বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

‘উখিয়ায় সভাপতির বিরুদ্ধে সম্পাদকের অভিযোগ’

সোয়েব সাঈদ;
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় একটি কৃষক সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে কৃষি যন্ত্রপাতি আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান গনি।

আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত বেলাল উদ্দিন উখিয়া হাজিরপাড়ার কৃষি সংগঠন কৃষক দলের সভাপতি এবং উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া গ্রামের নুর হোছনের ছেলে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে-চলতি বছরের ৩০ জুন হাজির পাড়া কৃষকদলের ২০ জন সদস্যকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা কৃষি অফিসার, এফএও এবং বেসরকারি সংস্থা আইওএম এর পক্ষ থেকে একটি পাওয়ার টিলার, একটি ধান মাড়াই যন্ত্র (রাইস থ্রেসার) ও একটি পানির পাম্প প্রদান করা হয়। এসব কৃষি যন্ত্রপাতি ওই কৃষকদলের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বরাদ্ধ পাওয়ার থেকে এসব যন্ত্রপাতি সদস্যদের ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি। বর্তমানে এসব যন্ত্রপাতি সভাপতি বেলাল উদ্দিন কৌশলে আত্মসাৎ করেছে। এরমধ্যে পাওয়ার টিলারটি কাকে দেয়া হয়েছে তা সমিতির সদস্যরা কেউ জানেননা। বর্তমানে সে সদস্যদের সাথে বৈঠকও করেন না। উল্টো নিজেই সমিতির রেজুলেশন ও সদস্য বাতিল-অর্ন্তভূক্ত করেন। এছাড়া এসব যন্ত্রপাতি প্রদানকারি আইওএম এবং সুশীলন প্রতিনিধির সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

হাজির পাড়া কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান গনি জানান-সভাপতি বেলাল উদ্দিন কর্তৃক কৃষি যন্ত্রপাতি আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-অপকর্মের কারণে কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো এর প্রতিকার পাননি।

উখিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন- অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের নির্দেশে তিনি সেখানে গিয়ে ধান মাড়াই যন্ত্র (রাইস থ্রেসার) এবং পানির পাম্প বেলাল উদ্দিনের বাড়িতে দেখতে পেলেও পাওয়ার টিলার দেখেননি। ওই সময় বেলাল উখিয়ায় একটি গ্যারেজে পাওয়ার টিলারটি রেখেছেন বলে জানালে তিনি সেখানে গিয়েও টিলারটি দেখেননি। পরে ইউএনওর কাছে অভিযোগের পর পাওয়ার টিলারটি অন্য এলাকায় ভাড়া দেয়া অবস্থায় পান। এরই প্রেক্ষিতে পাওয়ার টিলারটি এনে কৃষকদের ব্যবহারের জন্য দেবেন এমন শর্তে ইউএনও নিকারুজ্জামানের উপস্থিতিতে সমঝোতা হয়।

তবে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান গনি জানিয়েছেন-ইউএনওর সমঝোতায় ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও পাওয়ার টিলারটি অধ্যাবধি কৃষকরা দেখেনি। উল্টো তাকে এবং কৃষকদের বিভিন্নভাবে হুমকী-ধমকি দিচ্ছে বেলাল উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা।

বেসরকারি সংস্থা সুশীলন এর ইউনিয়ন কো-অর্ডিনেটর রাশেদ জানিয়েছেন-বিতরণের কয়েকদিন পর তিনি এসব যন্ত্রপাতি দেখলেও এখন এসব কোথায় আছে তা তিনি জানেননা। এছাড়া সম্প্রতি কৃষকরা তাকে এসব যন্ত্রপাতি আত্মসাতের বিষয়টিও জানিয়েছে।

হাজির পাড়া কৃষক দলের সদস্য আবু ছৈয়দ, কালা মনু, মনজুর আলম, নুর মোহাম্মদ ও ছৈয়দ আহমদ জানিয়েছেন-৪ মাস পূর্বে তাদের দেয়া পাওয়ার টিলার, একটি ধান মাড়াই যন্ত্র ও একটি পানির পাম্প সভাপতি বেলাল উদ্দিন একাই আত্মসাৎ করেছে। এসব ফেরত চাইলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয় দিয়ে তিনি উল্টো এখন তাদের দেখে নেয়ার হুমকী দিচ্ছে। সরকার কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রশংসনীয় অবদান রাখলেও বেলাল উদ্দিনের মতো প্রতারকদের কারণে সরকারের প্রচেষ্টা এভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই কৃষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠি এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টান্তমূলক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বেলাল উদ্দিন জানান-এসব যন্ত্রপাতি এখনও তার কাছে রয়েছে। তাই আত্মসাতের বিষয়টি সত্য নয়। এছাড়া ইউএনও’র কাছে দেয়া অভিযোগটি খারিজ হয়ে গেছে। অভিযোগকারি ওসমান গনিকেও কমিটি থেকে রেজুলেশন করে বাদ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102