বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

কলাতলীর ‘আলফা ওয়েব’র ফ্ল্যাটে বসে বিকাশ প্রতারণা করতো তারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ২১৪ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা পয়েন্টের আবাসিক হোটেল আলফা ওয়েব থেকে বিকাশ প্রতারক চক্রের দু’সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে চালানো অভিযানে হোটেলটির ৮ তলায় ফায়সালের ভাড়া নেয়া ফ্লাট থেকে ১৫টি বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল সেট, বিপুল সংখ্যক সীম এবং নগদ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আলী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার হাজী নগর এলাকার মৃত সরওয়ার হাওলাদারের ছেলে মো. হান্নান (৪৫), মাদারিপুর জেলার রাজৈর উপজেলার প্রমারচর এলাকার মৃত কিনাই মাতব্বরের ছেলে আজিজুল মাতব্বর (২০)।

কক্সবাজার জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আলী জানান, বিকাশ অফিস, জিনের বাদশা, রবি অফিসের অফার জেতার কথা বলে এবং চট্টগ্রামরে শিবির ক্যাডার নাসিরের জন্য টাকার কথা বলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নানা ভাবে হুমকি ও প্রতারণা করে কিছু অসাধু ব্যক্তি টাকা আদায় করছে এমন অভিযোগ পেয়ে মোবাইল ট্রেকিং করা হয়। তাদের কল করা একটি সীমের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা পয়েন্টের অভিজাত ‘আলফা ওয়বে’ আবাসিক ভবনের ৮ তলার ৮০৫ নাম্বার ইউনিটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে দু’প্রতারককে আটক ও ১৫ টি বিভিন্ন ব্রান্ডের মোবাইল সেট, বিপুল সংখ্যক সীম এবং নগদ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়।

ওসি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে বেডসিট ব্যবসায়ী হিসেবে তারা আবাসিক ভবন আলফা ওয়েব’র ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে অপরাধ কর্ম চালিয়ে আসছিল। এখানে চলতি মাসে উঠলেও তারা কক্সবাজার এসেছে ৪মাস আগে। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করে তাদের হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।

এদিকে, সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- আলফা ওয়েব আবাসিক ভবনটি ডেভলাপার দিয়ে তৈরী। এটির একেকটি ফ্ল্যাট একেকজন কিনে মালিক হন। সবফ্ল্যাট মালিক মিলে একজন ম্যানেজারের মাধ্যমে ভবনটি পরিচালনা করে আসছেন। দীর্ঘ অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে ম্যানেজার হিসেবে রয়েছেন রাসেল নামে এক যুবক। তিনিই বিভিন্ন ফ্ল্যাট মালিককে বাৎসরিক ভাড়াটিয়া যোগাড় করে দেন। আর দ্বিতীয় ভাড়াটিয়ার জন্য দৈনিক অতিথি বা মাসিক উপ-ভাড়াটিয়াও ম্যানেজ করেন রাসেল। তেমনি ভাবে ৮০৫ নাম্বার ফ্ল্যাটটি চলমান বাৎসরিক ভাড়াটিয়া হিসেবে ফয়সাল নামে এক ব্যক্তিকে দিয়েছেন তিনি। আর বিকাশ প্রতারণায় আটকদের উপ-ভাড়াটিয়া হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে তুলেন রাসেল। এসময় তাদের অভয় দেয়া হয় যেকোন ব্যবসা অবাধে করা যাবে। প্রশাসন ম্যানেজের দায়িত্ব তার। যদি কখনো শৃংখলাবাহিনী আটকও করে তার নাম ভূলেও মুখে নেয়া যাবে না। পরে তিনিই তাদের ছাড়িয়ে আনবেন।

স্থানীয়রা আরো জানায়, অনেক ফ্ল্যাটের মালিক মারা গেছেন। তাদের স্বজনরা সঠিক কাগজপত্র পাননি, এমন সব ফ্ল্যাট রাসেল দখলে নিয়ে নিজের মতো করে ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করেন। এসব ফ্ল্যাটে মাদকসহ অনৈতিক নানা কর্মকান্ড চালান উল্লেখ করে এক ফ্ল্যাট মালিক সদর থানায় গতবছর লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে। তবে, সেসময়ে পুলিশের সাথে রহস্যজনক সম্পর্কের সূত্র ধরে পার পান রাসেল।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে আলফা ওয়েব’র ম্যানেজার রাসেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। কল ফরোয়ার্ড থাকায় সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এসব বিষয়ে কক্সবাজার জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, অভিযানের পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আটককৃতদের নানা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা কোন মতেই তাদের সহযোগীদের নাম বলছে না। আমাদেরও সন্দেহ ভবনের ম্যানেজার, ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মালিক বা অন্য কারো সহযোগিতা ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ প্রতারণার এ কাজ ভিন্ন জেলার দু’যুবক করতে পারেন কল্পনা করা যায় না। আমরা তাদের চক্র বের করতে প্রয়োজনে রিমান্ড আবেদন করবো। এখন পর্যন্ত এটুকু শান্তনা, স্বল্প সময়ে অভিযানে দু’জন প্রতারক গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের সহযোগীরাও আইনের জালে আসবে আশা করছি।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102