নিখোঁজের ৪দিন পর স্কুল দপ্তরির গলাকাটা লাশ উদ্ধার

নিখোঁজের ৪দিন পর স্কুল দপ্তরির গলাকাটা লাশ উদ্ধার

ভাগ

বিশেষ প্রতিবেদক:

নিখোঁজের ৪ দিন পর নাফ নদী থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যং আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরির বস্তাবন্দি গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং এলাকাস্থ নাফ নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়ে।

নিহত ব্যক্তির নাম মো: রশিদ(৩৫)। তিনি স্থানীয় মৃত জাফর আলমের পুত্র।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রণজিত কুমার বড়ুয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নাফ নদীতে একটি বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় জেলেরা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সুরতাহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে অভিযোগ দেয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা তা মামলা হিসেবে রুজু করবো।

এদিকে রশিদের হত্যাকান্ড নিয়ে দুটি তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সূত্র দুটি নিয়ে এগিয়ে গেলে হত্যাকান্ডের আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। একটি সূত্র দাবি করেছেন, হোয়াইক্যং বাজারের দু’টি মার্কেটের কেয়ারটেকার ছিলো রশিদ। একটি মার্কেটে তার বিকাশের এজেন্টের দোকানও ছিলো। স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা নিয়মিত আসা যাওয়া করতো তার দোকানে। রোহিঙ্গাদের সাথে লেনদেন হতো লক্ষ লক্ষ টাকার। মাঝে মধ্যে টাকাা পয়সার লেনদেন নিয়ে বাকবিতান্ডও হতো। ধারনা করা হচ্ছে রোহিঙ্গারাই তাকে হত্যা করেছে।

অপর একটি সূত্র দাবি করেছেন, রশিদ যে মার্কেটের কেয়ার টেকার ছিলো সে মার্কেটের মালিক মুসার লেনদেন ভাল ছিলো না। তিনি বিভিন্ন সময় পাওনাদারের সাথে প্রতারণা করতেন। আর এসব বিষয়গুলো নিহত রশিদ সমধান করে দিতেন। এতে অনেক সময় মুসার প্রতিপক্ষরা রশিদেরও প্রতিপক্ষ হয়ে যেত। ক্ষোভের কারণে হয়তো তারাই এই হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে বলেও এ সূত্রটি দাবি করেছেন। তবে এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন কোন কথা বলা হয়নি।

তবে নিহতের চাচাতো ভাই সানা উল্লাহ জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুটি শুধু শুধু বলা হচ্ছে। আসলে স্থানীয়রা আমার ভাইকে হত্যা করেছে বলে ধারনা করছি। তিনি বলেন, গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসা থেকে বের হন রশিদ। এরপর থেকে খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়ার পরও কোন হদিস মেলেনি।
তিনি বলেন, আামর ভাই হোয়াইক্যং আলী আাছিয়া উচ্ছ বিদ্যালয়ের দপ্তরির পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক মুসার ব্যক্তিগত সহকারিও ছিলেন। আমার ভাইয়ের কারণে স্যারের প্রতিপক্ষরা স্যারের ক্ষতি করার সাহস পেতনা। আমরা ধরনা করছি মুসা স্যারের প্রতিপক্ষরাই পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে খুন করেছে।

হোয়াইক্যং আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল চৌধুরী মুসা জানান, গত ২২ বছর ধরে রশিদ আমার স্কুলে চাকুরি করছে। কেউ কোন দিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। তার পরিবারও আমাকে নিশ্চিত করেছে রশিদের কোন শত্রু নেই। তার নিখোঁজের পরের দিন ১৫ অক্টোবর আমি নিজে তার নবম শ্রেণীর ছাত্র মাহবুব হাসান রাশেদকে বাদি করে একটি ডায়রি করি। যার নং ৬৮৭/১৮। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নাফ নদীতে মরদেহ দেখতে পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আমরা এটি রশিদের লাশ হিসেবে সনাক্ত করেছি।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি সুব্রত ধর বলেন, জেলেদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উনছিপ্রাং সংলগ্ন নাফ নদীতে গিয়ে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করি। লাশের গলাকাটা এবং বাম চোখ তুলে ফেলা হয়েছে। তার একটি বাম পায়ের রগ কাটা রয়েছে। মাথায়ও আঘাত রয়েছে। হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উৎঘাটনে কাজ করবে পুলিশ।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ