শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

ওয়াহিদ রুবেল:
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

 

 

কাগজে কলমে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের মালিকানা বুতিজা বেগম। কিন্তু বাস্তবে ঘরটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই আলমগীর মোহাম্মদ সেলিমের দখলে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেতে মাহফুজা বেগম নামে আরেক নারীকে গুনতে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর প্রদানে অনিয়ম আর দুর্নীতি করেছেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম। শুধু বুতিজা কিংবা মাহফুজা নন, উপকারভোগীর তালিকায় রয়েছেন প্রবাসি, ব্যবসায়ী ও চেয়ারম্যানের অনুসারিদের নাম। সম্প্রতি চেয়ারম্যানের অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচার হলে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তি রায়কে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য উপাত্থ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানা যায়।

তবে বিষয়টি তদন্তাধিন থাকায় এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তি রায়।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, গৃহহীন থাকবে না একটিও পরিবার’ এমন ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করতে গৃহ প্রদান নীতিমালা ২০২০’ প্রণয়ন করেন। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল, অসহায় দরিদ্র পরিবার এবং যাদের ১০ শতাংশ জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন পরিবার এ কর্মসূচীর আওতায় থাকবে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী প্রথম পর্যায়ে সারাদেশে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের হাতে জমিসহ ঘরের দলিল তুলে দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এমন মহৎ উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রবাসি, ধনাঢ্য ব্যক্তি, নিকট আত্মীয় এবং প্রবাসিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এসব উপহার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়ার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তার অনিয়মের খবর প্রচার পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তি রায় কমিটির অন্যন্য সদস্যদের নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।

ভাইয়ের অনিয়মের কথা স্বীকার করে চেয়ারম্যানের ভাই মিজবাহ উদ্দিন বলেন, অসহায় ভুতিজা বেগমের নামে বরাদ্দকৃত প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ভাইকে দেয়ায় আমরা লজ্জিত। এতে আমার ভাইয়ের (চেয়ারম্যান) সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। এছাড়া ঘর দেয়ার কথা বলে মাহফুজা বেগম নামে অসহায় নারীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়টিও বিব্রতকর। আমি এ অনিয়মের সঠিক তদন্ত দাবি করছি।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, উজানটিয়া নবীর পাড়া ৭নং ওয়ার্ডের মৃত গোলাম ছোবাহানের স্ত্রী বুতিজা বেগমকে যে ঘর দেয়ার কথা ছিল তা ২৯১ খতিয়ানের ৩৪৫৭ দাগে নির্মাণ না করে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম তার পৈতৃকভাবে পাওয়া ২৯১ খতিয়ানের ৩৪১৬ দাগে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া হয়েছে। অথচ তার নিজের নামেই রয়েছে কয়েক ’শ শতকের বেশি জমি। ৮ নং ওয়ার্ডের আলী আহম্মদের প্রবাসি ছেলে আমির উদ্দিন, ৪ নং ওয়ার্ডের বাহদুর আলমের ছেলে লবন ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান, মৃত রমজান আলীর সৌদি প্রবাসি বকুল আহম্মদ, লেদু মিয়ার ছেলে লবন ও চিংড়ি ব্যবসায়ী আমান উল্লাহকেও এ ঘর দেয়া হয়েছে। এরা সবাই চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর অর্থ যোগানদাতা ও অনুসারি বলে জানিয়েছেন তারা। তথ্য গোপন করে ঘর বরাদ্দের কমিটিকে ভুল তথ্য দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন বলেও দাবি করেছেন তারা। ফলে প্রকৃত গৃহহীন মানুষ প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ভুক্তভোগী মাহফুজা বলেন, সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের ৫০ হাজার টাকা চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিনামূল্যের উপহার নিতে হয়েছে।

উজানটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল করিম বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হলেও প্রবাসী আর ব্যবসায়ীদের ঘর দেয়াটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না। বারবার অভিযোগ করার পরও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তা সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে আমরা সন্দেহের মধ্যে রয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সবকিছুই অস্বীকার করে বলেন, ঘরটি বুতিজা বেগমের পরিবারের কাছেই রয়েছে। তার মৃত্যুর পর ঘরটি আমি ভাড়া নিয়েছি। মূলত নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এসব ঘর বরাদ্ধে উপজেলা ভিত্তিক একটি কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে কমিটি প্রধান হিসেবে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। মাঠ পর্যায়ে চেয়ারম্যান তালিকা করে তা কমিটিতে প্রস্তাব করার পর উপকারভোগী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

এদিকে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার কক্সবাজারের উপ-পরিচালক শ্রাবস্তি রায় বলেন, নির্বাচনকালীন সময় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে কোন বক্তব্য না দিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। তাছাড়া তদন্তাধীন বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্যও করা যাবে না বলেও জানান তিনি।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102