মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

‘চাঁদা না পেয়ে মামলা’ মহেশখালীতে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ............

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

চাহিদা মতো চাঁদা না দেয়ায় ভূঁমি মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকার মাহমুদুল হক নামে এক ব্যাক্তি। তিনি কক্সবাজার এলএ শাখা কেন্দ্রিক দালাল চক্রের সদস্য বলে জানা যায়। এতে চরম হয়রানী ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের। সার্টিফিকেট মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা।

এ অবস্থায় মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তভূগী পরিবারের সদস্যরা।

ভূমি মালিকদের অভিযোগ, মাহমুদুল হক নিজেকে ভূমির মালিক দাবি করে তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় হয়রানি করতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

মাহমুদুল হক মাতারবাড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের উত্তর মিয়াজি পাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক আব্দু রহমান বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মাতারবাড়ি এলাকায় আমাদের দখলীয় ও খতিয়ানের জমিও অধিগ্রহণ করে। এতে তথ্য যাচাই-বাছাই করে এলএ শাখা হতে আমাদের চেক প্রদান করেন। কিন্তু স্থানীয় ইদ্রিসের পরিবার জমির অংশিদার দাবি করে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তৎকালিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী আব্দুর রহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষ করে একটি রায় দেন। উক্ত রায়ের ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে অধিগ্রহণের টাকা আমাদের দিতে আর কোন বাঁধা রইলো না। কিন্তু গত ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর জনৈক মাহমুদুল হক কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যার নং ২৩/১৯।
মামলায় আমাকেসহ কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয় সদ্য বদলি হওয়া ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আবু আসলাম, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেবতোষ চক্রবর্তীকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু কি কারণে, কিসের ভিত্তিতে তিনি মামলাটি করেছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। কারণ তিনি জমির মালিক নন। কিংবা আমাদের সাথে তার কোন লেনদেন নেই।

তাঁর দাবি মামলা করার আগে মাহমুদুল হক নামে ঐ ব্যাক্তি আমাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। কিন্তু টাকা না দেয়ায় হয়রানি করতে তিনি মামলাটি করেছেন।

এদিকে মামলার আরজিতে মাহমুদুল হক উল্লেখ করেছেন ১৯৮৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ৯১০৪ ও ৯১১১ কবলামূলে তার পিতা আবুল কাশেম ও চাচা আবুল হোছন দৌলত মিয়া গং হতে ১.৬০ একর জমির মালিক হন। এরআগে দৌলত মিয়াসহ ৪ জন ১৯৮০ সালের ২৬ জানুয়ারি মোহাম্মদ ইদ্রিস হতে রেজিঃযুক্ত ১৪৬ ও ১৪৮ নং কবলা মূলে ২.৪০ একর জমির মালিক ছিলেন। বর্তমানেও তারা দখলে আছে বলে আরজিতে দাবি করেছেন।

সরকার কয়লা বিদ্যুতের জন্য অধিগ্রহণ করায় টাকা উত্তোলন করতে গেলে তারা জানতে পারে আসামীরা পরষ্পর যোগসাজসে শতকরা ৪০% কমিশন নিয়ে টাকা উত্তোলন করেন।

মাহমুদুল হকের মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দু রহমান বলেন, ১৯৭৭ সালের ২৮ মে আর.এস খতিয়ান ৫৭৭ থেকে জনৈক ইদ্রিসকে ৬৪০ নং কবলা মূলে বন্দক দেন আবার ৬৪১ কবলা মূলে তা আবার ফেরত নেন। একই ব্যক্তিকে আবার একই খতিয়ানের ২৬ মে ১৯৭৭ সালে ৬৩১ নং কবলা মূলে বন্দক দেন এবং ৬৩৩ নং মূলে ফেরত নেন। সবকিছুর দালিলিক কাগজপত্র রয়েছে। এখানে ইদ্রিসের কোন স্বত্ত্ব নেই। সে যদি প্রতারণা করে কাউকে জমি বিক্রি করেন তাহলে আমাদের করার কিছুই নেই। মূল কথা হচ্ছে যেখানে ইদ্রিসের কোন স্বত্ত্ব নেই সেখানে মাহমুদুল হক কিভাবে জমির মালিক হন। কাগজপত্র না দেখে না জেনে মামলাটি করেছে মাহমুদুল হক। মূলত তার চাহিদা মতো টাকা না দেয়ায় হয়রানির জন্য এ মামলাটি দায়ের করেছেন।

জানতে চাইলে মাহমুদুল হক জানান, আমার বাবা জনৈক ইদ্রিসের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছিলেন। আজ পর্যন্ত আমরা ভোগ দখল করে আসছি। এখনো সেখানে আমার চাচারা চাষাবাদ করছে। তারপরও আব্দু রহমান গং অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে, তাই মামলা করেছি। আমরাই প্রকৃত জমির মালিক। আমার কাছে কাগজপত্র রয়েছে।

প্রমাণাদি কাগজপত্র নিয়ে প্রতিবেদকের সাথে দেখা করার কথা থাকলেও তিনি আসেন নি।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102