নেতৃত্ব সঙ্কটে বিএনপি: কে আসবে নেতৃত্বে জোবায়দা নাকি শর্মিলা?

নেতৃত্ব সঙ্কটে বিএনপি: কে আসবে নেতৃত্বে জোবায়দা নাকি শর্মিলা?

ভাগ

ডেক্স নিউজঃ

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দলীয় চেয়ারপারসন সাত মাস যাবৎ জেলে ও দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান গত ১০ বছর ধরে দেশের বাইরে লন্ডনে পলাতক। তাদের  দুজনের বিরুদ্ধেই বেশকটি দুর্নীতির মামলা বর্তমানে চলমান। তীব্র নেতৃত্ব সংকটের কারণে বিএনপি এখন অনেকটা দিশেহারা। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দলটি সিদ্বান্তহীনতায় তৃণমূলে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

এতে আগামী নির্বাচনে দলকে টেনে নেয়ার মতো নেতৃত্ব থাকলেও ভোটের মাঠে সেটা ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনায় আছেন জিয়ার দুই পুত্রবধূ তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। তাদের মধ্যে যে কেউ দলের হাল ধরতে পারেন- গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন গুঞ্জন চলছে। শিগগিরই এক পুত্রবধূকে নিয়ে প্রচারাভিযানে নামতে পারে বিএনপি।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কে আসবেন বিএনপির হাল ধরতে, এই ব্যাপার নিয়ে অনেকদিন ধরেই দলের মধ্যে একধরণের অন্তঃকোন্দল চলে আসছে। দলের এক পক্ষ তারেক জিয়ার স্ত্রী জোবাইদাকে নেতৃত্বে দেখতে চায় । ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির কারণে জোবাইদা রহমানকেই প্রথম পছন্দ দলের। তিনি রাজনীতিতে এলে বিএনপির ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে বলে মত জ্যেষ্ঠ নেতাদের। জামিনে মুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেলেও শারীরিক অবস্থার কারণেই সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়া কঠিন হবে খালেদা জিয়ার। আর সেক্ষেত্রে ডা. জোবাইদার ইতিবাচক ইমেজ কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।

তবে শুধু জোবাইদায় নয় শর্মিলা রহমান সিঁথি রাজনীতির ব্যাপারে আগ্রহ না দেখালেও সময়ের প্রয়োজনে হাইকমান্ডের নির্দেশে দলের নানা কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিঁথির লন্ডন থেকে দেশে আসা, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কয়েকবার কারাগারে সাক্ষাৎ, খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলোচনাসহ তার নানা কর্মকাণ্ড ওই সম্ভাবনা জোরালো করেছে।

তবে জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তিনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন কী না- তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে দলটি। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জোবাইদা রহমান বর্তমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা নিষ্পত্তি না হলে তিনি দেশে ফিরবেন না বলে জানা গেছে। কারণ দেশে ফিরলে তার গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা আছে। জোবাইদা রহমান ও তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালে কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করে দুদক।

দায়িত্বে অবহেলার আশংকা এবং বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারেক জিয়ার অবাধ দুর্নীতির কর্মকান্ডের বিষয়ে অবগত থেকেও তারেককে এসব দুর্নীতি থেকে বিরত রাখার জন্য কোনো পদক্ষেপ না নেবার কারণে, জোবাইদার রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে দলের আরেক পক্ষ সন্দেহ পোষণ করার দরুন জোবাইদার পরিবর্তে শর্মিলাকে নতুন নেতৃত্বে দেখতে চাচ্ছেন।

শেষ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বে কে আসছে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে দলের মধ্যে। সূত্র-অদ্বিতীয় বাংলা।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ