ভারি বর্ষণে ভোগান্তিতে রোহিঙ্গা 

ভারি বর্ষণে ভোগান্তিতে রোহিঙ্গা 

ভাগ

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল,

কক্সবাজারে পাঁচ দিনের টানা  বর্ষণের চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মিয়ানমার সেনা বাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। রাস্তায় কাদা, পাহাড় ধ্বস, জলাবদ্ধতা, বাতাসে ঘরের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এতে চরম ভোগানন্তিতে পড়েছেন তারা। এছাড়া টানা বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে সমতলে থাকা পাঁচ শতাধিক ঝুপড়ি ঘর।

ক্যাম্পে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,  সোমবার ও মঙ্গলবারে পাহাড় ধ্বসে শিশুসহ দুই জন নিহত হয়েছে। এছাড়া বুধবারে (১৩ জুন ) পাহাড় ধ্বসে ৪ জনসহ আহত হয়েছে শতাধিক।

কুতুপালং ডি ৫ ব্লকের মঞ্জুর মাঝি জানান, ক্যাম্পের রাস্তার অবস্থা এতই নাজুক যে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তা পিচ্ছল হওয়ায় ত্রান নিতে আসা মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে খাঁচায় বন্দি জীবন যাপন করছে রোহিঙ্গা।

বালুখালী ব্লক ৮ মাঝি আবুল কালাম বলেন, অতি বর্ষণে আমার অধীনে থাকা ২০ টি ঘরে পাহাড় ধ্বসে পড়েছে। যারা ঘরে ছিলো তাদের অনেকে আহত হয়েছে। তাই জীবন বাঁচাতে তাদের নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে। যদি আরো বৃষ্টি হয় তাহলে পাহাড় ধ্বসে অনেক লোক মাররা যেতে পারে। তিনি বলেন, ড্রনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। এ সময় রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

কুতুপালং ৩ নং ক্যাম্পের আবুল বশর মাঝি জানান, প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় ক্যাম্প এলাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সহজে যোগাযোগ রক্ষা করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন জলাবদ্ধতার ফলে নিম্নাঞ্চলের ঝুপড়িগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

তারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তাই বৃষ্টির পানি থেকে তারা আশ্রয় নেয়া ঝুপড়ি ঘর রক্ষা করতে ব্যস্থ সময় পার করছে।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে বেশিভাগ ল্যাট্রিন ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া পাহাড় ধ্বসে আংশিক নষ্ট হয়েছে আরো পাঁচ শতাধিক। এ অবস্থায় ভেঙ্গে যাওয়া স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নতি করা না হলে মানুষের বর্জ্যে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে। এতে নানা রোগব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার শরণার্থী  ত্রাণ ও পুনবার্সন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম (এনডিসি) বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধ্বস হতেই পারে। কিন্তু আমাদের সচেতনতার কারণে যে পরিমাণ ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা ছিল তা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি সব কিছু স্বাভাবিক করতে।

জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে গত কয়েকদিন ধরে ঝড়ো হাওয়া আর টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে কক্সবাজারে। টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার পাহাড় ধ্বসের কবলে পড়েছেন। যারা সমতল ভূমিতে ঘর নিমার্ণ করেছিলো পানিতে তা তলিয়ে গেছে। গৃহহরা মানুষগুলো নিকট আগ্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। এসব মানুষগুলোর জন্য এখন কোন ঘর তৈরি করা হচ্ছে না।

ক্যাম্পে দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, বালুখালী ২ নম্বর ক্যাম্পে ২৩০ টি, তাজনিম্মার খেলা ক্যাম্পে ৬০টি, বালুখালী ৮০টি, কুতুপালং ক্যাম্পে ২৫০ টি, নয়াপাড়ায় ১০০ টি ঘরবাড়ি পাহাড় ধ্বসের কবলে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, ঘর, ল্যাট্রিন সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কোন দুর্ঘটনা এড়াতেও কাজ করছে বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা গুলো।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান বলেন, বৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের একটু সমস্যা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য নিরাপদ রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যেসব ঘর তলিয়ে গেছে তা নির্মাণ এবং রাস্তা উন্নয়নের কাজ চালু রয়েছে। একই সাথে দুর্ঘটনা এড়াতে বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয় ক্যাম্পে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ