বাল্যবিয়ে ও নারীর সহিংসতা রোধ নিয়ে আমরা কাজ করি। সাথে কোভিড-১৯’র ধাক্কায় আমি স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

রিমু বলেন, আমার পরিবারের সবাই পড়ালেখায় রয়েছি। চলতি বছর অটোপাশে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি। এনজিওতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজের পাশাপাশি টিউশনি ও রামু সদরে গ্লোবাল ইংলিশ লার্নিং সেন্টার নামের একটি স্পোকেন ইংলিশ প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছি। আমার ছোট বোন সানজিদা মুশতারি ইমান এবং কামরুল হাসান জিহাদ স্কুলে পড়ছে।

সরকারের কাছে আমার নিজের জন্য কোন চাওয়া নেই। সামগ্রিক ভাবে চাই, যুবাদের সৃষ্টিশীল মেধার মূল্যায়ন। উপজেলা লেভেলে যুব উন্নয়নের গঁদ বাধা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে চাহিদা মাফিক প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে যুবাদের যোগ্য করে তুলতে ব্যবস্থা করা।

আর যুবাদের প্রতি রিমুর আহবান কোন কাজ শুরুর পর বাধা আসলে থেমে যাবেন না। বাধা সফলতার প্রথম ধাপ। মাদক থেকে দূরে থেকে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে মূখ্য ভূমিকা যুবাদের রাখতে হবে। চলমান সময়টা করোনার দখলে। তাই সচেতন ভাবে নিজের, পরিবারের এবং প্রতিবেশীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। এতে দেশ এবং দশের কল্যাণ।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102