শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০২:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

কোটি টাকা নয়ছয়’র অভিযোগ কসক’ সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল করিম’র বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
  • ৬৯৩ বার পড়া হয়েছে

ছাত্র সংসদের নামে টাকা ব্যায়, নিয়মবহির্ভূত ইনকোর্স পরিক্ষার ফিস, একাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং বিধিবর্হিভূত একখাতের টাকা অন্যখাতে ব্যায়সহ প্রায় কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম ফজলুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে পেনশন মঞ্জুরিও বন্ধ রয়েছে তাঁর।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাঃপ্রাঃ) রূপক রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সম্পর্কে কক্সবাজার সরকারি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ কামরুল ইসলামকেও চিঠি দিয়ে অবগত করেছেন।

গত ১৮ মে, ফজলুল করিম চৌধুরীর (আইডি নং-০০২৬৫৫) আবেদনের সি-২/১১৮৫৮/২০২১ সূত্রের উপর গত ২২ জুন ৩৭.০২.০০০০.১০১.১৩.২১৭.২০২০-১১৩৮৩/২ স্বারকে পেনশন মঞ্জুরি বিষয়ে এসব অনিয়মের কথা তুলে ধরেন রূপক রায়।

সূত্রে জানা যায়, প্রফেসর এ.কে. এম. ফজলুল করিম চৌধুরী ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল কক্সবাজার সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কলেজে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাকুরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কলেজের প্রাক্তন এ অধ্যক্ষ পেনশন মঞ্জুরির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেন। কিন্তু বর্তমান অধ্যক্ষ কামরুল ইসলামের দাখিলকৃত তথ্য অনুযায়ী ২০১৩-২০১৪, ২০১৪-২০১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৮ আর্থিক বছরের হিসাবে নানা অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। যার ফলে তাঁর পেনশন মঞ্জুর করা হয়নি। এসব অনিস্পন্ন আপত্তিগুলো নিস্পন্ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রেরণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বিধিবহির্ভূত একখাতের টাকা অন্য খাতে খরচ করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৬ টাকা। একই বছর কলেজ বাসের লগবহি সংরক্ষণ না করায় জ্বালানি তেল বাবদ খরচ করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৮৪ হাজার ৭০৮ টাকা, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে নিরাপত্তা ও নৈশপ্রহরী কর্মচারীর অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকা কোষাগারে জমা না রাখাই রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ২৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৮০টাকা,২০১৫-১৬ অর্থবছরে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টাকা, একই অর্থ বছরে এক খাতের তহবিল হতে অন্যখাতে ব্যায় করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৫০২ টাকা, ২০১৬-২০১৮ অর্থ বছরে সেট অপ বহির্ভূত জবলের বেতন ভাতা প্রদানে অনিয়মভাবে ব্যায় হয়েছে ১১ লাখ ৮১ হাজার ১৪৭ টাকা, একই বছর অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন ছাড়া এক খাতের অর্থ অন্যখাতে ব্যায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮১২ টাকা, একই অর্থ বছরে সেসিনার ফি হতে আদায়কৃত ২০ ভাগ টাকা বই ক্রয়ে ব্যায় না করে অনিয়মভাবে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৭৫ টাকা, একই অর্থ বছরে বিভিন্ন পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের আদেশ ও উপস্থিতির হাজিরা ছাড়াই অনিয়মিতভাবে সম্মানী পরিষদের অনিয়মিত ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৪ টাকা, পরিপত্রের আদেশ লঙ্ঘন করে শিক্ষার্থীদের নিকট হতে ইনকোর্স ফি আদায় করেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯০০ টাকা এবং ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনিয়মভাবে খরচ করেছেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৪ টাকা।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক অধ্যক্ষ এ.কে.এম. ফজলুল করিম চৌধুরী বলেন, আমি কোন অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলাম না। কেউ যদি মিথ্যা অপপ্রচার করে তাহলে কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, অডিট আপত্তি থাকতে পারে। সেটি আবার সমাধানও হয়। এটিও হবে।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কামরুল আহসান বলেন, আপত্তি দুই ধরনের একটি ব্যক্তিগত অডিট আপত্তি আরেকটি প্রাতিষ্ঠানিক অডিট আপত্তি। এখানে সাবেক অধ্যক্ষ স্যারের বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক অডিট আপত্তি। তাই বিষয়টি আমাকে নিস্পত্তির জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি স্যারকে বলেছিলাম পিআরএল নিয়ে যারা কাজ করে তাদের মাধ্যমে কাজ শেষ করতে। কিন্তু স্যার সেটি না করে নিজেই করেছেন। ফলে সমস্যায় পড়েছেন। এখন এটি অডিট আপত্তিটি ডকুমেন্টধারী হয়েছে। মূলত স্যার হেনডেলিং করতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, স্যার আমাকে যে রকম কাগজ সংগ্রহ করেছেন, সেসব কাগজেই আমি স্বাক্ষর করেছি। তারপরও অনেকে আমাকে ভুল বুঝছেন।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102