চাদাঁবাজী করতে গিয়ে গনধোলাইয়ের শিকার আনসার বিপ্লব !

চাদাঁবাজী করতে গিয়ে গনধোলাইয়ের শিকার আনসার বিপ্লব !

ভাগ

বিশেষ প্রতিবেদক
মাদক কারবারী, জুয়ার আসর, ছিনতাইকারী, আচার বিক্রেতা, স্ক্রাপের দোকান ও  বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী সহ অনৈতিক কাজে জড়িত শহরের হোটেল ও কটেজ পল্লী থেকে নিয়মিত এবং মাসিক মাসোয়ারা আদায় করে কক্সবাজার সদর থানায় বিশেষ আনসার হিসেবে কর্মরত মাজেদুল ইসলাম বিপ্লব। সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকারের নাম ব্যবহার তিনি এভাবে চাঁদাবাজি করছে। আর ১৩ জুলাই বড়বাজার পশ্চিম রাখাইন পাড়ায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাইও খেয়েছেন বিপ্লব। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে আনে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৭ মার্চ মাজেদুল ইসলাম সদর থানায় বিশেষ আনসার হিসেবে যোগদান করেছেন। কিন্তু যোগদানের পর থেকে তিনি কখনো নাইট ডিউটি, ডে ডিউটি কিংবা পেট্রোল ডিউটি কিংবা সিসি মূলে কোন দায়িত্ব পালন করেননি। তবে নিয়মতিভাবে শহরের বড়বাজার রাখাইন পশ্চিম ও পূর্ব পাড়া, টেকপাড়ার হাঙ্গর পাড়া, বৌদ্ধ মন্দির ও গোলদিঘীর রাখাইন পাড়ার মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার পাশাপাশি শহরের লালদিঘীরপাড়ের ও কলাতলীর জোনের জুয়ার আসর ও অনৈতিককাজে জড়িত বিভিন্ন  হোটেল থেকে মাসিক মাসোয়ারা আদায় করে বিপ্লব। এছাড়া তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজীর অভিযোগে তাকে মাস তিনেক সদর থানা থেকে বদলী করা হয়। তবে  সদর থানার একজন ওসির আশীর্বাদে সেই বদলিও ঠেকান বিপ্লব। আর ওই বদলী ঠেকানোর পর বিপ্লব আরো বেপোরোয়াভাবে চাদাঁবাজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
সরকারী একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য মতে, হাঙ্গরপাড়ার মদ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩০ হাজার,  বড়বাজার পূর্ব রাখাইনপাড়ার ৪ জন মাদক কারবারীর কাছ থেকে ৩০ হাজার, পশ্চিম রাখাইনপাড়ার মাদক ব্যবসার জড়িত ১৩ টি পরিবারের কাছ থেকে ৩৮ হাজার টাকা, গোলদিঘীর ও বৌদ্ধ মন্দির এলাকার মদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা, অনৈতিক কাজে জড়িত বিভিন্ন হোটেল ও কটেজ থেকে মাসিক ১৫/২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে বিপ্লব। এছাড়া লালদিঘীরপাড়ের পশ্চিম পাড়ের চিহ্নিত ৩ টি হোটেল থেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার মাসোয়ারা নেন তিনি। এর বাইরে প্রায়ই সময় টাকার জন্য এইসব স্থানে হানা দেয় বিপ্লব। তাছাড়া গাড়ির মাঠ ও সমিতি পাড়ার স্ক্রাপের দোকান  ও নকল আচার বিক্রেতাদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়ে ভুলে না তিনি। এছাড়া বিপ্লব মাদকসেবী হিসেবে কর্মরত আনসার সদস্য ও পুলিশের কাছে পরিচিত।
এদিকে ১৩ জুলাই শুক্রবার রাত ১০ টায় শহরের বড়বাজারের পশ্চিম রাখাইন পাড়ায় চাদাঁবাজি করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয় বিপ্লব। সেসময় তাকে মারধর করে বেধে রাখে জনগন। পরে সদর থানা এস. আই রাজীব পোদ্দার ও শহর  পুলিশ ফাড়ির এটিএসআই আরজু, জলযান পুলিশের কনস্টেবল মানিক, ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আমিনুল ইসলাম মুকুল সহ একদল পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আনে। এর আগেও শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা সংগ্রহ করতে গিয়ে  লাঞ্চিত হয়েছে ওই আনসার সদস্য।
এ বিষয়ে শহর পুলিশ ফাড়ির এটিএসআই আরজু বলেন, সেদিন বড় বাজারে সালাম মার্কেটে পেছনে গন্ডগোল হয়েছে খবর পেয়ে আমি স্গংীয় ফোর্স নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে সেখানে কি হয়েছে আমি জানি না। এ বিষয়ে জানতে পারবেন সদর থানার এস আই রাজীব পোদ্দারের কাছে।
এবিষয়ে সদর থানার এস আই রাজীব পোদ্দার বলেন, আমি ঘটনাস্থলে পৌছে পুলিশ ফাড়ির এটিএসআই আরজুকে উপস্থিত পায়। তাই ঘটনাস্থলে থাকলেও আমি বিষয়টি নিয়ে ওভাবে জানার চেষ্টা করেনি। তবে শুনেছি আনসার বিপ্লবের সাথে এলাকাবাসীর ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তা সমজোতা হয়।
কিন্তু এ বিষয়ে ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন, আনসার বিপ্লব প্রায়ই সময় রাখাইনপাড়ায় চাদাঁবাজী করতে যায় বলে দাবী করেছে এলাকাবাসী। ঘটনার দুই তিনদিন আগেও এলাকা থেকে সে চাঁদা নিয়ে এসেছে। এরপরে আবারো চাঁদার জন্য গেলে তাকে হেনস্তা করে রাখাইনরা । পরে খবর পেয়ে আমি যাই। এরপর পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
আর আনসার সদস্য মাজেদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, চাঁদা আদায়ের ঘটনা নয়। সামন্য ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। পরে সমজোতা হয়েছে। তবে কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে সেটি বলতে রাজি হননি তিনি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, চাঁদাবাজির কারণে নয় মাদকের খোঁজখবর নিতে বিপ্লব ওইদিন সেখানে গিয়েছিল। সেখানে তার সাথে এলাকাবাসীর হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে আনে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ