খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের অবদান

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের অবদান

ভাগ

খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে বাংলাদেশ বড় সাফল্য দেখিয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি কমতে থাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, খরা, লবণাক্ততাসহ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ।

বিশ্বক্ষুধা সূচক বা গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জি এইচ আই)-২০১৭ রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা এবং অপুষ্টির মাত্রা ২০০০ সালে যা ছিল, তার থেকে ২৭ শতাংশ কমে গেছে। ২০১৭ সালে গড় বিশ্বক্ষুধা সূচক বা জি এইচ আই স্কোর ২১.৮তে এসেছে, যা কি-না ২০০০ সালে ২৯.৯ ছিল। বলা হচ্ছে, এই সূচক কমার ফলে চারটি জি এইচ আই স্কোর- অপুষ্টির ব্যাপকতা, বয়স অনুযায়ী শিশুর কম বৃদ্ধি, উচ্চতা অনুযায়ী শিশুর ওজন এবং শিশু মৃত্যুর হার- এর ক্ষেত্রসমূহে উন্নতি হয়েছে।

বর্তমানে দেশে খাদ্য মজুদের পরিমাণ প্রায় ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন। ২০০৯ সালে খাদ্য গুদামজাত সক্ষমতা ছিল ১৭ লক্ষ মেট্রিক টন, ২০১৭ সালে বেড়ে ২৪ লক্ষ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। বিগত ৯ বছরে কৃষককে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া গত নয় বছরে বিএডিসি বিভিন্ন ফসলের ১০.৫২ লক্ষ মেট্রিক টন মান সম্পন্ন বীজ কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করেছে। ডাল, তেল, মসলাসহ ২৪ প্রকার ফসল উৎপাদনের জন্য মাত্র ৪% সুদে সরকার কৃষকদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করেছে। কৃষকদের জন্য মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে সরকার প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ও চাল ক্রয় করছে। ২০১৫ সালে দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তাছাড়া সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বছরের ৬ মাস ৫০ লক্ষ পরিবারকে ১০ টাকা মূল্যে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দিচ্ছে।

কৃষিখাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে ‘ই-ভিলেজ’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প চালু হয়েছে যা কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে। এটি একটি ডিজিটাল ডিভাইস যার মাধ্যমে একজন সাধারণ কৃষক জানতে পারবে জমিতে কতটুকু সার, কতটুকু কীটনাশক লাগবে, কখন পানি দিতে হবে এবং রোগ বালাই চিহ্নিত করাসহ যথাসময়ে প্রতিকারের মাধ্যমে অনেকাংশে লাভবান হবে। সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের আওতায় কৃষি খাতকে ডিজিটালাইজেশনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তাছাড়া সারাদেশে ৩ কোটি কৃষকের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরী করা হচ্ছে যার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে দ্রুত পৌঁছে যাবে কৃষি বিষয়ক সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজনীয় সেবা। সরকারের এ সকল পদক্ষেপের কারণেই খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সূত্র- আমার বাংলা

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ