সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

আইনে নিষিদ্ধ, বিক্রি হচ্ছে বৈধভাবে কক্সবাজারে শামুক-ঝিনুক ব্যবসা...

জসিম উদ্দিনঃ
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

পরিবেশ আইনে সামুদ্রের শামুক-ঝিনুক আহরণ ও বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আপরদিকে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রাখতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে সকল অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করতে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে। অথচ এর কোনটাই আমলে নেয়নি কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। উল্টো পরিবেশ আইন ও উচ্চ আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শামুক-ঝিনুক বিক্রির হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত দোকানে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ এসব শামুক-ঝিনুক।

সৈকতের লাবনি পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট এবং কলাতলি এবং প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে অবাধে বিক্রি হচ্ছে শামুক-ঝিনুক। সমুদ থেকে সংগৃহীত শামুক-ঝিনুকের গায়ে বিভিন্ন আল্পনা দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করা হয়। পর্যটন মৌসুমটাই শামুক-ঝিনুক ব্যবসার মোক্ষম সময়। মৌসুম শুরুর আগে সমুদ্র উপকূল থেকে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ভেতরের প্রাণীটা বের করে বিক্রয়যোগ্য করে তুলেন শিল্পীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর জেলার সমুদ্র তীরের বিভিন্ন স্থান থেকে শামুক ঝিনুক সংগ্রহ করে থাকেন তারা। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শামুক ঝিনুকের গায়ে কারুকার্য, নকশা দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে বাজারজাত করা হয়।

তারা জানান, পর্যটন মৌসুমই তাদের ব্যবসার উপযুক্ত সময়। অতীতে পরিবেশ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসন কেউ এসব বিষয় নিয়ে কথা বলে নি। বরং ঝিনুকের পণ্য বিক্রির জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝিনুক মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি দলের কিছু নেতা, উচ্চ বিলাসি কথিত সুশীল সমাজের লোকজন এসব দোকান বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের কাছে শামুক-ঝিনুক সামগ্রীর চাহিদা প্রচুর। এ সময়ে তাদের ব্যবসাটা ভাল হয়।

তাদের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ২৬৪টি এবং লাবণী পয়েন্টে ২০২টি ঝিনুকের দোকান রয়েছে। যার সবগুলোই অনুমোদন দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখা। এই পরিসংখ্যানের বাইরে আরও শতাধিক দোকান রয়েছে বলেও জানান তারা। প্রতিটি দোকানের জন্য জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার থেকে একটি কার্ড দেয়া হয়। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১৫ হাজার বা তার বেশি রাজস্ব আদায় করা হয়। অথচ সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ করে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩’শ দোকান অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তৎমধ্যে ৫’শতাধিক দোকানে শামুক-ঝিনুক বিক্রি করা হয়।

এদিকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বহীনতার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবাদি সংগঠনের নেতারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ এর তফসিল-২ এর ৬ ধারায় প্রবালের ৩২টি ও শামুক-ঝিনুকের ১৩৭টি প্রজাতিকে শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ আইন যেন কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। ইতিমধ্যে নির্বিচারে সৈকত থেকে শামুক-ঝিনুকের আহরণের ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রাণী আবাসস্থল হারিয়ে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই সামুদ্রিক শামুক ঝিনুক বিক্রি করা হচ্ছে। এটি অত্যান্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, জীববৈচিত্র রক্ষায় ২০০৫ সালে দেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার, সোনাদিয়া, সেন্টমার্টিন সমুদ্র উপকূল এলাকাকে পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ আলোর মুখ দেখবেনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান অনুষদের চেয়ারম্যান ড. কাউসার আহমেদ বলেন, ‘যেখানে পরিবেশ আইনে শামুক-ঝিনুক ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ সেখানে জেলা প্রশাসন কোন যুক্তিতে এসব বিক্রির জন্য দোকানের অনুমোদন দিলো তা আমি বুঝতে পারছি না। সমুদ্র ও উপকূল রক্ষা করতে চাইলে এসব রক্ষায় আমাদের সবার একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। নয়তো বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত অচিরেই হারিয়ে যাবে।

জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত দোকানে শামুক ঝিনুক বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা
বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যেসব স্থান থেকে শামুক ঝিনুক বা প্রবাল উত্তোলন করা হচ্ছে সেসব স্থান চিহ্ন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কক্সবাজারে পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথে বসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন’র কাছে থাকা সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায় নি

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102