শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
আলোকিত কক্সবাজার অনলাইন পত্রিকার  উন্নয়ন কাজ চলছে ; সাময়িক সমস্যার জন্য আন্তিরকভাবে দুঃখিত - আলোকিত কক্সবাজার পরিবারে যুক্ত থাকায় আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

অন্যায়: চার্জশীটের ভিত্তিতে অপরাধী হিসাবে শাস্তি দেয়া কাম্য নয়

সাজ্জাদুল করিম:
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিরীহ এক শিক্ষিকা। বয়স অল্প। লাস্যময়ী, সদ্য বিবাহিতা। চাকুরীতে জয়েন করেছেন কয়েক বছর আগে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। তাঁর স্বামীর পরিবারের সাথে বিরোধ রয়েছে প্রতিবেশি এক পরিবারের। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ। তারা আবার ক্ষমতাবান, প্রভাবশালী এবং বিত্তশালী। ক্ষমতার দাপটে এরা আইন আদালতের থোড়াই তোয়াক্কা করে। শিক্ষিকার স্বামীসহ পরিবারের পাঁচজনকে এই দুষ্কৃতকারীরা অত্যন্ত নির্দয়ভাবে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। প্রকাশ্যে দিবালোকে। মাস কয়েক পূর্বে। ডাক্তারদের অক্লান্ত চেষ্টায় এ যাত্রায় আহতরা বেঁচে যায়। তবে সারা শরীরে থেকে যায় জখমের ক্ষতচিহ্ন।

এ ঘটনায় মামলা হয়। হত্যার প্রচেষ্টা ও গুরুতর জখমের। থানার নাকের ডগায় আসামী ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু পুলিশ আসামী ধরে না। কেন? এটা সহজেই অনুমেয়। আসামী ধরার পুলিশের কাজটি আদালতই সহজ করে দেয়। প্রধান আসামী আদালতে সারেন্ডার করে। তুমুল আইনী যুক্তি প্রদর্শন করে জামিনের স্বপক্ষে,আসামীর আইনজীবিগন। কিন্ত আদালত নাছোড়বান্দা। জামিন না-মন্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়।

আসামী পক্ষ প্রভাবশালী ও বিত্তশালী। তারাও পাল্টা মামলা করে। অর্থবিত্তের প্রভাব খাটিয়ে। কাউন্টার মামলা। যা সম্পুর্নই মিথ্যা, হয়রানীমমুলক। আসামী করে মুমূর্ষু ভিকটিমদের। যারা হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

সেই মামলায় আরো আসামী করা হয় ভদ্রমহিলা প্রাইমারী শিক্ষিকাকে। যদিও ঘটনায় তিনি ছিলেনই না। কিন্তু কে শুনে কার কথা। মানুষ গড়ার কারিগর নিরীহ, দরিদ্র,মেধাবী শিক্ষিকা। ওসি সাহেবের কলমের এক খোঁচায় হয়ে গেলেন আসামী। আমলযোগ্য ও ধর্তব্য অপরাধ। মহিলা হলেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে যে কোন সময়। শুরু হয় অন্ত্বসত্বা শিক্ষিকার দৌড়ঝাঁপ। থানা,পুলিশ,আদালত,উকিলের নিকট ছোটাছুটি। শিক্ষিকা আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। প্রতিপক্ষও হাজির তাঁকে জেলে প্রেরণের জন্য। কিন্তু বিধিবাম! আদালত তাঁকে জামিন প্রদান করেন।

এই একটি ক্ষেত্রে মানুষ এখনো আস্হা রাখতে পারে। সেটি আদালত। আজ অবধি আদালত মানুষের ভরসার শেষ আশ্রয়স্হল। ভরসা আছে বলেই প্রশাসনিক বা পুলিশী তদন্তের বদলে প্রায়শ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী উঠে। কিন্তু প্রতিপক্ষ থেমে নেই। যে কোন ভাবেই শিক্ষিকাকে অপদস্থ করতে হবে। শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। সাধারন মামলার তদন্ত বছরের পর বছরও শেষ হয় না। কিন্তু শিক্ষিকার মামলার তদন্ত হয় অতি দ্রুততার সাথে। যেন রকেট গতিতে। কোন এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায়। দ্রুত শিক্ষিকা সহ তাঁর পরিবারের সবারই বিরুদ্ধে দেয়া হয় চার্জশীট। অথচ তারা ঘটনার ভিকটিম ও নৃশংস আক্রমনের শিকার।

শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চার্জশীট হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বল ধারায়। দন্ডবিধির ৩২৩ ধারায়। যে ধারা জামিনযোগ্য ও আপোষযোগ্য। বিচারে হয়ত তাঁর কিছুই হবে না। কিন্তু প্রতিপক্ষ খুব শক্তিশালী। তারা চার্জশীট পাওয়ার শিক্ষা অফিসারের নিকট ধর্না ও তদবির করতে থাকে। শিক্ষিকাকে চাকুরী হতে বরখাস্তের জন্য চাপ দিতে থাকে। কারো বিরুদ্ধে মামলার চার্জশীট হলেই চাকুরী হতে সাময়িক বরখাস্তের অঘোষিত বিধান যে রয়েছে।

এমপি কিংবা সাংসদ, তাদের বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা থাকলেই নির্বাচিত হতে বাঁধা নেই। বরখাস্তের বিধান নেই। কক্সবাজারের এক সাবেক সাংসদ দুর্নীতির মামলায় জেলে গিয়েছিলেন। সেই মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছিল। কিন্তু তিনি এমপি পদে বহাল তবিয়তেই ছিলেন। কিন্তু আপাত নিরীহ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশীট হলেই রেহাই নেই। এ যেন এক দেশে দুই আইন। All are equal before the law.এটি আইনের ভাষ্য। কিন্তু আইনের এই মর্মবাণীর মুল্য কোথায়? আসলেই কি আইনের চোখে সকলে সমান?

এবার প্রসঙ্গে ফিরে আসি। শিক্ষিকাকে চাকুরী হতে বরখাস্তের চিঠি চৌকস শিক্ষা অফিসার দ্রুতই আমলে নেন। কালবিলম্ব না করে আরো দ্রুততার সাথে তিনি শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্তও করেন। সাথে ভর্সনা। এত দ্রুত যে, মনেই হবে না, এদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লালফিতার দৌরাত্ম্য বলে কোন কিছু আছে!

বাংলাদেশে রয়েছে হাজারো আইন। এত মসৃন, সুন্দর আইন অনেক সভ্য দেশেও নেই। কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। রয়েছে অপপ্রয়োগ। কিন্তু ব্যতিক্রম শিক্ষা অফিসার মহোদয়। তিনি যে আইন প্রয়োগে একপায়ে খাড়া। ৩২৩ ধারায় অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে নজীরবিহীন ক্ষিপ্ততায় তিনি বরখাস্ত করলেন। যা একটি রেকর্ডও বটে। গিনেসরেকর্ড!

মামলার চার্জশীট হলেই সরকারি কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা যায়। বলাবাহুল্য, নিরীহ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এ আইনের প্রয়োগটি হয় সবচেয়ে বেশি। আইন নাকি তাই বলে! এ আইন বৈষম্যমুলক,একইসাথে নিপীড়নমুলক। ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালীরা এ আইনকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে যে কাউকে বিপদে ফেলতে পারে ।

An individual is considered innocent, until proven guilty by the proper court.. এটিই হচ্ছে আইনের মৌলিক নীতিমালা। আদালতের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পূর্বে কেবল চার্জশীটের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসাবে শাস্তি দেয়া কোনভাবেই কাম্য নয়। তাই কারো বিরুদ্ধে চার্জশীট হলেই যেন হয়রানী করা না হয়। কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে আদালতের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। অনতিবিলম্বে তাই বৈষম্যমুলক এই আইনটি বাতিল করা দরকার।
ধন্যবান সবাইকে।।।

অনলাইন বিজ্ঞাপন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

অনলাইন বিজ্ঞাপন

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
Design and Develop By MONTAKIM
themesba-lates1749691102