আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র

ভাগ

নিউজ ডেক্সঃ

তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্ব অর্থনীতির উদীয়মান সূর্য। দ্রুত বদলে যাওয়া বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর এই মূল্যায়ন অমূলক নয়। দশ বছর আগে কি বাংলাদেশের অবস্থা এমন ছিল? কেমন ছিল তখনকার বাংলাদেশ?

আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ, স্বাক্ষরতার হার ৭২.৩ শতাংশে উন্নীত হওয়া, সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন, ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা চালু করেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমান সরকারের রয়েছে সাফল্য। ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে।

বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৭ সালের শেষে দারিদ্র্য প্রায় অর্ধেক কমে এখন এই হার দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে।

বিএনপি সরকারের শেষ বছর ২০০৫-২০০৬ সালে দেশে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ ডলার। সেটা প্রায় তিন গুণ বেড়ে এখন হয়েছে ১ হাজার ৬১০ ডলার।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশের বার্ষিক উৎপাদন বা জিডিপির আকার ছিল চার লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগের আমলে এটি পাঁচ গুণেরও বেশি বেড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হয়েছে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায়।

আবার বিএনপি সরকারের আমলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫.৪ শতাংশ। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নেয়ার সময় ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে মূল্যষ্ফীতি ছিল ১২.৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মুল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৫.৮৪ শতাংশে।

বিএনপি আমলের চেয়ে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে চার গুণ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল ০.৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার।

বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগ আমলে চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার হয়েছে প্রাণ সাত গুণ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

বিএনপির শেষ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির তুলনায় বর্তমান অর্থবছরে এটি বেড়েছে আট গুণেরও বেশি। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় এক লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায়।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দিক থেকে দুই আমলের পার্থক্য আরও বেশি। বিএনপির শাসনামলে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে হয়েছে ৩৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার।

দুই সরকারের আমলে প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্সের পার্থক্য প্রায় নয় বিলিয়ন ডলার। বিএনপির শেষ বছর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রেমিটেন্স এসেছে ৪.৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এটা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৫৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন বদলের সনদ হিসেবে জাতির সামনে রূপকল্প ২০২১ উপস্থাপন করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এরপর থেকে সত্যিই ম্যাজিকের মতো দ্রুত বাংলাদেশের দিন বদলে যেতে থাকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এই উন্নয়নের ধারা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। বিশ্বের ১১ উদীয়মান অর্থনীতির দেশের তালিকায় আছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।সূত্র-অদ্বিতীয় বাংলা

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ