বাস্তবায়নের পথে ৯ দফা দাবি, ঘরে ফিরছে সাধারন শিক্ষার্থীরা

বাস্তবায়নের পথে ৯ দফা দাবি, ঘরে ফিরছে সাধারন শিক্ষার্থীরা

ভাগ

ডেক্স  রিপোর্টসঃ

স্বাধীনতার পর প্রথম বারের মতো বাংলাদেশ কিশোর বিপ্লবের স্বাক্ষী হয়েছে। হঠাৎ করেই যেন কবি সুকান্তের ‘১৮ বছর বয়স’ নেমে এসেছে রাজধানীসহ সারা দেশজুড়ে। কিশোর বিপ্লবের উত্তাল হাওয়ায় বেশ কিছু যৌক্তিক দাবি উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে তাদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করে তাদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সরকার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ।

গত ২৯ জুলাই বাসচাপায় দুই ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যুর পর টানা পাঁচ দিন সড়কে বিক্ষোভ করে নিজেদের দাবি বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রায় সবগুলো দাবিই বাস্তবায়নের পথে।

শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে প্রধান দাবি ছিল, বেপরোয়া চালককে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।

এই দাবি বাস্তবায়নে দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়া ওই বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাবালে নূর পরিবহনের মালিককেও। মামলায় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধ জনিত হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে নতুন আইন শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের ২য় দাবি ছিল, নৌ পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল‘ ক্ষমা সুন্দরভাবে দেখতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। নিহত দিয়া খানম মিমের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের কাছেও ক্ষমা চেয়ে এসেছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের ৩য় দাবিটি ছিল, শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএসে ফুটওভার ব্রিজের ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে উক্ত এলাকায় ফুট ওভারব্রিজ অথবা আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের ৪র্থ দাবি ছিল, প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিড ব্রেকার দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

শিক্ষার্থীদের ৫ম দাবি ছিল, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে গণভবনে ডেকে নিয়ে তাদের সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সঞ্চয়পত্র প্রদান করেছেন।

শিক্ষার্থীদের ৬ষ্ট দাবি ছিল, শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে।

শিক্ষার্থীদের এই দাবি মেনে নিয়ে বাস মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের ৭ম দাবিটি ছিল, শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সারাদেশে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া দেয়ার নিয়ম অনেক আগে থেকেই চালু রয়েছে। সর্বত্র এই আইন মানতে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

শিক্ষার্থীদের ৮ম দাবিটি ছিল, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে।

ফিটনেস বিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালানো বন্ধ করতে অনেকদিন ধরেই কার্যক্রম চালু রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তবুও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে পুনরায় এই দাবি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের ৯ম এবং সর্বশেষ দাবিটি ছিল, বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

বাস মালিকদের অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সবশেষে দাবি পূরণ হওয়ায় এখন শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের ফেরাতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দাবি পূরণ হয়ে যাওয়াতে অধিকাংশ আন্দোলনকারীরা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।সূত্র-আমার বাংলা

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ