শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

ছাত্রলীগ কর্মীদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে কি ? শুভ জন্মদিন আপা

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

সময়টা ২০১১ সাল। আমি তখন কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছি। ২৮ সেপ্টেম্বর জাতির পিতার কন্যা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিন ছিল। প্রতিদিনের মতো সকালটা রোদ্র উজ্জল ছিল। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে জ্ঞান পিপাসুদের পদাভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। কেউ ক্লাসে কেউ বা বন্ধুদের সাথে আড্ডায়। আর আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আদর্শি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীরা তারা প্রিয় নেত্রীর জন্মদিন পালন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

জন্মদিনের কেক নিয়ে বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে আমরা প্রশাসনিক ভবনের ১১২ নাম্বার রুমে প্রবেশ করি। প্রায় দুই যুগ ধরে মেধা বিকাশের ক্যাম্পাসকে সাম্প্রদায়িকতার চার্চ কেন্দ্র করে রেখেছিল সাম্প্রদায়িক অপশক্তির গর্ভে জন্ম নেয়া শিবির। তারা এতটাই বেপরোয়া আর ক্যাডার নির্ভর ছিল যে ছাত্রলীগ কর্মী নাম শোনলেই হামলা করতো বা করতে চাইতো। এমন কি ছাত্রলীগের কোন কর্মী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে হুমকি ধমকির সম্মুখিন হতো। বলতে গেলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ‘শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতি’ চর্চা আমাদের জন্য কঠিন ছিল। আমাদেরই অনেক কর্মী শিবিরের ভয়ে আমাদের সাথে দেখা করতে চাইতো না। মিছিলের কত সারথি মিছিল ছেড়ে পালিয়েছে তার হিসেবেও রয়েছে। শুধু ছাত্রলীগ নয়, প্রগতিশীল যে কোন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভয়ে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতো। মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির কথা বলতে গিয়ে কতবার যে হুমকি ধমকি পেয়েছি তার হিসেব নেই। হামলার শিকার হয়েছেন অনেক কর্মী। দল ক্ষমতায় আর আমাদের চলতে হয়েছে স্রোতের বিপরীতে। কিন্তু একটি বারের জন্যও সাহস ছাড়েনি নামেমাত্র থাকা সাহসী কর্মীরা। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে হাজার হাজার কর্মী আমরা দেখি সেদিন কিন্তু তেমনটা ছিল না। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে সেদিন যারা ছিল মুজিব আদর্শে বলিয়ান তারা ঐক্যবদ্ধ ছিল। তারা হুমকি উপেক্ষা করে জীবন রেখেছে বাজি। কখনো আপোষ করেনি। তাদের ইস্পাত কঠিন মনোবল আর দৃঢ়তায় প্রিয় ক্যাম্পাসটি আজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পতকা পতপত উড়ছে।

বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে আমরা প্রশাসনিক ভবনের ১১২ নাম্বার রুমে অবস্থান করি। ১২টার দিকে কেক কাটার ‍পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি মিছিল বের করি। কলেজ কমিটির আহবায়ক হিল্লোল দাশ, যুগ্ন-আহবায়ক ওয়াহিদুর রহমান রুবেল, মো: রিয়াদ, আব্দুল করিমের নেতৃত্বে মিছিলটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন বিভাগ প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় ইফতেখাইরুল আলম সাহেল, ওয়াজেদ আলী মুরাদ, ইমরুল হাসান রাশেদ, আব্দুল্লাহ, মোবারেক হোসেন বারেক, হালিমুর রশিদ, নুরুল আমিন, আব্দু শুক্কুর, তারেক আরমানসহ অন্যরা (অনেকের নাম মনে পড়ছে না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে নাম ঠিক করে দিবেন। প্রাণের ক্যাম্পাসের সে সময়ের ছাত্রলীগের সকল কর্মীরা) শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করেছিল পুরো ক্যাম্পাস। হালিমুর রহমান আর আব্দুল্লাহ কেক পাহারায় ছিল। মিছিল যখন শহীদ মিনারের সামনে আসে তখন হালিম আর আব্দুল্লাহ দৌড়ে এসে জানায় যে, শিবিরের ছেলেরা প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের কেক ফেলে দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আমরা কয়েকজন শিবির কর্মীকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করি। যেখানে ১২ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। অজ্ঞাত রয়েছে আরো ১০/১৫ জন। সে সময় শিবিরের আতুর ঘর হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার সরকারি কলেজে আমরা জানান দিই এ ক্যাম্পাসে মুজিব আদর্শের পাতাক উড়বে। আজ ১০টি বছর পার হলো কিন্তু মামলার অগ্রগতি হলোনা। আমি শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করছি প্রয়াত এ্যাডভোকেট মোস্তাহিজুর রহমান ওয়াকারকে। যিনি না হলে সে সময়ে মামলাটি অঙ্কুরে ধ্বংস হয়ে যেত। এরপর থেকে কেউ আর খবর রাখেনি। অথচ সবাই সরকারের সুবিধা নিয়ে কামিয়েছেন নাম, অর্থবিত্ত। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে বিদ্যুৎ গতিতে। আর শিবির করা ছেলেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায় নিয়েছেন জামায়াত। অবশ্য এখানে উল্লেখ থাকে যে শিবিরের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে যেমন আইনী লড়াইয়ে অংশ নেন নি তেমনি মামলা থেকে রেহাই দিতে থানায় তদবির করেছেন অনেকে। অনেকে আবার সরাসরি শিবিরের ছেলেদের রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন। এক্ষেত্রে দলে অনুপ্রবেশকারী ও সে সময়ের সাবেক ছাত্রলীগের কয়েকজন বড়ভাই।

যাই হউক..। ঐ ঘটনার পরেও আওয়ামী লীগ দুইবার ক্ষমতায় এসেছে। হু হু করে নেতাদের বেড়েছে সম্পদের পরিমাণ। ভাগ্যের চাকা ঘুরেই চলছে। কিন্তু সেদিনের সে কর্মীদের কেউ আর খবর রাখেনি। বয়স শেষ করে সরকারি চাকুরির স্বপ্ন বেলুয়াড়ি চুরির মতো ভেঙ্গে খানখান হয়েছে। বাবা মায়ের কাছে অবাধ্য সন্তান হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। আর যারা চাকুরির জন্য নেতাদের কাছে গিয়েছে তারাও টাকা ছাড়া চাকুরি পায়নি। জামায়াত বিএনপির ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাকুরি দিয়েছেন। আর হতাশায় অনিশ্চিত জীবনে পা বাড়িয়েছেন আমার প্রাণের সংগঠনের কর্মী ভাইরা। কত রাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন, কত বেলা যে খাবার জুটেনি তার। খেয়ে না খেয়ে সকালে শ্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়েছে আবারো। রোদ্রে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নেতার মনোমুগ্ধকর বক্তব্য শোনে শুণ্য হাতে নিরালয়ে ফিরেছেন এ খবর কেউ রাখেনি। একটুও হতাশা তাকে স্পর্ষ করেনি। হয়তো সবার অগোচরে এক টুকরো বেদনার হাসি হেসে ব্যর্থতা মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা করেন।

দলকে ক্ষমতায় নিতে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়েছে তারাই আজ নিগৃহীত, অবহেলিত, বঞ্চিত। এদের কখনো ভাগ্য পরিবর্তন হয়না। হবে বলেও মনে হয়না। দলের এসব কর্মীরা জন্য কি কেউ ভাবেন ? স্বার্থহীনভাবে দলের প্রেমে আসক্ত এসব কর্মীদেরও ভবিষ্যৎ রয়েছে ? এদেরও পিতামাতা রয়েছে ? এদেরও সুন্দর একটি স্বপ্ন রয়েছে ? তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে কি ? হয়তো এখন তাদের জন্য কারো মন কাঁন্দে না। উল্টো নেতাদের কথিত গ্রুপিং রাজনীতির শিকার হতে হয় তাদের। পেশি শক্তি, টাকা আর তোষামোদের কারণে রাজনীতিটাও আর ভাল মতো করে উঠতে পারেনা। অনেকে এটাকে নিয়তি বলে মেনে নেন। তবে সবচেয়ে দু:খজনক যে শিক্ষা, শান্তি আর প্রগতির শ্লোগান দিতে গিয়ে যেসব শিবির কর্মী ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর হামলা করেছিল সে শিবির কর্মীরা এখন সরকারি চাকুরি করেন। নেতাদের (সবাই নয়) পিএস এপিএসের ভূমিকা পালন করেন। নেতারা তাদের কথায় নিজ দলের কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা টুকে দেন।

দেখতে দেখতে আজ দশটি বছর কেটে গেল। অথচ সে মামলার খবর কেউ রাখে না। সরকারের নিয়োগ প্রাপ্ত পিপি, এপিপি, দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক কেউ এর খোঁজ রাখে না। নেতাদের আচার আচরণ দেখলে মনে হয় আওয়ামী লীগ তাদের পৌত্রিক সম্পত্তি।

আমার মনে হয়, দু:সময়ের কর্মীদের নিয়ে প্রিয় সংগঠনকে সাজিয়ে নিতে হবে। সকল ভেদাভেদ ভুলে এক মঞ্চে আসতে হবে। এখানে উত্থান যেমন রয়েছে পতনও তেমন রয়েছে। চোখের সামনে অনেকের পতন দেখেছি। আপনাদের এমন কিছু হউক তেমনটা প্রত্যাশা করি না।

সর্বশেষ প্রিয় নেত্রী, আপার জন্মদিনের শুভেচ্ছ। এ জাতির প্রয়োজনে বেঁচে থাকুন হাজার বছর। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102