রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

‘কক্সবাজারে অঘোষিত বন্ধ পর্যটন’ করোনার মোকাবেলায় কাজ করছে জেলা প্রশাসন

ওয়াহিদ রুবেলঃ
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকারের ১৮ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। গণজমায়েত রদ, যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রিবহন রোধসহ সৈকত ও হোটেল-মোটেল জোন এবং পর্যটনস্পট গুলোতে কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটগণ। ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে সেন্ট মার্টিন রুটের পর্যটকবাহি জাহাজ চলাচল। গুটিয়ে ফেলা হয়েছে সৈকতের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের বসার জন্য সাজানো কিটকট চেয়ার। এ যেন পর্যটন স্পটে ঘোরাঘুরিতে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল বলেন, আপাতত সরকারের জারি করা ১৮ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটক সমাগম সীমিত করতে হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সৈকত থেকে তুলে নেয়া হয়েছে কীটকট চেযার। ধীরে ধীরে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, নতুন করে কক্সবাজার জেলায় গত মার্চ মাসে ৫১৯ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। ৩১ মার্চ একদিনেই আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ জন। এদের মাঝে ৪১ জন কক্সবাজারের বাসিন্দা। রোহিঙ্গা আক্রান্ত হয়েছে একজন। বাকি একজন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার।
জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসের মাঝামাঝি হতে দেশের ৩১ জেলায় করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় এ ৩১ জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার মাঝে অন্যতম পর্যটননগরী কক্সবাজার। এসব জেলার প্রতিটিতে নমুনা পরিক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১০ শতাংশের ওপরে রয়েছে।তাই জেলাগুলোকে উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, গত এক মাসে সারাদেশের মত কক্সবাজারেও করোনা আক্তান্ত রোগির সংখ্যা বেড়েছে। এটা ক্রম উর্ধমুখী। পরিসংখ্যান মতে গত ১ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৭৭ জন পরীক্ষার আওতায় এসেছেন । এর মাঝে পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে ৫১৯ জনের। এ মূহুর্তে সকলের সচেতন হওয়া খুবই জরুরী।
তিনি জানান, গেল ২০২০ সালের পহেলা এপ্রিল হতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের তিনটি ল্যাবে কক্সবাজারসহ তিন জেলায় চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক লাখ ২১ হাজার ৪৫ জনের পরিক্ষা করা হয়। এদের মাঝে করোনা পজেটিভ হয়েছেন ৭ হাজার ৯৪২ জন। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলায় পরীক্ষার আওতায় আসা ৬৯ হাজার ৯০৯ জনে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ১৫৮ জন। এ হিসেবে কক্সবাজারে আক্রান্তের হার প্রায় ৯শতাংশ।রোহিঙ্গাদের ৩৪ হাজার ৩২৭ জন পরীক্ষার আওতায় এসেছেন। তাদের মাঝে পজেটিভ এসেছে ৪৭১ জন। করোনার শুরু হতে এক বছরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৩ জন। এর মাঝে রোহিঙ্গা রয়েছেন ১০ জন।
করোনার ঠিকাদান বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, কক্সবাজারে করোনার টিকা এসেছে ৮৭ হাজার ২২৮টি, প্রয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার জনকে। ৯ কেন্দ্রে ২৬টি বুথে এ টিকা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সৈকতে গোসলকালীন ভেসে যাওয়া বিপদাপন্ন পর্যটক সেবায় থাকা সী সেইফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান বলেন, শুক্র-শনিবার ছুটির দিন ছাড়াও প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ও স্থানীয় ভ্রমণপিপাসু মানুষ কক্সবাজার সৈকতে আসেন। করোনাকালে সতর্কতার জন্য মাস্কসহ সতর্কতা অবলম্বন করার কথা থাকলেও সিংহভাগই মাস্কহীন থাকেন। পর্যটন স্পট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ কোথাও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের বালাই থাকে না। এ অবস্থায়, বুধবার সন্ধ্যা হতে সৈকতে পর্যটকদের জন্য বসানো কিটকট চেয়ার গুটিয়ে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিনের মতো বৃহস্পতিবারও সকাল হতে করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পড়া ও নিরাপদ দূরত্ব পালন এবং সৈকত ও অন্যপর্যটন স্পটে জনসমাগম সীমিত করণে প্রতিটি পয়েন্টেই জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া সুলতানা, সৈয়দ মুরাদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সচেতনামূলক প্রচারণাও চালাচ্ছেন। এ সময় সচেতনতার পাশাপাশি জরিমানাও করছেন তারা।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহকারি অধ্যাপক, ট্রপিক্যাল মেডিসিন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও করোনা প্রতিরোধ সেলের চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাসহ ৩৫ লাখ মানুষের বাস। গত বছর মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত টানা তিন মাস করোনা দেশে তান্ডব চালিয়েছে। এবারও একই সময়ে করোনার প্রকোপ বাড়ছে। সরকারি নির্দেশনা না মানলে চরম বিপর্যয় ঘটতে পারে।
করোনা রোগীকে স্বেচ্ছায় সেবাদেয়া বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, পুরো মার্চ মাসেই করোনা রোগীর আধিক্য বেড়েছে। কোন লক্ষণ ছাড়াও অনেকে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। তারাও পরে করোনা পজিটিভ হচ্ছেন। এটি উদ্বেগজনক।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, আপাতত সরকারের জারি করা ১৮ নির্দেশনা মত সৈকতে পর্যটক সমাগম সীমিত করার জন্য কাজ চলছে। আগের মত সৈকতে জনসমাগম হতে দেয়া হচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে প্রতিদিন। করোনার প্রাদূর্ভাব তীব্রতর হতে থাকলে অন্য জেলার মতো পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের পরিধি ব্যাপক হওয়ায় অনেক স্টেকহোল্ডার এখানে সম্পৃক্ত। তাই সকল পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102