নতুন বোতলে পুরোনো মদ

নতুন বোতলে পুরোনো মদ

ভাগ

ডেক্স নিউজ:

চিকিৎসার জন্য আদালত থেকে ৬ মাসের সময় নিয়ে ২০০৮ সালে লন্ডন গমন করেন একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক জিয়া। ১০ বছর সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও তারেকের চিকিৎসার সেই ‘৬ মাস’ সময় শেষ হয়নি। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালত কতৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন তারেক রহমান।
দলের প্রধান দুই কর্ণধারের অনুপস্থিতিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে দলটির নেতাকর্মীরা। দলের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, খালেদা-তারেককে মাইনাস করে বিএনপির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন তারা। এমতাবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা তারেকের দিক নির্দেশনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন।
গতকাল লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক জিয়া। লন্ডন থেকে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে তারেকের বক্তব্য শুনেছেন। উল্লেখ্য দীর্ঘ দিন ধরে তারেকের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ফেসবুক লাইভেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বরাবরের মতোই বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা তারেকের বক্তব্যে দিক নির্দেশনামূলক কোনো বক্তব্য খুঁজে পায়নি।
বরাবরের মতোই তারেক তার দীর্ঘ বক্তব্যের সিংহভাগ সময়ই কাটিয়েছেন বর্তমান সরকারের অতীতও কর্মকান্ডের গতানুগতিক সমালোচনা করে। যদিও তারেক তার বক্তব্যের সপক্ষে কোনো তথ্য উপাত্ত তুলে ধরতে পারেননি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ক্ষমতাসীন সরকারের এমপি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তাদের ছেলে মেয়ে বিদেশে লেখাপড়া, কিন্তু দেশের ষোলকোটি মানুষের পড়ালেখার কথা ভাবছেনা সরকার। অথচ বাস্তবতা হলো ক্ষমতাসীন সরকারের সিংহভাগ এমপি মন্ত্রীর সন্তানরা দেশেই পড়াশুনা করছেন। পাশাপাশি দেশের সবত্র শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত জানুয়ারির ১ তারিখেই সকল শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছে বর্তমান সরকার। অন্যদিকে তারেক জিয়ার সন্তানরা যুক্তরাজ্যে ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করছে যদিও তারেকের অর্থের উৎস নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
তারেক তার বক্তব্যে আরো বলেছেন আগামী জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ, প্রসঙ্গত ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছিল আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জনের উদ্দেশ্যে। আগামী নির্বাচনকে মুক্তিযুদ্ধ আখ্যা দেয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে তবে কি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না তারেক? তারেক বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন যেকোনো মূল্যে ভোটকেন্দ্র থেকে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসার জন্য। তবে কি তারেক বিএনপির জনবিচ্ছিন্নতা উপলদ্ধি করে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় না গিয়ে নাশকতা কিংবা নৈরাজ্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে চান?
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিজের দলের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তারেক। শুধু তাই নয় যিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার স্বপ্ন দেখেন সেই তারেক জিয়ার বক্তৃতায় বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা স্বপ্নের কথাও ফুটে উঠেনি তার বক্তব্যে। সূত্র-আমার বাংলা

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ