শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০২:৩৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গেছে ঈদগাঁও নদীর ব্রীজ

মো: শাহেদ:
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
  • ৪৬১ বার পড়া হয়েছে

বুধবার রাতে শুরু হওয়া টানা বর্ষণের পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে গেছে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও নদীর উপর নির্মিত “মঞ্জুর মৌলভীর দোকান হইতে রমজান মিয়ার ঘাটা ব্রীজ”। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ঈদগাঁও জালালাবাদ ও পোকখালী ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ। ভোগান্তিতে পড়েছে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রীজের নীচ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে একদিনের বৃষ্টির পানিতে ব্রীজটি ভেঙ্গে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পাহাড়ী ঢলে বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই ইউনিয়নের সাথে ঈদগাঁও থানার যোগাযোগ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ক্রয় বিক্রয় বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছে তারা।

তাদের দেয়া তথ্য মতে, স্থানীয় জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দুই ভাই নদীতে নৌকা দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে আসছে। অতিমাত্রায় বালি উত্তোলনের ফলে ব্রীজের স্প্যান দুর্বল হয়ে পড়ে। যারফলে পাহাড়ী ঢলেই ভেঙ্গে পড়ে ব্রীজটি। জনগণের স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান ওসমান সরওয়ার ডিপু বলেন, আমাদের পরিষদ চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান রাশেদের নেতৃত্বে তার দুই ভাই তারেক হাসান ও মোর্শেদ হাসান ব্রীজের নীচ থেকে নৌকা বসিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে ব্যবসা করেছেন। বর্ষার আগে পর্যন্ত বালি উত্তোলন করে। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকেও অবগত করার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যার ফলে ব্রীজের পিলার নড়বড় হয়ে পাহাড়ী ঢলে ভেঙ্গে গেছে।

তিনি বলেন, এ ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের বিশ হাজার মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় কৃষকের উৎপাদি কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়বে।

ইউপি সদস্য ডিপু বলেন, উপজেলা প্রশাসনকে বারবার অভিযোগ করার পরও অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যারফল ভোগ করবে স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় দশ বছর পূর্বে ঈদগাঁও নদীতে ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কৃর্তপক্ষের উদাসিনতা আর জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাইদের লোভের কারণে ব্রীজটি ভেঙ্গে যায়। এটি দ্রæত নির্মাণ করা না গেলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে পোকখালী ও জালালাবাদ ইউনিয়নের প্রায় বিশ হাজার মানুষ।
ঈদগাঁও জালালাবাদের ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল রাশেদ বলেন, ব্রীজ বিচ্ছন্নের খবর পেয়ে পরিদর্শনে গিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বালি উত্তোলনের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, কেউ এ ধরনের তথ্য প্রমাণ করতে পারলে কোটি টাকা পুরষ্কার দিবো।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, ব্রীজ ভাঙ্গার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প কর্মকর্তাকে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। যেহেতু এটি বড়প্রকল্প সেহেতু সিদ্ধান্তটা উপর থেকে আসতে হবে। আপাতত দুই ইউনিয়নের লোকজন যেন চলাফেরা করতে পারে সে জন্য বিকল্প কি করা যায় তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কেউ যদি অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে এ দূর্ঘটনা ঘটে তবে তাও খতিয়ে দেখা হবে।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102