মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র ইতিকথা..

কুতুব উদ্দিন
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২০
  • ২০৯ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র ট্রাস্টি বোর্ড এর বিবাদমান দ্বন্দ্ব নিয়ে কিছু মন্তব্য করবোনা বলে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যেহেতু আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছি তাই ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বান্দ্বিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা আমার নৈতিকতা বিরোধী বলে মনে করতাম। কিন্তু আজকে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে সুহৃদ সুগন্ধ নামে একজন ফেইসবুক ব্যবহারকারীর লেখা পড়ে লিখতে বাধ্য হলাম।

সুপ্রিয় কক্সবাজারবাসী আমি কুতুব উদ্দিন, সহকারী রেজিস্ট্রার, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। শুরু থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমি ওতপ্রতভাবে জড়িত আছি। আজ কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পিছনের কিছু সত্যঘটনা নিয়ে আপনাদের কাছে হাজির হয়েছি।
জনাব সুহৃদ সুগন্ধ

আপনি কে আমি চিনি না কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আপনার কিছু উদ্ধত ও মিথ্যা তথ্যের জবাব দিতেই আমার আজকের লেখা।

জনাব সুহৃদ সুগন্ধ
আপনি আপনার লেখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে কক্সবাজারবাসীকে এই বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দিয়েছেন সে কথাটি অস্বীকার করেছেন। যা আসলে মিথ্যা বানোয়াট, মনগড়া এবং সর্বোপরি আইনতদন্ডনীয় একটি ভুল তথ্য। কক্সবাজারের আপামর জনসাধারণ জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উখিয়ার এক বিশাল জনসভায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আপনি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করার আগেই আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র তথা ফাইল তৈরি করেছিলেন। হ্যা আপনার কথা সত্য, তবে সত্যের পেছনে লুকায়িত সত্য হচ্ছে আপনাদের তৈরিকৃত বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত ফাইলটি ছিল চট্রগ্রাম কেন্দ্রীক, আপনারা চট্রগ্রামের গুলজার টাওয়ারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস দেখিয়ে একটি ফাইল মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ে আপনাদের পরিচিত একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে যখন আপনারা জানতে পারলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্রগ্রামে নতুন করে কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি দিবেন না। তবে তিনি কক্সবাজারে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য মানসিকভাবে মনস্থির করেছেন। এই কথা শোনার পর আপনার ব্যথিত মনে ফিরে এসে আপনাদের নিকট আত্মীয় তৎকালীন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদ সিআইপি মহোদয়কে জানালেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় দেওয়ার জন্য মনস্থির করেছেন। জনাব সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি যেন একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তখন জনাব সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি তৎকালীন চট্রগ্রামের মেয়র ও চট্রগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি’র চেয়ারম্যান, চট্রগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মরহুম মহিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করেন। জনাব মহিউদ্দিন আহমদ চৌধুরী তৎকালীন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি’র ডেপুটি রেজিস্ট্রার এবং বর্তমান রেজিস্ট্রার জনাব খোরশেদ আলমকে নির্দেশ দেন তিনি যেন কক্সবাজারে একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি করতে জনাব সালাহ উদ্দিন আহমদ করে সহযোগীতা করেন( জনাব খোরশেদ আলম স্যার এর বক্তব্য অনুযায়ী।) জনাব খোরশেদ আলম তৎকালীন চট্রগ্রামের মেয়র মহোদয়ের অনুরোধক্রমে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র কাগজপত্র তৈরি করতে শুরু করেন।

যেহেতু জনাব সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি একজন ব্যবসায়ী এবং তৎসময়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইল তৈরিতে যথেষ্ট সময় দিতে না পারার কারণে এবং পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্মন্ন তাঁর আত্মীয় লায়ন মো. মুজিবুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি করতে জনাব খোরশেদ আলমের সাথে সংযুক্ত করে দেন। জনাব খোরশেদ আলম যাবতীয় কাগজপত্র সহ কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ফাইল তৈরি করে জনাব লায়ন মুজিবুর রহমানের হাতে দেন। যে ফাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন জনাব সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি। যথাযথ নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদিত ফাইল ইউজিসি হয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র ফাইল এবং আবেদনকারী তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদকের নাম দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য চুড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে উখিয়ার জনসভায় তা ঘোষণা করেন।

এখন কথা হচ্ছে আপনারা ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দ্বের কারণে কক্সবাজারবাসীর প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এত বড় একটা ভালোবাসার উপহারকে অস্বীকার করছেন। কিন্ত কেন? আপনারা তো চেয়েছিলেন চট্টগ্রামে একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনগ্রসর কক্সবাজারবাসীকে শিক্ষায় সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন সেটাকে কেন অস্বীকার করবেন? আপনাদের ট্রাস্টি বোর্ডের বিবাদ,দ্বন্দ্ব এসব আপনাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার অস্বীকার করা খুবই দুঃখজনক বিষয়।

এবার আসি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন নিয়ে কিছু কথায়। ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে একটি জনসভার মাধ্যমে নবনির্মিত শেখ কামাল স্টেডিয়াম ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি উদ্বোধন করবেন এই মর্মে প্রধানমন্ত্রী’র কার্যালয় হতে প্রেরিত একটি চিঠির অনুলিপি অফিসিয়ালি আমার কাছে আসে। আমি তা ট্রাস্টি বোর্ড এর সম্মানিত চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করি। এবং জেলা প্রশাসন ও ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমতিক্রমে একটি উদ্বোধনী ফলক ও তৈরি করি এবং তা শেখ কামাল স্টেডিয়ামের দেয়ালে স্থাপন করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের জন্য এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্যদের এবং আমার নিজের জন্য ডিএসবি পাস সংগ্রহ করি। কিন্তু উদ্বোধন এর আগেরদিন রাতে নানা ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে জানতে পারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুধু মাত্র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি এবং আমার নিজের ডিএসবি পাস ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যসকলের ডিএসবি পাস বাতিল করা হয়েছে। আমরা দু’জন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যকেউ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

সম্মানীতে সুহৃদ সুগন্ধ
এবার কি বুঝতে পেরেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আসলে কার উপহার দেওয়া। আপনাদের নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে আপনারা যখন কক্সবাজারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার বা আমানতকে অস্বীকার করেন তখন মনে খুব কষ্ট লাগে। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কক্সবাজারবাসীর। এটা আমাদের আগামী প্রজন্মের।নিজের স্বার্থিক দ্বন্দ্বের কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদের আগামী প্রজন্মকে হুমকির মুখে ঠেলে দিবেন না। এটাই আপনাদের কাছে আমাদের করজোড়ে মিনতি।।

কুতুব উদ্দিন
সহকারী রেজিস্টার
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102