মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

‘প্রতিবেশি দেশের সাথে যৌথ সামুদ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের সুপারিশ’ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্যরে তদন্ত প্রতিবেদন...

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

‘সাগরে বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে ‘সামুদ্রিক যৌথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠনের পাশাপাশি কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ভেসে আসা আহত ডলফিন ও কাছিম সুরক্ষা এবং চিকিৎসা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর অধীনে একটি মেরিন লাইফ হাসপাতাল এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে’। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অস্বাভাবিক বর্জ্য ভেসের আসার কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করতে গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করেছেন। একই সাথে আর্ন্তজাতিক আইন মেনে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যেন তাদের উপকূলীয় আবর্জনার সঠিক ব্যবস্থাাপনা ও জেলেদের সামুদ্রিক দুষণ কার্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে সে বিষয়ের উপরও গুরুত্বারোপ করা হয় প্রতিবেদনে।

গত ২৮ আগস্ট সোমবার তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসক বরাবরে ১১ টি সুপারিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন ও বর্জ্যরে নমুনা সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অস্বাভাবিকভাবে বর্জ্য ভেসের আসার কারণ ও উৎস সন্ধান, বর্জ্যের ধরণ নির্ধারণ, কাছিম ও অন্যন্য প্রাণী ভেসে আসা, মৃত্যুর কারণ এবং ভবিষতে এ ধারনের বর্জ্য ভেসে আসা রোধ করতে করনীয় নির্ধারণ করতে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করেন।

বঙ্গোপসাগরকে বর্জ্যমুক্ত রাখতে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা এলাকায় বর্জ্যবলয় এর অবস্থান, আয়তন ও গভীরতা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর অধীনে একটি বিশদ গবেষণা পরিচালনা প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগের মিলিত সকল খাল/নদী হয়ে পতিত সকল ধরনের বর্জ্যের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করা জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি স্বাধীন জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে। যেখানে কক্সবাজর পৌরসভাসহ অন্যন্য প্রতিষ্ঠান সমূহের সুনির্দ্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরতে যাওয়া নৌ-যানগুলোর তালিকা তৈরি তাদের মালামালের ইভেনটরী করে তা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক লিখিত যাচাই এর ব্যবস্থা করা। সামুদ্রিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় জেলেদের মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ করতে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করার সুপারিশ করা হয়। সরকারি অর্থায়নে উক্ত কমিটি দেশী-বিদেশী জাহাজ হতে নিক্ষিপ্ত/নির্গত বর্জ্য বিষয়ে তদারকি নিশ্চিত করবেন।

বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরার ছোট বড় সামুদ্রিক জাহাজ, নৌকায় উৎপাদিক বর্জ্য যেন সমুদ্রে না ফেলে সে বিষয়ে সৎস্য বিভাগ বা পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি সমুদ্র উক‚লীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি, মৎস্যজীবী এবং পর্যটকদের সচেতনতা করতে কর্মশালা আয়োজনেরও সুপারিশ করা হয়।

এরআগে বর্জ্য ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে স্থানীয় জেলে, বোট মালিক, মাঝি, সাংবাদিক এবং পরিবেশকর্মীদের মতামত নেন তদন্ত কমিটি। তাদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটির পক্ষ থেকে নিজস্ব মতামতও তুলে ধরা হয়।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্যরে একটি বড় অংশ স্থানীয় জেলেদের সৃষ্টি দাবি করে প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় জেলেদের সঙ্গে নেয়া খাবার পানির ড্রাম, জ্বালানি তেলের ড্রাম নষ্ট হলেই সাগরে ফেলে দেয়। কক্সবাজার উপক‚লের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরতে যাওয়া অনেক নৌকার জাল ছিঁড়ে সাগরে রয়ে যায়। এসব জালে সামুদ্রিক কাছিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আটকে গিয়ে মারা পড়ে। এছাড়া কক্সবাজারের তিনটি প্রধান নদী বাঁকখালী, নাফনদী এবং মাতামুহুরী নদীসহ মহেশখালী মোহনা, রেজু খালের মোহনা, ইনানী খাল, মনখালী খাল হয়ে চিপস্সের প্যাকেট, সস্, প্লাস্টিক কাপ, জুতা এবং কিছু মেডিকেল বর্জ্য বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমায় বড় বড় মাছ ধরার জাহাজ হতে বিভিন্ন ব্রান্ডের মদের বোতলসহ অন্যন্য বর্জ্য প্রতিনিয়ত সমুদ্র সৈকতে ফেলে দেয়া হয়।
জেলেদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এসব বর্জ্য গভীর সগারে কম স্রোত স্থানে গিয়ে জমা হয় (যেটিকে জেলেদের ভাষায় ‘কেজাইন্না’ বলা হয়)। গেল ১১ ও ১২ তারিখ কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্যগুলো গভীর সমুদ্রে জমা বর্জ্য বলে মতামতে তুলে ধরা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এভায়রনন্টোল সায়েন্সস বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আল আমিন মতামত তুলে ধরে বলেন, কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বেশিরভাগই গৃহস্থালী বর্জ্য, যা আমাদের দেশেীয় উৎস হতে নদী/খাল বাহিত হয়ে সাগরে গিয়ে মিশেছে।

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি চট্টগ্রামের ডেপুটি কমানডেন্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামিম বলেন, বর্জ্যরে ধরন দেখে মনে হয়েছে বর্জ্যসমূহ গৃহস্থালী এবং বিভিন্ন ডমেস্টিক উৎস হতে নির্গত। বর্জ্যসমূহ পূর্ব হতে সক্রিয় মহাসাগরীয় স্রোত, সক্রিয় সৌমুমি বায়ু এবং ঢেউএর প্রভাবে ভেসে এসছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আশরাফুল আফসার বলেন, ভেসে আসা বর্জ্যরে প্রতিটি বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলেছি। তারপরই আমাদের প্রতিবেদন তৈরি করে কমিটির মতামতও তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি সংশ্লিষ্টরা প্রতিবেদনের উপর সিদ্ধান্ত নিবেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ জুলাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অস্বাভাবিকভাবে ভেসে আসা বর্জ্য ও সামুদ্রিক কাছিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মরদেহ ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধান করতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আশরাফুল আফসারকে আহবায়ক করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্যন্য সদস্যরা হলেন, বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট কক্সবাজার এর উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু শরীফ মো: মাহবুবু-ই-কিবরিয়া, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক, কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা ডা: অসীম বরন সেন, চট্টগ্রামের উপক‚লীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো: সাইফুল ইসলাম, পেিবশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো: নাজমুল হুদা।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102