আওয়ামীলীগের এক পারসেন্ট ভোট আমাকে দিবেন না-বদি

আওয়ামীলীগের এক পারসেন্ট ভোট আমাকে দিবেন না-বদি

ভাগ

বিশেষ প্রতিবেদক:

উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ভোট প্রয়োজন নেই জানিয়ে উখিয়া-টেকনাফের সাংসদ আব্দু রহমান বদি বলেছেন, আমাকে নৌকা দেবেন শেখ হাসিনা। আমি যদি মনোনয়ন পায়, তাহলে উখিয়া আওয়ামীলীগের এক পারসেন্ট ভোট আমাকে দিবেন না। এ কথাগুলো আপনার লিখে রাখবেন। কিন্তু অন্যন্য সাধারণ মানুষের ১৫-২০ পারসেন্ট ভোট আমি পাবো। আমাকে যারা ভোট দেবেন না, আমি তাদের কাছে ভোট চাইতেও যাব না। আমি নৌকার মনোনয়ন নিয়ে আসলে “আপনাদের পেছনে সময় নষ্ট করার সময় আমার থাকবেনা”। কারণ এখানে জনপ্রিয়তা নৌকার, জনপ্রিয়তা ব্যাক্তির নই।

তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি জনপ্রিয়তা ব্যক্তির হয়ে থাকে তবে আপনার প্রমাণ করুন। আমি খুশি হবো।

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উখিয়া উপজেলা যুবলীগ আয়োজিত জেলা যুবলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের এক সংর্বধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি উপরোক্ত কথা বলেছেন।

আব্দু রহমান বদি বলেন, আমাকে সারা দেশে ইয়াবার গড়ফাদার বলে বদনাম করেছে দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপি জামায়াত আমার বদনাম করেনি। আমি যদি চলে যায় তাহলে তারা মনোনয়ন নেবেন! আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ কথা বলেছি। এমন কি সংসদে দাড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছি “যদি কেউ ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত আছি বা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি এমন প্রমাণ দিতে পারে তাহলে এমপি পদ ছেড়ে দেব”। দেশের গোয়েন্দা সংস্থা “ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবি, ডিবি” সবাই আমার বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে। কেউ প্রমাণ বের করতে পারে নি। যার ফলে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক বিবৃতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাকে বঙ্গবন্ধু কন্যা দু’দুইবার সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। আমি ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। এমপি হওয়ার সকল কৃতিত্ব আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, শ্রমিকলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। এখানে আামার কোন কৃতিত্ব নেই। এটি আমি স্বীকার করি। নির্বাচিত হওয়ার পর উখিয়া-টেকনাফে যা কিছু করেছি, সবটুকু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অবদান। আমি কিছু করি নি।

তিনি যুবলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাংগঠনিক পদবী পেছনে আছে বলে সম্মান আপনাদের আছে। যদি পদবী না থাকে তবে সম্মান আপনাদের থাকবে না। আমি যদি এমপি না হলে, আমাকে মানুষ দাওয়াতও দেবে না।
বদি বলেন, আমি উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। মাঠ পর্যায় থেকে এমপি হয়েছি। “শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন আমি তার। যারা আব্দু রহমান বদির বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, আমি যদি মনোনয়ন পায়, আপনাদের কাছে ভোট চাইতেও যাব না”। আপনাদের তোষামেদ করে মনোনয়ন চাইতেও যাবো না। যারা আমাকে বাদ দিয়ে মনোনয়নের চিন্তা করছেন তারা আগে উখিয়ায় কয়টি কেন্দ্র আছে তা মুখস্ত করেন।

বাংলাদেশে অনেক বেইমানের জন্ম হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মনোনয়ন না পেলে জামায়াতের প্লাটফরমে গিয়ে দাড়াবে এমন অনেক নেতা রয়েছে। ভোট করবে না এমন নেতাও আছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেশে যদি নিরপেক্ষ নির্বাচনও হয়, তবে আমি জিতবো। সমগ্র দেশে যে ক’টি আসন আওয়ামীলীগ শতভাগ নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদি, সেখানে আমার আসন ৭৬ নাম্বারে রয়েছে। এটি এমনি এমনি হয়নি।

তাঁর দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ব ব্যাংক উখিয়া-টেকনাফের সকল রাস্তা কালো করা হবে দাবি করে বদি বলেন, “যদি সাহস থাকে তাহলে আপনার ইঞ্জিনিয়ার অফিসে গিয়ে খবর দেখেন”।

তাই সকল ভেদাভেদ ভুল ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মনে করবেন না বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। তাই মনোনয়ন কে পেল, না পেল তা চিন্তা না করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আপনার আমার সমালোচনা না করে সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের প্রচারণা করুন। আমি বিশ্বাস করি “উখিয়া টেকনাফে আওয়ামীলীগ এক কাতারে আসলে বিএনপি পালাবে। তাদেরকে কোথাও খোঁজে পাওয়া যাবে না।

উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মুজিবুল হক আযাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, সংবর্ধিত অতিথি জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহলে আহম্মেদ বাহদুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কবি আদিল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু, সাবেক যুবলীগ সভাপতি সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, কক্সবাজর পৌর যুবলীগ যুগ্ন-আহবায়ক আসাদ উল্লাহ সিআইপি, শাহিদ মোহাম্মদ এমরান, সাবেক কক্সবাজার সরকারি কলেজ সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান রুবেল, সাংবাদিক সায়ীদ আলমগীর, জেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মুনাফ সিকদার, সদর ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি তৈহিদুল ইসলাম, ছাত্রলীগ সভাপতি মগবুল হোসেন মিতুন, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আযাদসহ আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা।

সভা পরিচালনা করেন উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন।

 

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ