শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

“আত্মপ্রত্যয়ী এক ‘প্রতীপদর্শিনী’ শাহনা আক্তার পাখি”

প্রতিবেদক এর নামঃ
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩৭৩ বার পড়া হয়েছে

সাইফুল ইসলাম:

সকাল দশটা। জরুরি একটি বিষয় জানার জন্য ফোন করেছিলাম কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র-৩ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর শাহেনা আক্তার পাখিকে। তিনি সালাম দিয়ে বললেন ‘ভাই সমিতি পাড়ায় আছি। আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি বলে লাইনটা কেটে দিলেন। একঘন্টা পরে দ্বিতীয়বার ফোন করলাম। তখন নুনিয়ারছড়ায় আছি বলে সে একই উক্তির পুনরাবৃত্তি ‘একটু পরে ফোন করবো আপনাকে’। এরই মাঝে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলো কিন্তু তিনি সময় বের দিতে পারেন নি। আমি একটু বিরক্ত হলাম।

কিন্তু রাত সাড়ে দশটার সময় আমাকে ফোন করলেন তিনি।

বললেন, ভাই দু:খিত, ঔ সময় লোকজন এতবেশি ছিলো যে আপনার সাথে কথা বলতে পারি নি। সারাক্ষণ মানুষের এটা ওটা, নানা সমস্যা নিয়ে ছিলাম। করোনায় মানুষের করুন অবস্থা। মাত্র বাসায় আসলাম। দুপুরে খাবারও খেতে পারি নি। বাসায় এসে হাতমুখ ধোয়ে আপনাকে ফোন করলাম। বলেন কি জন্য ফোন করেছিলেন।

আপা সকালের খবর রাতে দিয়ে কি হবে ? ভাই বুঝেন তো, কাজ করবো বলে মানুষকে কথা দিয়ে ভোট নিয়েছিলাম। এখন সুযোগ এসেছে মানুষের পাশে থাকার। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। এটি না, উল্টো রাগ করছেন। আমি মানুষের বিপদে পাশে থাকতে চাই। আমার জনগণ যেন বলতে না পারে বিপদের সময় পাখি আমাদের পাশে ছিলো না। কথাগুলো বলছিলেন কাউন্সিলর পাখি।

বুঝলাম সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এভাবে ছুটে চলা‘ প্রতীপদর্শিনী’ শাহেনা আক্তার পাখি’র। জনগণের সমস্যা নিয়ে ছুটে চলছেন এ গ্রাম থেকে ঐ গ্রামে। কখনো সমিতি পাড়া, কখনো আবার নুনিয়ারছড়া। একটু পরে নতুন বাহারছড়া, না হয় নুরপাড়া পাড়া অথবা বড়বাজার। আবার মেয়র মহোদয়ের ডাকে ছুটে যান পৌর পরিষদে। এভাবেই যাচ্ছে মানুষের কল্যানে ছুটে চলা পাখির সময়গুলো।

অনেকে বলেন, মানুষের মঙ্গলে ক্লান্তহীন পথ চলা এক মানবী পাখি। সকাল পেরিয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা কিংবা রাত চলে যাচ্ছে মানুষের কাজ করতে গিয়ে।

পাখি বলেন, নারী নয়, মানুষ হয়ে মানুষের পাশে থাকার জন্য রাজনীতিতে এসেছি। শুরুটা হয়েছে তো মানুষের কল্যাণ করেই। কর্মই আমার জীবনের নিত্য নতুন গল্প তৈরি করে। অনেকের বৈরভাব দেখে আমি অবাক হই। কিন্তু স্তমিত হয়ে পড়ি না। বরং নতুনভাবে পথ চলায় সাহস পেয়েছি সকলের কাছ থেকে। এখন দেশে এক প্রকার দুর্যোগ চলছে। সাধারণ মানুষের চলাফেরা বন্ধ হয়ে গেছে। রিক্সা চালক, দিনমজুর, জেলে, শ্রমিক কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এভাবে কয়েকদিন ঘর থেকে বের হতে না পারলে অনেককে অভূক্ত মরতে হবে। আমি তা কি করে দেখবো ! আমাকে তারা বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছে তাদের সেবা করার জন্য। এ বিপদে আমি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তাদের একটু সহযোগিতা করতে পারলে আমার মন শান্তি পাবে। মনে হবে দায়িত্ব কিছুটা পালন করতে পেরেছি।

পাখি বলেন, সারা দিনের পরিশ্রমে রাতে ভাল করে ঘুমাতে পারি না। ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু কাউকে বলতে পারি না। সকাল হতে না হতে মানুষের ডাকাডাকিতে আর ঘুমে থাকতে পারি না। আবারও ছুটে চলা। হয়তো মৃত্যু আমার চলার পথ রুদ্ধ করতে পারবে। আমি যেতে চাই দৃষ্টির সীমানা পর্যন্ত। প্রমাণ করতে চাই, ইচ্ছা থাকলে মানুষের কল্যাণ করা সম্ভব।

পাখি বলেন, অনেক প্রতিকুলতার মাঝে আমাকে রাজনীতি করতে হচ্ছে। কখনো অন্যায়, অসত্য, অসুন্দর আর মাদকের সাথে আপোষ করি নি।

তাই তো নিজের তহবিল থেকে গৃহবন্দি মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। যতদিন সাধ্য থাকবে, ততদিন পাশে থাকবো।

উপকার পাওয়া স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মানুষের মঙ্গল কামনায় ছুটে চলা এক রাজনৈতিকের প্রতীপদর্শিনী শাহানা আক্তার পাখি। যিনি সহায় হয়েছেন অসহায়দের। অসচ্ছলদের পাশে হয়েছেন আর্শীবাদ। হতাশাগ্রস্তদের পাশে আশার আলো। নারী থেকে অন্যন্য মানুষ হয়ে উঠেছেন গল্পের মতো। ভবিষ্যতেও মানুষের জন্য কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আত্মপ্রত্যয়ী এ প্রতীপদর্শিনী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102