যদি বাবরের ফাঁসি হয় তবে খালেদা-তারেকের কেন নয়?

যদি বাবরের ফাঁসি হয় তবে খালেদা-তারেকের কেন নয়?

ভাগ

নিউজ ডেস্ক:

২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

প্রশ্ন উঠেছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা এবং সংঘটনে সরাসরি জড়িত বাবর এবং পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড হলে প্রধান পরিকল্পক তারেক রহমান এবং হামলার আলামত নষ্টের নির্দেশ প্রদানকারী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ফাঁসি হবে না কেন?

গত ১০ অক্টোবর পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণার সময় ৩১ আসামি আদালতে হাজির ছিল। মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, মামলায় রায় ঘোষণা এবং অপরাধীদের সাজার সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য মোট ১৪টি বিষয় বিবেচনায় নিয়েছিলেন আদালত।  যেখানে ৭ নম্বর বিবেচ্য বিষয় ছিল- ‘গুলশান থানার লালাসরাই মোজার রোড নং ১৩, ব্লক নং ডি, বাড়ি নম্বর ৫৩, বনানী মডেল টাউনের জনৈক আশেক আহমেদ, বাবা-আবদুল খালেক, যার বাসাটিই ‘হাওয়া ভবন’ নামে পরিচিত। ওই ‘হাওয়া ভবন’ বিএনপি জামায়াত ঐক্য জোট সরকারের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কিনা? ঘটনাস্থলে পলাতক আসামি তারেক রহমান অপরাধ সংঘটনের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে কিনা ও জঙ্গি নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন সময় মিটিং করে কিনা?’

নিঃসন্দেহে আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, হাওয়া ভবনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্র হয়েছিলো। আর সে কারণেই আসামি তারেক রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, যদি তা-ই হয় তবে অন্য ষড়যন্ত্রকারীদের মতো তারেক রহমানেরও মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিৎ। যা এরইমধ্যে দাবিতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে আদালতের ১০ থেকে ১৩ নম্বর বিবেচ্য বিষয় ছিল–

অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেনেড আক্রমণ চালানোর সুবিধার জন্য ও অপরাধীদের রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা?

অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত সংরক্ষণযোগ্য তাজা গ্রেনেড আলামত হিসেবে জব্দ করার পরও তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে এবং আদালতের অনুমতি না নিয়ে অপরাধীদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক ধ্বংস করার ও আলামত নষ্ট করায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা।

অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সভা ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মূল আসামিদের সহায়তা করার লক্ষ্যে আসামিদের নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে ও পরবর্তী সময়ে আসামিদের অপরাধের দায় থেকে বাঁচানোর সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা।

প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং তাদের রক্ষা করার জন্য প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য লোকের ওপর দায় বা দোষ চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা।

উপরের সব কয়টি বিষয়ে তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের সচেষ্ট ষড়যন্ত্রের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেই তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে আদালত মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। গণমাধ্যমের কল্যাণে এটাও খোলাশা হয়েছে যে, তদন্তে ও আসামিদের জবানবন্দীতে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, শুধু তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর-ই হামলা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন না। একই সাথে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা বেগম খালেদা জিয়াও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে জানতেন। তিনি নিজেও হামলার আলামত নষ্ট করার আদেশ দিয়েছিলেন এবং এ হামলা সম্পর্কে তদন্ত করতেও নিষেধ করেছিলেন তিনি। ফলে এতে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, তিনি পরোক্ষভাবে এই হামলা সম্পর্কে অবগত এবং আসামিদের রক্ষায় তিনি সচেষ্ট ছিলেন। তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের সচেষ্ট ষড়যন্ত্রের কারণে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র-প্রতিমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে একই দণ্ড তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ারও পাওয়া উচিৎ।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, যেহেতু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সংঘটিত করার জন্য একাধিকবার যারা বৈঠক করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম পরিকল্পক এবং পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আদালতে তারেক রহমানের নাম উঠে এসেছে, ফলে এ মামলায় তারেক রহমানের মৃত্যুদণ্ডই যথোপযোগী সাজা।

এছাড়া, আদালত যেহেতু বলেছেন, রাষ্ট্রের সহায়তাতেই গ্রেনেড হামলা সংঘটিত হয়েছিলো। ফলে এ হামলা যদি রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্বে থাকা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর অগোচরেও হয়ে থাকে তবে সেই দায় অন্তত প্রধানমন্ত্রী এড়াতে পারেন না। উপরন্তু এই হামলার আলামত নষ্ট করতে তৎকলীন প্রধানমন্ত্রীর তৎপরতাও যেহেতু আদালত কর্তৃক প্রমাণিত, ফলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ফাঁসি হলে একই শাস্তি খালেদা জিয়ারও পাওয়া উচিৎ।বাংলা নিউজ পোস্ট।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ