বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

কক্সবাজারে ৮০ ভাগ জীববৈচিত্রের আবাসস্থল বিলিন! পরিবেশ আইন না মানায়...

ওয়াহিদ রুবেলঃ
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

‘১৯৯৯ সালে প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুসারে ১৩ টি এলাকাকে ইকোলজিকাল ক্রিটিকাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষণা করে সরকার। যেখানে কক্সবাজার জেলায় সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া এবং কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত রয়েছে।

এসব এলাকায় প্রাকৃতিক বন ও গাছ কর্তন বা আহরণ, সকল প্রকার শিকার ও বন্যপ্রাণী হত্যা, ঝিঁনুক, কোরাল, কচ্ছপ, অন্যন্য বন্যপ্রাণী ধরা বা সংগ্রহ, প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী সকল প্রকার কার্যকলাপ বন্ধ, ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট/পরিবর্তন করতে পারে এমন কাজ, মাটি, বায়ু, পানি এবং শব্দ দুষণকারী শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, মাছ এবং অন্যন্য জলজ প্রাণীর ক্ষতিকারক যে কোন প্রকার কার্যাবলি, নদী জলাশয়, লেক, জলাভূমিতে বসতবাড়ি, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং অন্যন্য প্রতিষ্ঠানের পয়ঃপ্রণালী সৃষ্টি বর্জ্য ও তরল বর্জ্য নির্গমন এবং কঠিন বর্জ্য অপসারণ এবং যাত্রিক বা ম্যানুয়াল বা অন্য কোন পদ্ধতি পাথরসহ খনিজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়।

অথচ সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা করে কক্সবাজারে সামুদ্রের শামুক-ঝিনুক আহরণ ও বিক্রি, সমুদ্র সৈকত দখল, পাহাড় কাটা, অবৈধ বালি উত্তোলন করে বেচা বিক্রি চলছে। জেলা জুড়ে চলছে নির্বিচারে পাহাড় কাটা।

পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রাখতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে সকল অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করতে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। অথচ এর কোনটাই আমলে নেয়নি কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

উল্টো পরিবেশ আইন ও উচ্চ আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত দোকানে বিক্রি হচ্ছে সমুদ্র থেকে আরোহীত শামুক-ঝিনুক।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সৈকতের লাবনি পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট এবং কলাতলি এবং প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব শামুক-ঝিনুক। আর উপকূলের জেলে পরিবার কিংবা এক শ্রেণীর অসাদু ব্যাক্তি শামুক ঝিনুক আহরণ করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। সর্বশেষ আগস্ট মাসে পাচারকালে ৩০ টন শামুক ঝিনুক উদ্ধার করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর জেলার সমুদ্র তীরের বিভিন্ন স্থান থেকে শামুক ঝিনুক সংগ্রহ করে থাকেন তারা। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শামুক ঝিনুকের গায়ে কারুকার্য, নকশা দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে বাজারজাত করা হয়।

তারা জানান, পর্যটন মৌসুমই তাদের ব্যবসার উপযুক্ত সময়। অতীতে পরিবেশ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসন কেউ এসব বিষয় নিয়ে কথা বলে নি। বরং ঝিনুকের পণ্য বিক্রির জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝিনুক মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি দলের কিছু নেতা, উচ্চ বিলাসি কথিত সুশীল সমাজের লোকজন এসব দোকান বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের কাছে শামুক-ঝিনুক সামগ্রীর চাহিদা প্রচুর। এ সময়ে তাদের ব্যবসাটা ভাল হয়।

তাদের দেয়া তথ্য মতে, নিষিদ্ধ থাকার পরও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা করে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ২৬৪টি এবং লাবণী পয়েন্টে ২০২টি ঝিনুকের দোকান অনুমোদন দিয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখায় নামে মাত্র রাজস্ব প্রদান করে দোকান অনুমতি দেয় প্রশাসন। এই পরিসংখ্যানের বাইরে আরও শতাধিক দোকান রয়েছে বলেও জানান তারা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩’শ দোকান অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তৎমধ্যে ৫’শতাধিক দোকানে শামুক-ঝিনুক বিক্রি করা হয়।

শুধু শামুক ঝিনুক বিক্রি নয়, নিয়মিত পাহাড় কাটা বন ধ্বংস নিত্য দিনের ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর বা বনবিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পাহাড় কাটায় মৌন সমর্থন দিচ্ছে।

এদিকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বহীনতার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবাদি সংগঠনের নেতারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর তফসিল-২ এর ৬ ধারায় প্রবালের ৩২টি ও শামুক-ঝিনুকের ১৩৭টি প্রজাতিকে শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ আইন যেন কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। ইতিমধ্যে নির্বিচারে সৈকত থেকে শামুক-ঝিনুকের আহরণের ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রাণী আবাসস্থল হারিয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই সামুদ্রিক শামুক ঝিনুক বিক্রি করা হচ্ছে। এটি অত্যান্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, কক্সবাজার, সোনাদিয়া, সেন্টমার্টিনকে সরকার ইকোলজিকাল ক্রেটিকাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষণা করেছে কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা সঠিক দায়িত্ব পালন করছে বলে মনে করছি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান অনুষদের চেয়ারম্যান ড. কাউসার আহমেদ বলেন, ‘যেখানে পরিবেশ আইনে শামুক-ঝিনুক ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ সেখানে জেলা প্রশাসন কোন যুক্তিতে এসব বিক্রির জন্য দোকানের অনুমোদন দিলো তা আমি বুঝতে পারছি না। সমুদ্র ও উপকূল রক্ষা করতে চাইলে এসব রক্ষায় আমাদের সবার একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। নয়তো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত অচিরেই হারিয়ে যাবে।

জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত দোকানে শামুক ঝিনুক বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা
বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যেসব স্থান থেকে শামুক ঝিনুক বা প্রবাল উত্তোলন করা হচ্ছে সেসব স্থান চিহ্ন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কক্সবাজারে পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথে বসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন’র কাছে থাকা সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102