জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ফাঁসি দেয়া হয় কর্নেল তাহেরকে

জিয়াউর রহমানের নির্দেশে ফাঁসি দেয়া হয় কর্নেল তাহেরকে

ভাগ

নিউজ ডেস্ক :

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নির্ধারিত তারিখে হাজিরা না দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুবিধার্থে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বিচার কার্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আদালত।  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি সেখানেই কারান্তরীণ আছেন।  কারাগারে বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্তে বিএনপি ‘সংবিধান বহিঃর্ভূত’ বললেও তা আসলে অসংবিধানিক নয়।  কেননা সংবিধানের কোথাও এ সংক্রান্ত বিধি-নিষেধের উল্লেখ নেই।  বরং এর আগে কৌশলে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দিতে কারাগারে আদালত বসিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।  সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, জিয়াউর রহমান যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন তা কেবল নিজের স্বার্থে, আর বিএনপি হয়তো সেই ভয়েই অস্থির হয়ে উঠেছে।

তৎকালীন সময়ে কার্নেল তাহেরের অবৈধ ফাঁসি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন আমেরিকান সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ।  পরে তাকে এই মামলায় আদালতে তলব করা হলে তিনি সাক্ষ্য দেন।  তার বক্তবের কয়েকটি বাক্য নিম্নরূপ:

‘তথাকথিত বিচারের নামে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল (অব.) আবু তাহের বীর উত্তমকে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

কারাগারে আদালত বসিয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান ষড়যন্ত্র করে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলানোর বিষয়ে আমেরিকান সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ বলেন, ‘জিয়া মনে করতেন কর্নেল তাহের তার পথে বড় বাধা।  এ কারণে তাকে তথাকথিত বিচারের নামে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।  গোপন আদালতের বিচারে লে. কর্নেল এম এ তাহেরের মৃত্যুদণ্ড একটি হত্যাকাণ্ড বলেও উল্লেখ করেন তিনি।  লিফশুলজ আরো বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান হত্যায় একজন জড়িত থাকলে তিনি জিয়া।’

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের স্বধীনতার বিরুদ্ধে অনেক রকম ষড়যন্ত্র হয়েছিল।  তখন ভারতে বসে খন্দকার মোস্তাকসহ একটি চক্র এই ষড়যন্ত্রের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।  ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিলো স্বাধীনতার পরও।  যে কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনা লগ্নে ক্যু এবং রাষ্ট্র প্রধানকে হত্যার আলোচনা, কানাঘুষা সেনাবাহিনীর মধ্যে একরকম ওপেন সিক্রেট ছিলো।  এই কানাঘুষা আরো গতি পায় ১৯৭৩ সালে- যখন পাকিস্তান থেকে আটকে পড়া সৈনিক ও কর্মকর্তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

কর্নেল তাহের এই কানাঘুষাকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলেন।  তিনি এটা ফাঁস করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং বলতে গেলে ফাঁসও করেছিলেন।  তবে তখনকার বাস্তবতায় কর্নেল তাহেরের ফাঁস করা তথ্যটির বিষয়ে রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারের অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কোন পাত্তা দেননি।  বরং সেনাবাহিনীর মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তারা অনেকে কর্নেল তাহেরকে ‘বাচাল’ আখ্যা দিয়ে তার দেয়া তথ্য সরকারের উপর মহলে সফলভাবে গুরুত্বহীন করে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে ১৯৭২ সালে কর্নেল তাহের যখন সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, তখন পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছিলেন যে, দেশে রাষ্ট্র প্রধানকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছিল এবং তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান তা জানতেন।  আর এই তথ্য চিরতরে সরাতে জিয়াউর রহমান কারাগারে আদালত বসিয়ে কার্নেল তাহেরকে কৌশলে ফাঁসিতে ঝোলান।সূত্র-বাংলা নিউজ পোস্ট।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ