কক্সবাজারের চার শিক্ষার্থী রাঙ্গামাটিতে

কক্সবাজারের চার শিক্ষার্থী রাঙ্গামাটিতে

ভাগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থীর সন্ধান মিলেছে। পার্বত্য রাঙ্গামাটি সদরের রিজার্ব বাজার এলাকার হোটেল রাজু নামক এক আবাসিক হোটেলে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে স্থানীয় একটি মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ তুলে তাদের বিষয়ে সবিশেষ জেনেছে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও প্রশাসন।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো, কক্সবাজার পৌর শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা ও কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মৌলভী জহির আহমদের ছেলে সাইয়েদ নকীব, বাসটার্মিনাল এলাকার আকতার কামাল চৌধুরীর ছেলে শাহরিয়ার কামাল সাকিব ও একই এলাকার ফয়েজুল ইসলামের ছেলে শাফিন নূর ইসলাম এবং বাজারঘাটা এলাকার এড. আব্দুল আমিনের বড় ছেলে এইচ এ গালিব উদ্দিন।
তারা সকলেই কক্সবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। এবং রোববার সকালে প্রাইভেট ও স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে এ চার শিক্ষার্থী রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) কামরুল আজম বলেন, রোববার সকালে প্রাইভেট ও স্কুলের জন্য বেরিয়ে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে না আসায় রাতে শহরের মাইকিং করা হয়। পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ ৪ শিক্ষার্থী রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজের কথা উল্লেখ করে সোমবার সকালে থানায় জিডি করেছেন চার শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
তিনি আরো জানান, এরপরই বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে চার শিক্ষার্থী রাঙ্গামাটির রিজার্ব বাজার এলাকায় আবাসিক হোটেল রাজুতে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত হয়। সংখ্যায় তারা চারজন হলেও সাকিব নামে এক শিক্ষার্থীর নামে রুম বুকিং করা হয়। রাঙ্গামাটি সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ চলছে।
রাঙ্গামাটি পুলিশের বরাত দিয়ে ওসি আজম আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তারা স্বইচ্ছায় চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি এলাকায় বেড়াতে গেছে। তাদের সাথে ফুটবলসহ খেলার নানা সরঞ্জাম রয়েছে।
সাইয়েদ নকীবের বাবা মৌলভী জহির আহমদ বলেন, নকীবের সাথে রোববার সর্বশেষ ১১টায় মোবাইলে কথা হয়। প্রাইভেটের টাকা দেয়ার জন্য সকালে ৬০০ টাকাও নিয়েছিল সে। ১২টায় স্কুল থাকলেও সে স্কুলে যায়নি বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি তার মতো আরো তিন শিক্ষার্থী স্কুলে যায়নি এবং রহস্যজনক ভাবে তারা নিখোঁজ থাকে।
কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইব্রাহিম জানান, রোববার নকীব, সাকিব ও  শাফিন এবং গালিব কেউ স্কুলে আসেনি। বিকেলে তাদের পরিবার থেকে যোগাযোগ করা হলে নিখোঁজের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। রাত অবধি বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও না পেয়ে সোমবার সকালে সবাই মিলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। এবং প্রশাসনে দ্রুত চেষ্টায় তাদের খোঁজ বের করে দিয়েছে।
গালিবের বাবা এড. আব্দুল আমিন বলেন, বড় ভয়ে ছিলাম। কারণ চারপাশে প্রতিদিন অপহরণসহ নানা ভয়ানক খবরের জন্ম হচ্ছে। এরকম কোন পরিস্থিতির মুখোমুখী হচ্ছি কিনা এ নিয়ে সব পরিবার চরম উদ্বিগ্নতায় সদয় পার করেছি। সবাইকে অক্ষত অবস্থায় এক সাথে রাঙ্গামাটিতে পাওয়া গেছে এটাই শোকরিয়া। এমন ঘটনার মুখোমুখী যেন অন্য অভিভাবককে না হতে হয়, সেজন্য সন্তানদের প্রতি আরো নজর দিতে সব বাবা-মাকে অনুরোধ জানান তিনি।
ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ