শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

পরিচয় জেনে যাওয়ায় খুন করা হয় কলেজ ছাত্র নুরুল হুদাকে !

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৬২ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল হাম্বারগুরা এলাকায় নির্মমভাবে খুন হন কলেজ ছাত্র নুরুল হুদা। ২৮ জুলাই রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হাতে নির্মমভাবে খুনের শিকার হন তিনি। হত্যাকান্ডের জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে আসামী সেলিম প্রকাশ ফাল্টু সেলিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ হত্যাকান্ডের রহস্য বের করতে সম্ভাব্য সবকিছু যাচাই বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমজাদুর রহমান।

তবে স্থানীয়দের দাবি, ছিনতাইকারীদের পরিচয় জেনে যাওয়ায় নুরুল হুদাকে খুন করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গেল ২৮ জুলাই রাত এগারোটার দিকে নিহত নুরুল হুদা তার চাচা আজিজ উদ্দিনের টমটম গ্যারেজের হিসেব নিকেশ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। খুরুশকুল দক্ষিণ ডেইল পাড়া যাওযার পথে হাম্বারগুরা নামক স্থানে পৌঁছলে অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত নুরুল হুদার পথ গতিরোধ করে তাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে নির্মমভাবে খুন করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মনিউল হক বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (যার মামলা নং ৫২/৪৭৮। তারিখ ৩০/০৭/২০২১)। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নুরুল হুদাকে বহন করা টমটম চালক সাইফুল স্বাক্ষী হিসেবে ও অভিযুক্ত আসামী সেলিম প্রকাশ ফাল্টু সেলিম আদালতে পৃথক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের দেয়া জবানবন্দি নিয়ে খুনের রহস্য বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

জবানবন্দিতে যা বলা আছেঃ
খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী টমটম চালক আবু ছৈয়দ প্রকাশ সাইফুল কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, রাত অনুমান সাড়ে এগারোটার দিকে টমটমে করে নুরুল হুদাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হাম্বারগুরা নামক স্থানে পৌঁছলে আগে থেকে উৎপেতে থাকা সেলিম প্রকাশ ফাল্টু সেলিম হাত তুলে গাড়ি থামানোর সংকেত দিলে আমি গাড়ি থামায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই মুখোশ পড়া আরো দুইজন গাড়িতে উঠে পড়ে। সেলিম ও মুখোশ পড়া একজন নুরুল হুদার সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করে। আমি ভয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মুখোশ পড়া আরেকজন আমাকে কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখে। তিনজন মিলে নুরুল হুদাকে মারধর করার এক পর্যায়ে আমি পালিয়ে গিয়ে লোকজনকে খবর দিই। পরে লোকজন এসে নুরুল হুদাকে পাশের ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেলিমকে আগে থেকে চেনার কথা বলেন সাইফুল।

টমটম চালকের জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে গ্রেফতার করা হয় সেলিম প্রকাশ ফাল্টু সেলিমকে। সেও আদালতে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে অভিযুক্ত সেলিম বলেন, তার সহযোগী শাহেদ স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুলের সাথে ব্যবসা সংক্রান্ত হিসাব করতে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। রাত অনুমান সাড়ে এগারোটার দিকে সেখান থেকে বের হয়ে হাম্বারগুরা নামক স্থানে রাস্তার উপর দাড়ায়। রাত বারোটার দিকে আসা একটি টমটমকে থামার সংকেত দিলে চালক ভয়ে পালিয়ে যায়। এখলাছ নামে আরেক সহযোগী গাড়িতে থাকা নুরুল হুদার গলা টিপে ধরে। উভয়ের ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তারা পাশের ধান ক্ষেতে পড়ে যায়। এক সময় নুরুল হুদা ‘হুক’ শব্দ করে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

অপরাধীর তালিকায় সেলিম, এখলাছ, শাহেদ..?
মামলায় গ্রেফতার হওয়া সেলিম প্রকাশ ফাল্টু সেলিম, শাহেদ এবং এখলাছ (পলাতক) এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী। তারা সমাজে চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত। এরই মধ্যে শাহেদের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধডজন মামলা রয়েছে। খুরুশকুলে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, জমি দখল, পাহাড়কাটা, অবৈধভাবে বালি উত্তোলনসহ প্রায় সব ধরনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমনটাই জানিয়েছেন বিক্ষোব্ধ এলাকাবাসি।

খুনের নেপথ্যঃ
নিহত নুরুল হুদা তার চাচা আজিজ উদ্দিনের টমটম গ্যারেজে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। গ্যারেজ থেকে রাতে দেরিতে বাড়ি ফেরার বিষয়টি জানতেন অভিযুক্ত সেলিম, শাহেদ ও এখলাছ গং। ঘটনার দিন গ্যারেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নুরুল হুদাকে ছিনতাই করেন তারা। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীদের চিনে ফেলেন নিহত নুরুল হুদা। ফলে নিজেদের সম্পৃক্ততা আড়াল করতে নির্মমভাবে খুন করা হয় তাকে। এমনটাই মনে করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মতে, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা নুরুল হুদাকে বহন করা টমটম গাড়ির গতিরোধ করে। ছিনতাই করা কালে অভিযুক্তদের পরিচয় জেনে যাওয়ায় হয়তো তারা হত্যার মতো জঘন্য ও ঘৃণিত কাজটি করেছেন।

নিহতের চাচা আজিজ উদ্দিন বলেন, করোনাকালে কলেজ বন্ধ থাকায় নিহত নুরুর হুদা গ্যারেজের হিসেব নিকেশ দেখাশুনা করতো। আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুনের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমজাদুর রহমান বলেন, এটি নির্মম একটি হত্যাকান্ড। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তাই কোন মন্তব্য করতে চাইনা।

উল্লেখ্য, নিহত নুরুল হুদা খুরুশকুল মধ্যম ডেইলপাড়া এলাকার মনিউল হকের ছেলে ও রামু কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102