ফ্রান্স-বেলজিয়াম : ফাইনালের আগে ফাইনাল

ফ্রান্স-বেলজিয়াম : ফাইনালের আগে ফাইনাল

ভাগ

স্পোর্টস ডেক্স:

‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’- সে কি কথা? ফাইনাল তো ফাইনালই। তার আগে আবার ফাইনাল হয় নাকি? হ্যাঁ, ফাইনালের আগে সেমিফাইনাল হয়। তারও আগে কোয়ার্টার ফাইনাল; কিন্তু ফাইনালের আগে ‘ফাইনাল’ বলে কোন শব্দ নেই খেলাধুলার অভিধানে।

কাগজে-কলমে ফাইনালের আগে ফাইনাল থাকার কথাও নয়। কারণ, ফাইনাল অর্থ ‘শেষ বা চূড়ান্ত’। আর শেষ লড়াই মানেই শিরোপা লড়াই বা শিরোপা যুদ্ধ। তার আগে তাই ফাইনাল হতে পারে না।

কাগজে-কলমে না থাকলেও মানুষের মুখে মুখে কিন্তু ফাইনালের আগে ফাইনাল কথাটির অস্তিত্ব আছে। ফাইনালের আগে দুই ফেবারিটের লড়াইকে বরাবরই খেলাপ্রেমিরা বলেন, ‘আরে এ যে ফাইনালের আগে ফাইনাল!’ মহাদেশীয় কিংবা বিশ্ব আসর যাই বলা হোক না কেন, হোক তা কোপা আমেরিকা, কনফেডারেশন্স কাপ কিংবা বিশ্বকাপ- সেখানে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ ম্যাচও খেলে, সেটাও হয়ে উঠবে বা ওঠে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ।

ওই খেলাকে ঘিরেই তৈরি হবে অন্যরকম আবহাওয়া। বাতাবরন। ভিন্ন এক উন্মাদনা। সাদা-আকাশী আর হলুদ জার্সি যদি একটা গুরুত্বহীন ম্যাচেও মুখোমুখি হয়- তাহলেও সর্বোচ্চ আকর্ষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়।

প্রায় একই অবস্থা ফ্রান্স-বেলজিয়াম ম্যাচের আগেও। ইউরোপের এই দুই দলের সেমির যুদ্ধ যে এখন রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে! অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, ফ্রান্স আর বেলজিয়াম সেফিাইনাল নয়, ‘এটা ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল।’

এটা এক ধরনের অঘোষিত ফাইনাল, প্রথাগত ফাইনালে ফ্রান্স-বেলজিয়াম মোকাবেলা বলেই বোধহয় বেশি ভালো হতো। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিদায় নেওয়ার পর, ওই দুই দলের সমর্থক এবং নিরপেক্ষ ফুটবল অনুরাগীদের বড় অংশ যে, তারা ফ্রান্স-বেলজিয়ামের প্রত্যয়ী নৈপুণ্যে মুগ্ধ। এ মুহূর্তে ফরাসি ও বেলজিকরাই সবচেয়ে জনপ্রিয়। কেউ কেউ এ ম্যাচে ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছে’।

বলার অপেক্ষা রাখে না তারা ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক। মেসির দলকে বিদায় করে শেষ চারে আসা ফ্রান্স হয়ে গেছে এখন ব্রাজিল সমর্থকদের দল। আর নেইমারের ব্রাজিলের বিদায় ঘণ্টা বাজানো বেলজিয়াম এখন আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রথম পছন্দ।

যারা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন, তারা ফ্রান্স বেলজিয়াম ম্যাচে অন্যরকম স্বাদ পাবেন। যদিও অনেকেরই মতো ফ্রান্স-বেলজিয়াম ফাইনাল হলেই সবচেয়ে ভালো হতো; কিন্তু কী আর করা? বিশ্বকাপের ফরমেটটাই যে এমন! কখনো কখনো সেরাদের সেরার লড়াই ফাইনালের আগেই হয়ে যায়।

কারণ এক ও অভিন্ন- ফাইনাল মানেই সাধারণত হিসেবে দুই সেরার লড়াই বা মোকাবেলা। আর এবারের বিশ্বকাপে সেরা দুই দল তো ফ্রান্স বা বেলজিয়ামই। মাঠের খেলাকে মানদণ্ড ধরলে এই দুটো দলই যে সবার সেরা। অনেকেই এবারের বিশ্বকাপকে অঘটনের বিশ্বকাপ বলছেন। কারো কারো কাছে আবার এটা ফেবারিটদের একসাথে বিদায়ের আসরও। ইতিহাস-পরিসংখ্যানও অবশ্য তাই বলছে।

ব্রাজিল, জার্মানি ও আর্জেন্টিনা ছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসেই প্রথমবারের সেমিফাইনাল হচ্ছে এবার। আগে কখনোই যা ঘটেনি, তাই ঘটেছে এবার। তাই এটা বিরল ঘটনার জন্ম দেয়া বিশ্বকাপ। যেখানে সেমিফাইনালের প্রায় নিয়মিত দল জার্মানি, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নেই। এই দুই দলের সেমি ফাইনালে না থাকা বিশ্বকাপের ইতিহাসের বিরলতম ঘটনা, ভক্ত ও সমর্থকদের মনোকষ্টেরও কারণ। তবে সেটাকে অঘটন বা তিন ফেবারিট ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানির চমকের শিকার হয়ে বিদায় বলাও ঠিক হবে না।

কারণ, অন্ধ ভক্ত-সমর্থক আর অতি বড় বোদ্ধা-বিশেষজ্ঞও বলবেন না যে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাই ছিল মাঠের সেরা দল। যদি মাঠের নৈপুণ্যকে মানদণ্ড ধরা হয়, কাগজে-কলমে, তারকা খ্যাতি ও নাম-ডাকের বাইরে শুধু মাঠের পারফরমেন্সকে নিয়ামক ভাবা হয়- তাহলে অনিবার্যভাবেই এবারের বিশ্বকাপে সবার চেয়ে ভালো খেলেছে ফ্রান্স এবং বেলজিয়াম।

তাই ফরাসি ও বেলজিকরা এবার সেরাদের সেরা। অসাধারণ ফুটবল খেলেছে দু’দল। ফরাসি ও বেলজিকদের খেলা দেখে সবাই মুগ্ধ। ইউরোপীয় ঘরানার ফুটবল বলতে যা বোঝায় দু’দল তাই খেলেছে। একেবারে ৯০ মিনিট একই তাল, লয়, ছন্দ ও গতিতে নয়, সময়ের সাথে, পরিবেশ ও প্রতিপক্ষের খেলার ধরণ দেখে দ্রুত কৌশল ও ফর্মেশন পাল্টে নতুন ছক কষা। সর্বোপরি প্রচণ্ড গতির কাউন্টার অ্যাটাকে গোল আদায় এবং এরপর মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং রক্ষণদূর্গ সামলে নেয়া। ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের এই ছকে বাঁধা কৌশলের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেনি অন্য পরাশক্তিগুলো।

ফরাসি লাইনআপে একঝাঁক সময়ের সেরা ফুটবলারের ছড়াছড়ি। গ্রিজম্যান, (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের প্লে মেকার ), কাইলিযান এমবাপে (একটু ডান দিক ঘেঁষে খেলেন, অসাধারণ দ্রুত গতির তুখোড় বল প্লেয়ার), পল পগবা (ডিফেন্স ও অফেন্সের মাঝে সমন্বয়কারী), অলিভিয়ের জিরু (পারফেক্ট স্ট্রাইকার), সেন্টাল ডিফেন্সে রিয়াল মাদিদ্রের মূল স্তম্ভ রাফায়েল ভারানে, উইং-ব্যাক স্যামুয়েল উমতিতি (বার্সেলোনার ডিফেন্ডার), জুভেন্টাসের লেইস মাতুইদি আর বেঞ্জামিন পাভার্ড- সবাই মেধাবী। ক্লাব ফুটবলে বড় বড় দলে খেলা এই সব তারকারা প্রায় প্রতি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে জ্বলে ওঠায় বিশ্বখ্যাত সুগন্ধির মত ফরাসি ফুটবলও এবার সৌরভ ছড়িয়েছে।

অন্যদিকে বেলজিয়ামও কম যায় না। তাদেরও আছে অন্তত তিন-চার জন বিশ্বমানের ফুটবলার। সবার আগে যার কথা চলে আসে তিনি, থিবাট কুরতোয়া। গোলরক্ষক। চেলসির সাড়ে ছয় ফুট উচ্চতার দীর্ঘদেহী এ গোলরক্ষক বেলজিকদের বড় ভরসা এবং আস্থার জায়গা। রক্ষণভাগটাও বেশ সুবিন্যস্ত। ফাঁক ফোকর কম। আর মাঝ মাঠে মারুয়ানে ফেলাইনি একাই একশো।

এ বেলজিক সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার পুরো মাঝ মাঠ চষে বেড়ান। ইংলিশ লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা ফেলাইনি ৯০ মিনিট প্রায় একই গতিতে খেলেন। যার দমের ঘাটতি দেখ যায় না। সাথে আক্রমণ ভাগের তিন তুরুপের তাস ইডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু আর কেভিন ডি ব্রুয়েন। তিনজনই প্রায় সমান মেধাবী ও কার্যকর। তবে প্রত্যেকের খেলার ধরণ ভিন্ন। এ কারণেই বেলজিকদের আক্রমণ বেশি ধারালো।

লুকাকু একাই যে কোনো রক্ষণভাগকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলতে পারেন। বল পায়ে রাখতে পারেন। শারীরিক সক্ষমতা লুকাকুর বড় প্লাস পয়েণ্ট। শক্ত ও গাট্রা-গোট্রা গড়নের। বল পায়ে প্রচণ্ড গতিতে এগিয়ে চলতে পারেন। তার কাছ থেকে বল কেড়ে নেয়া কঠিন। ব্রাজিলের ইস্পাত কঠিন ডিফেন্সও তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তাদের লন্ডভন্ড করে বারবার রক্ষণ প্রাচীর চিরে, সব বাঁধার প্রাচীর টপকে লুকাকু বল নিয়ে ঢুকে পড়েছেন ব্রাজিল বিপদ সীমায়।

তার উৎস থেকেই বেলজিয়াম পায় দ্বিতীয় গোল। যা শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলে রূপান্তরিত হয়। লুকাকুর বাড়ানো বল ধরে ব্রাজিল বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডান পায়ের দারুণ কোনাকুনি শটে গোল করে কেভিন ডি ব্রুয়েন রাখেন দক্ষ ও সুযোগ সন্ধানী গোলদাতার পরিচয়। হেজার্ডেরও রয়েছে বল প্লেয়ার হিসেবে সুখ্যাতি। ড্রিবল পাওয়ার এবং বল পায়ে রাখার কাজটি এ বেলজিক ফরোয়ার্ডও বেশ ভালোই পারেন। এমন তিন কৌশলি ও ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ফরোয়ার্ড থাকায় বেলজিয়াম আক্রমণের তোড় প্রচণ্ড। কাজেই কেউ কারো চেয়ে কম নয়। দু’দল সমান শক্তিশালী।

যাদের খেলার ধরণও প্রায় এক। আগে নিজেদের রক্ষণভাগ আগলে, মাঝ মাঠকে গুছিয়ে প্রতিপক্ষর অবস্থান বুঝে একটু এলেমোলো বা অসংলগ্ন থাকা অবস্থায় প্রচণ্ড গতিতে আক্রমণ শানানোয়ই মূল কৌশল ও লক্ষ্য দু’দলের। এভাবেই খেলে খেলেই শেষ চারে পৌঁছেছে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম।

শুধু নয়ন জুড়ানো, গতিময় আর উজ্জীবিত ও প্রত্যয়ী ফুটবল উপহার দিয়ে দর্শক-সমর্থকদের চোখ ও মন কেড়ে নেয়াই নয়। এবারের বিশ্বকাপে ফরাসি ও বেলজিকদের ট্র্যাক রেকর্ডও দুর্দান্ত। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই দল আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙেছে এই দু’দলের কাছে।

ফ্রান্স সেরা ষোলোয় আর্জেন্টাইনদের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে ছেড়েছে। ফরাসিদের প্রচণ্ড গতি আর উত্তাল তরঙ্গসম ফুটবলের সামনে কুলিয়ে উঠতে পারেনি ফুটবলের অনুপম কারিগর ও শিল্পি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ৪-৩ গোলের ঐতিহাসিক জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কনফার্ম করে ফ্রান্স।

আর বেলজিকদের গাণিতিক, কৌশলী ও দ্রুত লয়ের কাউন্টার অ্যাটাকের কাছে ২-১ গোলে হেরে এবারের মতো বিশ্বকাপ শেষ হয় ব্রাজিলের। সবচেয়ে বড় কথা, লাতিন আমেরিকার প্রায় অভিন্ন ছন্দ-লয় ও ঘরানার ফুটবলে অভ্যস্ত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সাথে অনেকটা একই কৌশল ও ছকে খেলেই জিতেছে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম।

তার মানে কি দাঁড়ালো, বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমী-অনুরাগী, ভক্ত ও দর্শকরা যে দুটি দলের অন্ধ সমর্থক, তাদের প্রাণের দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল বাদ পড়েছে যাদের কছে হেরে, সেই ফ্রান্স-বেলজিয়ামই সেমির যুদ্ধে একে অপরের মুখোমুখি। সুতরাং, এটা তো ফাইনালের আগে ফাইনালই!

সবার জানা, ফ্রান্স বিশ্বকাপ জয় করেছে একবার (১৯৯৮ সালে)। এরপর আরও একবারের ফাইনালিস্ট। ২০০৬ সালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে (৫-৩ গোলে) হেরে রানার্সআপ; কিন্তু ইতিহাস জানাচ্ছে বেলজিয়াম আগে কখনো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেনি। ১৯৮৬ সালে সেমিফাইনালে উঠেছিল প্রথমবারের মতো। ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কছে হেরে শেষ হয় বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ৩২ বছর পর আবার ফাইনালের হাতছানি বেলজিকদের সামনে।

এবারের বাধা ফ্রান্স। এই ফরাসিদের সাথে অবশ্য একবার বিশ্বকাপের বড় মঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে দেখা হয়েছিল বেলজিকদের। সেটা ১৯৮৬ সালে। মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপের ১২ নম্বর আসরের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। সে ম্যাচে ৪-২ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে জিকো-সক্রেটিসের ব্রাজিলকে দুমড়ে মুচড়ে সেমির যুদ্ধে জার্মানদের সাথে প্রবল লড়াই করেও শেষ অবধি কুলিয়ে উঠতে পারেনি মিশেল প্লাতিনি, টিগানা, রাস্তোর ফ্রান্স। ব্রেমে ও রুডি ভোলারের গোলে জিতে ফাইনালে যায় জার্মানরা।

অন্যদিকে বেলজিয়াম সেমিতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিল ফুটবল মহারাজ ম্যারাডোনার জোড়া গোলে। স্থান নির্ধারণী খেলায় লড়াই করা জাতি ফরাসিদের সাথে প্রাণপন লড়েও পারেনি বেলজিকরা। ৯০ মিনিটের লড়াই ২-২ গোলে ড্র থাকলেও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে ২ গোল খেয়ে শেষ পর্যন্ত ২-৪ গোলে হারে শিফোর দল।

যদিও ওই ম্যাচে বেলজিকদের জেতার সুযোগ ও সম্ভাবনা ছিল। কারণ, সেমিফাইনালে জার্মানদের কাছে হার মানার পর স্থান নির্ধারণী খেলায় ফরাসিরা পুরো শক্তিতে মাঠে নামেনি। সেরা একাদশের পাঁচজন ছিলেন বিশ্রামে। তারপরও পারেনি বেলজিয়াম। ১৩ দিনে চার চারটি বড় ম্যাচ খেলে ক্লান্ত-অবসন্ন বেলজিকরা পরের ৩০ মিনিটে আর কুলিয়ে উঠতে পারেনি।

৩২ বছর পর এবার আবার সেই ফরাসিদের মুখোমুখি বেলজিয়াম। একেবারে বাঘে-মহিষে লড়াই। এবার পারবে বেলজিয়াম? নাকি আবার ফরাসি সৌরভে ভাসবে রাশিয়া?সূত্র-জাগোনিউজ

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ