শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:২১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

নুরুল হুদা হত্যাকান্ড ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা ! প্রতিবেদন-২

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি।

 

খুরুশকুলে নুরুল হুদা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সন্দেহজনক সব তথ্য উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে আগাচ্ছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামীর আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দির সূত্র ধরে অন্য আসামীদের ধরতে কাজ করছে তারা।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমজাদুর রহমান বলেন, খুনের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যেমন জরুরী তেমনি ঘটনার সাথে জড়িত নেই এমন কেউ যেন মামলায় জড়িয়ে না পড়ে সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রেখে কাজ করছে তারা।

এদিকে কলেজ ছাত্র নুরুল হুদা হত্যাকান্ড নিয়ে নির্বাক এলাকাবাসি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনও করেছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা নুরুল হুদা হত্যাকান্ডে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি এ মামলায় যেন নিরাপরাধ কাউকে আসামী করা না হয় সেদিকটাও মাথায় রাখতে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

এদিকে নুরুল হুদা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আসামী শাহেদের একটি কথোপকথনের অডিওর সূত্র ধরে মামলার বাদী পক্ষ ‘ফয়সাল’ নামে এক যুবককে আসামী করতে আদালতে একটি পিটিশন দিয়েছেন। যেখানে হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে ফয়সালকে দায়ি করেছেন তারা। তবে, ফোনের অডিও নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কেন কি কারণে ফোনে ফয়সালের কথা বলেছেন তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেকের ধারণা মামলা তদন্তে বিভ্রান্ত করা এবং নিজের অপরাধ আড়াল করার পাশাপাশি মামলাটি ভিন্নদিকে প্রভাবিত করতে এমন কথা বলে থাকতে পারেন।

ফয়সালের পরিবারের দাবি, নিহত নুরুল হুদার পরিবারের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে শাহেদের। এ সম্পর্ককে পুঁজি করে ফয়সালের প্রতিপক্ষরা শাহেদকে দিয়ে এমন অডিও রেকর্ড করেছেন। তাদের দাবি শত্রুতাবশত ফয়সালকে ফাঁসাতে এটি একটি পরিকল্পিত ফোনালাপ।

আর বাদী পক্ষের দাবি ফয়সালের স্ত্রীর সাথে নিহত নুরুল হুদার প্রেমের সম্পর্কের কারণে ফয়সালকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

শাহেদের কথোপকথনের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে প্রতিবেদক। সংগ্রহ করা হয় ফয়সালের মোবাইল ফোনের যোগাযোগের তথ্যও। তবে খুনের আগে বা পরে ফয়সালের মোবাইল ফোন থেকে শাহেদের সাথে কথা বলেছেন এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন: পরিচয় জেনে যাওয়ায় খুন করা হয় কলেজ ছাত্র নুরুল হুদাকে !

অডিওতে পুলিশের হাতে আটক শাহেদ নিহতের চাচা আজিজ উদ্দিনকে ফোন করে বলেন যে, জনৈক ফয়সালকে আটক করলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। মেয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে ফয়সাল তাদেরকে (শাহেদসহ অন্যান্যরা) ভাড়া করেছে। কিন্তু হত্যাকান্ডের আগে বা পরে ফয়সালের সাথে শাহেদের কথা হয়েছে এমন কোন সত্যতা না পাওয়ায় বিষয়টি আরো রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে আসামী গ্রেফতার হওয়া এমন কথা বলার কারণ কি হতে পারে! তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অডিও এর বিষয়ে জানতে বুধবার (৬ অক্টোবর) কারাগারে শাহেদের সাথে কথা বলেন প্রতিবেদক। শাহেদ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি কখনো কাউকে ফোন করে বলেননি যে ফয়সাল নামের কোন যুবক নুরুল হুদা হত্যার ঘটনায় জড়িত। সে কথোপকথনও তার নয়।

যে কারণে ফয়সালকে সন্দেহঃ
স্কুলে পড়ালেখা অবস্থায় এক মেয়ের সাথে প্রেমে জড়ান নুরুল হুদা। তার বন্ধুরা জানিয়েছেন, যে মেয়েটির সাথে নুরুল হুদার প্রেমের সম্পর্ক ছিল তা দুই বছর আগে শেষ হয়েছে। এখন তাদের মাঝে কোন সম্পর্ক নেই। পরে ফয়সাল নামে এক যুবক মেয়েটিকে বিয়ে করেন। তবে এ নিয়ে ফয়সালের সাথে নুরুল হুদার তর্কবিতর্ক কিংবা উশৃংখল কোন ঘটনাও ঘটেনি। যার কারণে নুরুল হুদাকে খুন করতে চাইবে। মূলত এটি অপরিকল্পিত ঘটনা। হয়তো ছিনতাইয়ের সময় সবাইকে চিনতে পারায় তাকে খুন করেছে।

বাদী পরিবারের দাবিঃ
নিহতের চাচা আজিজ উদ্দিন বলেন, আমার মালিকানাধীন টমটম গ্যারেজ দেখাশোনা করতে নুরুল হুদা। সেদিনও হিসেব নিকেশ করে বাড়ি ফিরতে রাত প্রায় এগারোটা বাজে। পথিমধ্যে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। খুনের সাথে জড়িত শাহেদ ফোন করে যখন বলেছে ফয়সালকে ধরলে আসল ঘটনা বের হবে, তখনই তাকে আসামী করতে আদালতে আবেদন করেছি। এর আগে ফয়সাল আমাদের সন্দেহের তালিকায়ও ছিল না। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

ফোনালাপ নিয়ে ফয়সালের পরিবারের দাবিঃ
ফয়সালের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকরা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগেই শাহেদকে রক্ষা করার শর্তে ও তদন্তে বিভ্রান্ত করতে ফয়সালের নাম বলতে বলেন। হয়তো এ কারণে শাহেদ নিহত নুরুল হুদার চাচা আজিজ উদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা শামীমকে ফোন করে কাল্পনিকভাবে ফয়সালের নাম বলেছেন। অথচ শাহেদ নিজে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়নি। আর সেলিম যে জবানবন্দি দিয়েছেন সেখানে তিন জনের নাম বলেছেন। একইভাবে প্রধান ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে টমটম চালক সাইফুলও তিনজনের কথা বলেছেন। যেখানে ফয়সালের সম্পৃক্ততার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সম্পূর্ণ প্রতিহিংসা থেকে ফয়সালকে ঘায়েল করতে কাপুরুষিত হত্যাকান্ডে জড়ানোর অপচেষ্টা করছে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ঘটনার মোটিভ আর আসামীর দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পড়ে যা মনে হলো এটি মূলত অপরিকল্পিত হত্যাকান্ড। পরিচয় জেনে যাওয়ায় ছিনতাইকারীরা তাকে খুন করে পালিয়ে যায়। এর বাইরে আর কোন যুক্তি থাকে না।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমজাদুর রহমান বলেন, মামলাটি যেহেতু হত্যাকন্ড সেহেতু কোন একটি তথ্যের উপর আমরা নির্ভর করছি না। সব তথ্যই যাচাই বাছাই করছি। কেউ একজন ফোনে কি বললো সেটি দিয়ে সত্যতা প্রকাশ পায় না। এর জন্য অধিকতর তদন্ত প্রয়োজন। ফোন কলটিও আমরা তদন্ত করে দেখবো। সম্ভাব্য সবকিছুই অনুসন্ধান করেই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। এখনো যেহেতু মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে, সেহেতু কোন কিছুই মন্তব্য করা যাবে না।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102