ঈদগাঁওতে পাকিং ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে সাধারন মানুষ

ঈদগাঁওতে পাকিং ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে সাধারন মানুষ

ভাগ

এম আবুহেনা সাগর,ঈদগাঁও

দক্ষিন চট্রলার বহুল আলোচিত বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারে দীর্ঘবছর ধরে পাকিং ব্যবস্থা না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যান বাহন। যত্রতত্র স্থান জুড়েই বাহন দাঁড় করানোর ফলে যানজটে নাকাল হয়ে উঠেছে ঈদগাঁওর সর্বশ্রেনী পেশার মানুষজন। তবে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগের দাবী জানান সচেতন বাজারবাসী। বাজার ঘুরে দেখা যায়,দক্ষিন পাশ্বর্স্থ ভুমি অফিস,হাসপাতাল সড়ক,শাপলা চত্তর,হাইস্কুল গেইট,পুরাতন পুলিশ বিটসহ যেখানে সেখানে টমটম,সিএনজি,অটোরিকসা রাখা ও ডিসি সড়কের উপর থেকে যাত্রী তোলার কারনে একের পর এক যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

এমনকি জেলা সদরের বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র এ বাজারে বৃহত্তর এলাকা ইসলামপুর,ইসলামাবাদ, জালালাবাদ,পোকখালী,ছৌফলদন্ডী, ভারুয়াখালী ও ঈদগাঁওর প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের লোকজন ছাড়াও পাশ্বর্বতী রামুর রশিদনগর ঈদগড় এবং চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের লোকজনও প্রায় সময় নানা কাজেকর্মে ঈদগাঁও বাজারে এসে থাকে। আবার অনেকে সওদাপাতি করতে বাজারে আসে। হাটবার ছাড়া এ বাজারে দৈনিক লক্ষাধিক মানুষ সার্বক্ষনিক থাকে। যত্রতত্র স্থানে যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে তাদেরকে ।

পাশাপাশি যানজট থেকে রেহায় পাচ্ছেনা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীরা। সে সাথে নানা পাড়া মহল্লা থেকে আসা রোগীরা বাজারে কোথাও না কোথাও আটকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। যথা সময়ে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে না পারায় রোগীর অবস্থা আরো বেগতিক হয়ে পড়ে। তার উপর ঘা সরুপ ঢাকা চট্রগ্রাম থেকে মালবাহী বড় বড় ট্রাক বাজারে প্রবেশ করে ছোট ছোট পরিবহন গুলো চলাচল করতে নানাভাবে হিমশিম খাচ্ছে। এক পর্যায়ে ভোগান্তি চরমে উঠেছে বাজারবাসীর। বাজারে নেই কোন নিয়মনীতি। যেন দীর্ঘকাল ধরে ঈদগাঁও বাজারটি অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে আছে। পাকিং ব্যবস্থা,ভাড়া তালিকা,মাল বাহী ট্রাকগুলোর বিষয়ে সিদ্বান্ত নিতে পারছেনা বাজার কতৃপক্ষ। এদিকে চট্রগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের ঈদগাঁও বাসষ্টেশনের দুপাশ জুড়েই সী লাইন,ঈদগাঁও লাইন,টমটম,মাহিদ্রা, সিএনজির দখলে বললেই চলে। ব্যস্ত মহা সড়কের দুপাশে এসব পরিবহন চালকরা যেন মিনি বাস পার্কে পরিনত করে তুলছে। সংশ্লিষ্ট প্রসাশনের দৃষ্টি না থাকায় মানুষদের ভোগান্তির মাত্রা বেড়েই চলছে। তবে স্থানীয় লোকজনের মতে, ঈদগাঁও বাজার ও বাসষ্টেশন হচ্ছে গুরুত্ব বহ জায়গা। মহাসড়কের মাঝখানেই এ বাস ষ্টেশনের অবস্থান,অন্যদিকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী কেন্দ্র হচ্ছে ঈদগাঁও বাজার। এ দুই স্থানে দীর্ঘ বছরেও নির্মিত হয়নি যানবাহনের পাকিং। যার দরুন এসব যানবাহন গুলোর যেখানে সেখানে অবস্থান। যাতে করে বৃহত্তর এলাকার অসংখ্য লোকজন দৈনিক প্রয়োজনীর কাজেকর্মে যেতে নানান ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে ঈদগাঁও বাজারে নিদিষ্ট মাছ ও তরিতরকারী বাজার থাকা সত্তেও ষ্টেশন থেকে হাইস্কুল গেইট পর্যন্ত সড়কের দুপাশ জুড়েই যত্রতত্র স্থানে মৌসুমী তরকারী বাজার আর ফুটপাতে ছেয়ে গেছে। এমনকি ডিসি সড়কের পাশ্ববর্তী স্থানে তরকারী বাজার বসানোর কারনে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচল করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রায়শ যানজটে বন্দি হয়ে পড়ে সড়কটি।

সংস্কৃতিকর্মী কুতুব উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুমি অফিসের অপরিস্কার জায়গায় যদি পরিস্কার করে সেখানে আপাততে কিছু গাড়ী রাখা যেতে পারে।

পাকিং ব্যবস্থার বিষয়ে দীর্ঘকাল ধরেও সিদ্বান্ত গ্রহনে ব্যর্থ হয়েছেন বাজার কমিটি। তবে বাজার সভাপতি সিরাজুল হক কক্সবাজার প্রতিদিনকে জানান,জায়গার অভাবে পাকিং ব্যবস্থা হচ্ছেনা।

এদিকে সচেতন মহলের মতে,বাজার এলাকার একটি বড় পরিসরে খাস জায়গার অভাবে পাকিং ব্যবস্থা করা যাচ্ছেনা। তবে স্থানীয় জন প্রতিনিধি,ব্যবসায়ীসহ সর্বশ্রেনী পেশার লোকজন দের মতামতের ভিত্তিতে পাকিংয়ের বিষয়ে সিদ্বান্ত নিলে ভাল হয়।

প্রসঙ্গত, ঈদগাঁও বাজারের প্রধান ডিসি সড়কের উপর আড়াআড়ি করে যানবাহন রাখায় মাঝে মধ্য কোন ভদ্রলোক প্রতিবাদ করতে চাইলে, ঐসব যানবাহনের চালকরা একত্রিত হয়ে তার উপর পাল্টা আঘাত করার চেষ্টা চালায়।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ