৫ মেয়র প্রার্থীর ৪ জনই বর্জন করলেন কক্সবাজার পৌর নির্বাচন

৫ মেয়র প্রার্থীর ৪ জনই বর্জন করলেন কক্সবাজার পৌর নির্বাচন

ভাগ

বিশেষ প্রতিবেদক:
সাড়ে ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে আবারো শনিরদশা আসছে। বুধবার অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে একযোগে চার মেয়রপ্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামীলীগ প্রার্থী ছাড়া বাকি চার প্রার্থীই একযোগে বর্জনের ঘোষণা দেয়ার কথা প্রচার পাওয়ায় সামনের দিনে পৌর পরিষদ নিয়ে আবার কি নির্দেশনা আসছে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন পৌরবাসী।
তথ্যমতে, কক্সবাজার পৌরসভার অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ৫ জন মেয়র প্রার্থী অংশনেন। এদের মাঝে আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মুজিবুর রহমান ছাড়া বাকি ৪ জনই নির্বাচন বর্জন করে পূণ: নির্বাচনের দাবী জানিয়েছেন।
ভোট ডাকাতি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান, নৌকা প্রতীকে জোর করে সীল মারা, এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে বুধবার বিকেল ৩ টায় ওই ৪ মেয়র প্রার্থী পৃথক পৃথকভাবে ওই ঘোষনা দেয়।
এদের মাঝে, ১৯টি ভোটকেন্দ্রে নজির বিহীন ভোট ডাকাতি এবং বাকি ২০ টি কেন্দ্রে ব্যালেট পেপার সংগ্রহ করা হয়নি অভিযোগ তুলে কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পুণ: নির্বাচনের দাবী জানিয়েছেন।
তার মতে, ৩৯ ভোট কেন্দ্রের সব কটিতেই সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। তারা (আওয়ামীলীগ দলীয়রা) নিজেরাই ভোট দিয়ে বাক্সভর্তি করে। বিকেল সাড়ে তিনটায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি সভপতি সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা সম্পাদক এড শামীম আরা স্বপ্না ও ইউসুফ বদরী।
একই সময়ে একই ধরনের অভিযোগে পৌরসভার তারাবনিয়ার ছড়ায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে করে ভোট বর্জণের ঘোষনা দিয়ে পূণ:নির্বাচনের দাবী তুলেন নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী জামায়াত নেতা সরওয়ার কামাল।
তিনি বলেন, এমন কোন কেন্দ্র নেই যেখানে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অনিয়েমের আশ্রয় নেয়া হয়নি। অনেক কেন্দ্রে ভোট দানের গোপন কক্ষ বলতে কিছু ছিল ‍না। প্রকাশ্যে সিল মারতে হয়েছে। যা নজিরবিহীন। সাধারণের ভোটাধিকার হরণ করে গাজীপুর খূলনার মতো নির্বাচন হয়েছে। নৌকা প্রতীক জিতিয়ে আনতে ব্যবহার করে করা হয়েছে প্রশাসন যন্ত্র। তাই ভোট ডাকাতির এই নির্বাচন বাতিল করে করে সুষ্টু নিরপেক্ষ আয়োজন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানান। তিনি বৃষ্টির মাঝেও যারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে গিয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানান।
একই অভিযোগে এবং একই সময়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টীর মেয়র প্রার্থী রুহুল আমিন সিকদার ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা জাহেদুর রহমানও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা নিজের ফেসবুক পেজসহ অন্যান্য মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
তবে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ভোট গ্রহণ শেষ হবার একটু আগে এমন প্রলাপ বকেছেন ওই ৪ মেয়র প্রার্থী।  এমনটি দাবী করে  আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেছেন, ভোটগ্রহণে আওয়ামী লীগ কোনো অনিয়ম করেনি। প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোট নেয়া হয়েছে। এতে নৌকা প্রতীকের লোকজন কোনো প্রভাব বিস্তার করে ব্যাঘাত ঘটায়নি।
প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা নৌকার পক্ষে গণজোয়ার দেখে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলছেন দাবি করে মুজিবুর রহমান আরো বলেন, ভোটারদের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা। তাদের রায়েই আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো। ফলে আমার ব্যালেট ডাকাতির প্রয়োজন পড়েনি। আমরা শেষ সময় পর্যন্ত সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি।
কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলি সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, দেশী ও বিদেশী পর্যবেক্ষকদের অবাধ উপস্থিতির মধ্য দিয়েই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে।
ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ