সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

‘প্যানেল মেয়র মাহবুবুর রহমান ও শ্রমিক নেতা মানিক আহত’ টমটম আটকের ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত কক্সবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

গত এক সাপ্তাহ ধরে অবৈধ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক টমটমের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে কক্সবাজারের ট্রাফিক পুলিশ। বুধবার (১৭জানুয়ারী) অভিযানকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার শহরের চলাচল করা প্রায় ১১ হাজারের অধিক অবৈধ টমটম একযোগে উধাও হয়ে যায়।

বুধবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের কোথাও টমটম চলাচল করতে দেখা যায়নি।
এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা ও ভ্রমণে আসা পর্যটকরা।

এদিকে অভিযানের কারনে কক্সবাজার শহরে চলাচলরত প্রায় ১২ হাজার অবৈধ টমটমের বৈধতা দিতে বেআইনি লাইসেন্স সরবরাহ করে বিপাকে পড়েছে সরকার সমর্থিত দুটি গ্রুপ । এ নিয়ে বুধবার সকাল থেকে উভয় পক্ষের দফায় দফায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

হামলা পাল্টা হামলায় আহত হয়েছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাহবুব রহমান ও টমটম শ্রমিকদের নেতা রুহুল কাদের মানিকসহ বেশ কয়েকজন। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের উপরে হামলা করার অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গত এক সাপ্তাহ ধরে অভিযানে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ ৫ শতাধিক অবৈধ টমটম জব্দ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার সকাল ধর্মঘটে নামেন টমটম মালিক শ্রমিকদের সংঘটন গুলো। এসময় তারা টমটম মালিক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি রুহুল কাদের মালিকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ এর পাশাপাশি মানববন্ধনের আয়োজন করে।

এদিকে শহরবাসীর ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে ধর্মঘটের বাধা দেন কক্সবাজার পৌর প্যানেল মেয়র মাহবুব রহমানের নেতৃত্বে পৌর প্রশাসন । এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

টমটম শ্রমিকদের অভিযোগ, পৌরসভার সামনে তাদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে কোনো কারণ ছাড়াই মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীরা হামলা চালিয়েছে ।এসময় হামলাকারীরা শ্রমিক নেতা রুহুল কাদের মালিককে পেটাতে পেটাতে এক পর্যায়ে টেনেহেঁচড়ে পৌরসভার ভিতরে নিয়ে গিয়ে ব্যাপকভাবে মারধর করেন।এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের উপরেও চওড়া হয় হামলাকারীরা।

পরে পৌরসভার ভিতর থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় পড়ে থাকা শ্রমিক নেতা মানিককে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় সদর থানা পুলিশ।

অপরদিকে পাল্টা অভিযোগ এনে আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুব রহমানকে মারধর করা হয়েছে দাবি করে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে।পৌরসভার কাউন্সিলরদের দাবি, ধর্মঘট বন্ধের জন্য অনুরোধ করা হলে শ্রমিক নেতা মানিকের নেতৃত্বে মাহবুব রহমানের উপর হামলা করা হয়।এতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হয়।বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বুধবার দুপুরে কক্সবাজার পৌরসভার সামনে তাৎক্ষনিক আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি, নজিবুল ইসলাম,পৌর কাউন্সিলর সালা উদ্দীন সেতু,কাউন্সিলর সাহাব উদ্দীনসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ হাজারোও মানুষ অংশ নিতে দেখাগেছে।

এদিকে টমটম মালিক ও শ্রমিকরাও বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে।এতে করে দুই পক্ষের পাল্টা পাল্টি অবস্থানের কারনে কক্সবাজার শহর জুড়ে আতংক বিরাজ করেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনিরুল গিয়াস বলেন, অবেধ টমটম ঘিরে সংঘটিত ঘটনায় নজর রাখছে পুলিশ। এখানে স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আহত শ্রমিক নেতা মানিককে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠলেও এখনো পুলিশ কারও পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাননি।

উল্লেখ্য ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক টমটমের জ্যামে অচল হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার।একদিকে ভাঙ্গা-চোরা সড়ক, অপরদিকে তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ কক্সবাজার পৌরবাসী।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা বার বার যানজট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।প্রতিশ্রুতির উল্টো পথে হেটে চলতি বছরের শুরুতে নতুন করে আরোও ৫শ টমটমের লাইসেন্স দেয়ার সীদ্ধান্ত নেয় কক্সবাজার পৌর প্রশাসন। এর আগে কর্তৃপক্ষ আড়াই হাজার টমটমের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে দাবি করলেও কক্সবাজারে শহরে টমটমে চলাচল করছে ১১হাজারের অধিক।

এসব বিষয়ে উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে টমটমে অচল কক্সবাজারে আরো পাঁচশ’ টমটমের অনুমতি শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

এর পর বিষয়টি নজরে আসলে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বিষয়টি গড়ায় জেলার আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়েও। সীদ্ধান্ত হয় কক্সবাজার শহরকে যানজট মুক্ত করে টমটমসহ সব অবৈধ জান উচ্ছেদের এরই প্রেক্ষিতে এরই প্রেক্ষিতে অবৈধ টমটম জব্দ করার শুরু করেছে প্রশাসন।

অভিযোগ আছে, একটি টমটমের লাইসেন্সকে কপি করে চার থেকে পাঁচটি টমটম চলাচল করছে কক্সবাজার শহরে । তবে টমটম মালিকদের দাবি,তারা দেড় থেকে দুই লাখ টাকা দিয়ে এসব লাইসেন্স কিনে নিয়েছে।যদিও পৌর কর্তৃপক্ষ বরবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সূত্রে জানাগেছে,কক্সবাজার শহরে চলাচলরত প্রায় ১২ হাজার অবৈধ টমটমের বৈধতা দিতে বেআইনি লাইসেন্স সরবরাহ করেছে পড়েছে আওয়ামীলীগের দুটি গ্রুপ।এ কারনে অভিযানকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

জানতে চাইলে কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল ইসলাম বলেন,অবৈধ টমটম চলাচল কে কেন্দ্র করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে টমটম শ্রমিকরা। তবে কক্সবাজার সড়কে যানজট মুক্ত করতে অবৈধ সব টমটমই উচ্ছেদ করতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ প্রশাসন।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102