শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

`পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের যেসব নির্দেশনা মানতে হবে’

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১
  • ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

করোন সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় সরকার সমগ্র দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেন। একই সাথে চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে কক্সবাজারে সকল পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনাও জারি করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। ১১ আগস্ট থেকে লকডাউন তুলে নেয়ায় দীর্ঘদিন পর আজ বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) থেকে খোলবে কক্সবাজারের পর্যটন স্পট ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এতে দীর্ঘদিন নিষ্প্রাণ থাকা কক্সবাজারের পর্যটন জোনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রেস্তোঁরা মালিক পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে, পর্যটন স্পটগুলো খোলে দিলেও বেশ কিছু শর্ত যোগ করে দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এসব নির্দেশনা না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব ম্যাজেঞ্জার গ্রুপে ‌‌‌‘করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কক্সবাজারে আগত পর্যটক, সৈকত কর্মী, হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিক/কর্মীদের জন্য নির্দেশিকা সম্বলিত পৃথক দুটি লিপলেট আপলোড করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান। যেখানে পর্যটক, সৈকত কর্মী, হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিক/কর্মীদের জন্য সুনির্দ্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে।

কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের জন্য নির্দেশিকা:
শারীরিক অসুস্থতা অবস্থায় কসবাজার ভ্রমণ করা যাবে না। কক্সবাজার পৌঁছে হোটেলে উঠে প্রথমে গোসল করে নিতে হবে। সরকার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে, তাই হোটেল বা সমুদ্র সৈকত যেখানেই থাকুন না কেন মাস্ক পড়ে থাকতে হবে। রেস্টুরেন্ট যথাসম্ভব পরিহার করে হোটেলের রুমে খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যাতায়াত হোটেল, বীচ এলাকার কাছাকাছি দোকানসমূহ সীমাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি বাজার কিংবা কোলাহলপূর্ণ স্থানে যাতায়াত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পর্যটকরা রুমেই নামাজ প্রার্থনা করবেন, অপরিচিত কারো সাথে একই অটোরিক্সা, সিএনজি প্রভৃতি ছোটযান ব্যবহার করবেন না। পর্যটকদের জন্য হোটেল জিমনেসিয়াম বা স্পা ইত্যাদি ব্যবহার বন্ধ থাকবে।

হোটেল মালিক কর্মচারীদের জন্য নির্দেশিকা:
হোটেলে প্রবেশমুখে বেসিন, জীবানুনাশক ট্রে, তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা রাখতে হবে, লবিসহ সকল রুমে হ্যান্ডস্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে, রুমের প্রতিটি একজন পর্যটক (স্বামী-স্ত্রী শিশুর ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিলযোগ্য) বেশি থাকতে পারবে না, এক রুম দ্বিতীয়বার ভাড়া দেয়ার মধ্যবর্তী সময়ে ন্যূনতম তিনদিন, হোটেলের রেস্টুরেন্টে তিনফুট দূরত্বে বসে খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে, বোর্ডারদের রুমে খাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে, শেপ/ওয়েটারদের সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মানা বাধ্যতামূলক করতে হবে, বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশমালা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে, হোটেল কর্মচারীদের নিয়মিত করোনা টেস্ট করতে হবে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত হোটেলে জিমনেশিয়াম স্পা ইত্যাদি সুবিধা বন্ধ রাখতে হবে, পর্যটকদের রেজিস্টার পরিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন ও সংরক্ষণ করতে হবে এবং পর্যটকদের প্রতিপালনীয় কর্তব্য সম্পর্কে লিফলেট ব্রিফিং প্রত্যেক পর্যটককে হোটেলে ওঠার সাথে সাথে প্রদান করতে হবে।

রেস্টুরেন্ট মালিক কর্মচারীদের নির্দেশিকা:
রেস্টুরেন্টে প্রবেশমুখে বেসিন, জীবাণুনাশক ট্রে, তাপমাত্রা পরিবার ব্যবস্থা রাখতে হবে, চেয়ার-টেবিল পর্যাপ্ত দ্রুত রাখতে হবে, ন্যূনতম তিন ফুট দূরত্বে বসে খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে, শেপ/ওয়েটারদের সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বীজ মার্কেট এর নির্দেশিকা:
হকার মার্কেটগুলো একই দিনে পাশাপাশি দুটি দোকান খোলা রাখা যাবে না, পর্যটকদের বিভিন্ন পণ্য হাতে ধরে দেখা নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং পণ্য নিয়মিত বিরতিতে স্যানিটাইজার স্যানিটাইজার করতে হবে, প্রত্যেক দোকানে অবশ্যই ময়লা ফেলার বিন/ঝুঁড়ি থাকতে হবে।

বীচবাইক, জেডস্কিন, কিটকট, প্যারাসাইকেলিং এবং পর্যটন স্পটের জন্য নির্দেশিকা:
ড্রাইভারকে অবশ্যই পিপিপি পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে, একই সাথে একজনের বেশি কোন রাইডে চড়া যাবে না, রাইডে প্রতিবার যাত্রী চড়া শেষে ব্লিচিং পানি বা অন্যান্য জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে, কিটকটগুলো ন্যূনতম তিন ফুট দূরত্বে রাখতে হবে, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ যাবতীয় জীবাণুনাশক সামগ্রীর ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং প্রতি পর্যটক ব্যবহারের শেষে সেগুলো স্যানিটাইজ করতে হবে, পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য পৃথক দিন/সময় বরাদ্দ রাখতে হবে। একই দিন/সময়ে পর্যটক এবং স্থানীয়রা পর্যটন স্পটগুলো ভ্রমণ করতে পারবেন না।

জেলা প্রশাসনের জারিকৃত নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ হলে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সাথে অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগের জন্য ০১৭৩৩৩৭ ৩১২৭ নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102