মারমেইড বীচ রিসোর্টসহ দু’প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশের মামলা

মারমেইড বীচ রিসোর্টসহ দু’প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশের মামলা

ভাগ

বিশেষ প্রতিবেদক:

সৈকত ভরাটের দায়ে মারমেইড বীচ রিসোর্টসহ দু’প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশের মামলা জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার. কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিমে লাগোয়া সৈকত ভরাটের দায়ে মারমেইড বীচ রিসোর্ট ও মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার অফিসের সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বাদা হয়ে রামু থানায় মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করেছেন। পরিবেশের কর্মকর্তারাই মামলাটি তদন্ত করছেন।

মামলায় পেচাঁরদ্বীপ এলাকার সৈকতস্থ ইসিএ (ইকুলুজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া) এলাকার বালি ড্রেজার মেশিন দিয়ে উঠিয়ে এক্সাভেটর মেশিনে জিও ব্যাগে ভরে খালের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ইসিএ এলাকার বৈশিষ্ট্য ক্ষুন্ন করা হয়েছে। এ কারণে খালের পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ এবং কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণির আবাসস্থলও নষ্ট হয়েছে। মুচলেকা দিয়েও ইসিএ এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক করে না দেয়ায় এ মামলাটি করা হয়েছে বলে বাদি উল্লেখ করেছেন। মামলার আসামীরা হলে, মারমেইড বীচ রিসোর্টের মালিক মো. আনিসুল হক চৌধুরী সোহাগ, হোটেলের ম্যানেজার ও কক্সবাজারের রামুর রাবেতা পেঁচারদ্বীপ এলাকার আকবর বিশ্বাসের ছেলে আবু ফাত্তাহ, মেসার্স মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মীর নাসির হোসেন, প্লানিং ম্যানেজার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উল্টাডাব এলাকার মৃত হাজী আমজাদ হোসেনের ছেলে মো. শিহাব উদ্দিন (৩৫) ও ঢাকার ধানমন্ডি আ/এ, বাড়ী নং-১৩, ১২ রোড়ের বাসিন্দা ড্রেজার ইঞ্জিনিয়ার মো. নজরুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬জন। মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত মারমেইড বীচ রিসোর্ট এলাকায় অভিযান চালায়।

এসময় সৈকত থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করে সাগরের তীর ভরাট করার অভিযোগে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৬(ঙ), ১৫(১)৮ ধারা মোতাবেক খাল ভরাটের দায়ে মারমেইড রিসোর্টকে এক লাখ টাকা ও মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড নামক ড্রেজিং কোম্পানীকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত এ দুই প্রতিষ্ঠানকে ভরাটকৃত স্থানের বালি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়। এ সময় মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের প্লানিং ম্যানেজার শিহাব উদ্দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অঙ্গিকারনামা দিয়ে ভরাটকৃত সমুদ্র সৈকত ও খালের মাটি পূর্বাবস্থায় ফেরানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু গত ১৩ নভেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেন প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি।

আরো উল্লেখ করা হয়, মারমেইড বীচ রিসোর্ট ও মীর আক্তার হোসেন লি. প্রতিষ্ঠান দুটি পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহন ব্যতিরেকে পেচাঁর দ্বীপ এলাকার সমুদ্র সৈকতস্থ ইসিএ এলাকার বালি ড্রেজার মেশিন দিয়ে উঠিয়ে এক্সাভেটরের সাহায্যে রিসোর্টের পশ্চিম পাশের খাল ভরাট করে জিও ব্যাগ দিয়ে খালের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ইসিএ এলাকার বৈশিষ্ট্য ক্ষুন্ন করেছে। এ কারণে খালের পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে এবং কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণির আবাসস্থল নষ্ট করে পরিবেশ ও প্রতিবেশ দূষণ করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ বিগত এক বছর ধরে মান্য না করায় সমুদ্র সৈকত এলাকার সার্বিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ দূষণ করে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে অপরাধ করায় এদের বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলাটি করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অফিসরে সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি নথিভূক্ত করে পরিবেশ অধিদপ্তরেই পাঠানো হয়েছে। পরিবেশের কর্মকর্তারাই এটি তদন্ত করে প্রতিবেদনসহ পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন। আসামী আটকের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রামু থানার ওসি আবুল মনসুর মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, আসামী আটকের বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে। মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে মারমেইড বীচ রিসোর্টের মালিক আনিসুর রহমান সোহাগ ও মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগোযোগের চেষ্টা করেও তাদের সাথে সংযুক্ত হওয়া যায়নি।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ