একজন শেখ হাসিনা: প্রগতি ও মানবতা যেখানে একাকার

একজন শেখ হাসিনা: প্রগতি ও মানবতা যেখানে একাকার

ভাগ

ডেক্স নিউজঃ

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই উপমহাদেশ কেন্দ্রিক মৌলিক রাজনীতির সূচনা হয় মূলত ‘৪৭ এর দেশভাগের মাধ্যমে দুটি দেশ- ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে। সেই ঐতিহাসিক ৪৭ এর ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন দক্ষিণ এশিয়া তথা সমগ্র বিশ্বে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ এর রাজনৈতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। কিন্তু বিশ্ব রাজনৈতিক মঞ্চে শেখ হাসিনা নিজস্ব রাজনৈতিক গুণাবলী ও দূরদর্শিতা দিয়ে এক অনন্য প্রভাবশালী নারী নেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে নিয়েছেন।

শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় মূলত ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকালে দলের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ এর সর্বোচ্চ তিন বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার পদচারণা শুরু হয় মূলত ১৯৯৯ সালে তার একান্ত  উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারির স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে। পরে ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ এর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব জাতিসংঘ  সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে উত্থাপন করেছিলেন।  অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাবটি পাস হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য  অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি অর্জন করেন শেখ হাসিনা। একই বছরে ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এফ এ ও থেকে ‘সেরেস পদক’ লাভ করেন শেখ হাসিনা।

বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নে অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে ২০০০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রর ‘University of Bridgeport’  ‘Doctor of Humane Letters’ প্রদান করে। ২০০৫ সালে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শান্তির পক্ষে অবদান রাখার জন্য জুন মাসে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি অব রাশিয়া।

একজন আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশরত্ন শেখ হাসিনা গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এমডিজি) বাস্তবায়নে তাঁর সরকার অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। এমডিজির ৮ টি লক্ষ্য মাত্রার মধ্যে ৬ টি পূরণ করেছে এবং দুইটির জন্য প্রশংসিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীর কয়েকজন নেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন যিনি কিনা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা (এমডিজি) ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা উভয়েরই চূড়ান্তকরণ সভায় উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছেন। ২০১০ সালে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করার লক্ষ্য MDG-4 অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ শেখ হাসিনাকে MDG ( Millennium Development Goal) Award প্রদান করে।

২০১১ সালে ইংল্যান্ডের হাউস অব কমন্সের স্পিকার Jhon Bercow MP গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনবদ্য অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে Global Diversity Award প্রদান করেন।

একই বছরে স্বাস্থ্যখাতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নারী ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য International Telecommunication union (ITU) South South News এবং জাতিসংঘের আফ্রিকা সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কমিশন যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে South South Award 2011: Digital Development Health পুরস্কারে ভূষিত করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের জন্য বাংলাদেশ সহ তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলো  মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে- বিষয়টি আমলে নিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনা বেশকিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ঐ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত করে জাতিসংঘ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। রাজনীতিতে নারী পুরুষের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের জন্য ২০১৫ সালের  ২৫ মার্চ ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায়  WIP (Women in Parliament) Global Award লাভ করেন শেখ হাসিনা।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং ১০ লাখের ও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন শেখ হাসিনা, ফলশ্রুতিতে শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করেছে বিশ্ববাসী।

শেখ হাসিনা তার নেতৃত্ব গুণাবলী দিয়ে বিশ্বমঞ্চে খুব ভালো ভাবেই ঠাঁই করে নিয়েছেন। শেখ হাসিনা ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় ৭ম স্থানে ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস্ সাময়িকীর অনলাইন জরিপে তিনি বিশ্বের সেরা দশ ক্ষমতাধর নারীদের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থানে ছিলেন। ২০১৫ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫৯তম স্থানে আছেন। ২০১৪ সালে এই তালিকায় শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল ৪৭তম। তিনি  ফরচুন সাময়িকী ২০১৬ এ বিশ্বের ৫০ জন প্রভাবশালীদের মধ্যে ১০ম স্থানে নাম করে নিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ‘ফরেন পলিসি’, শেখ হাসিনাকে ‘ডিসিশন মেকার’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১৩ বুদ্ধিজীবির তালিকায় স্থান দিয়েছে, বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় দেশরত্ন শেখ হাসিনা ‘ফোর্বস’ সাময়িকীতে বিশ্বের ৩৬ তম ক্ষমতাধর নারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্ব রাজনীতিতে এই অসামান্য অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে নারী রাজনীতির পথিকৃৎ বলেও অনেকেই অভিহিত করেন। সূত্র-অদ্বিতীয় বাংলা

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ