স্বাস্থ্যসেবার সফলতা ম্লান করতে হাসপাতালেই জামায়াত-বিএনপির এজেন্টরা সক্রিয়’  

স্বাস্থ্যসেবার সফলতা ম্লান করতে হাসপাতালেই জামায়াত-বিএনপির এজেন্টরা সক্রিয়’  

ভাগ

বিশেষ প্রতিবেদক :

দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিত্সকদের অপরাধকর্ম ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অবশেষে ফুঁসে উঠেছে কক্সবাজারবাসী। কথিত হামলার অভিযোগ এনে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক কর্তৃক অযৌক্তিভাবে হাসপাতালে তালা লাগিয়ে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করণের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ ও হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সফলতা ম্লান করতে হাসপাতালে সক্রিয় জামায়াত-বিএনপির এজেন্টদের সনাক্ত করার দাবি জানানো হয় সমাবেশে।
সোমবার দুপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীমহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বারকলিপি দিয়েছে আমরা কক্সবাজারবাসী ব্যানারে সচেতন জনতা।
অনুষ্ঠিত মানবন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে চলমান সরকার স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যখাতে কক্সবাজারের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে জেলা সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নতী করার প্রক্রিয়াধীন। যার সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সকল সাফল্যের বিরোধীতা করে আসছে জামায়াত-বিএনপির চিহ্নিত ডাক্তার এবং শিবির ও ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা শিক্ষানবিশ চিকিৎসক।
তারা অত্যন্ত সুকৌশলে জনগণকে সরকারি স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত করছে। প্রাইভেট হাসপাতালের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে না পেরে সাধারণ রোগীরা সেবা নিতে আসলে তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকেন।  অথচ তারা সেবার পরিবর্তে লাঞ্চিত হয়ে থাকেন। এতে অনেক সময় সেবা প্রার্থী এবং ডাক্তারদের মাঝে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম হয়।
তারই অংশ হিসেবে গত ১৭ এপ্রিল রোগীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের একটি ঘটনায় নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে শিক্ষানবিশ চিকিত্সকরা হাসপাতালে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রায় ৫ ঘন্টা হাসপাতাল তালাবদ্ধ রাখেন। যা একটি ফৌজধারি অপরাধ। এতে চরম ভোগান্তি এবং সেবা বঞ্চিত হয় হাসপাতালে ভর্তিকৃত ও চিকিত্সাইনতে আসা সাধারণ মানুষ। তাদেরই দাবির প্রেক্ষিতে নেয়া মামলায় জখমের চিকিত্সা নিতে আসা এক রোগীকে আটক করে অমানবিকভাবে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
খোঁজ নিয়ে জেনেছি যারা এ কাজে উত্সাহি হয়েছে এসব শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের অনেকেই ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের দায়িত্বশীল। তারা জামায়াত-বিএনপির এজেন্ট বাস্তবায়নে সরকারকে বিতর্কিত করতে চলমান হাসপাতালে তালা লাগায়। তাই এসব চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সকল অনিয়ম এবং দুর্নীতি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ১৮টি দাবি উপস্থাপন করেন বক্তারা। দাবিগুলো হলো-১.শিক্ষানবিশ চিকিত্সক যারা হাসপাতালে তালা দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া। ২.অসুস্থ রোগীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে মুক্তির দেয়া।৩.হাসপাতাল বন্ধ ও অনিয়নম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় একজন পেশাদার সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মানহানিকর, মনগড়া, মিথ্যা এবং আপত্তিকর প্রকাশিত সংবাদের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪. হাসপাতালের যন্ত্রপাতি (এক্স রে, সিটি স্কেন, এমআরআই, এন্ডোসকপিসহ) সচল করা।৫. বন্ধ হওয়া আইসিও বিভাগটি চালুর ব্যবস্থা করা।৬. হাসপাতালের শৌচাগার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা।৭. ২৪ ঘন্টা সেবা কার্যক্রম চালু করা। ৮. নিয়োগ পাওয়া ডাক্তারদের সময় মতো হাসপাতালে উপস্থিত নিশ্চিত করা।৯. নীতিমালার ভেতর শিক্ষানবিশ চিকিত্সকদের অবস্থান নিশ্চিত করা। ১০. সার্টিফিকেট বাণিজ্য বন্ধ করা।১১. সকল রোগীর সমান সেবা নিশ্চিত করা। ১২. হাসপাতাল প্রাঙ্গন নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। ১৩. সরকারি বিধি মোতাবেক খাবার ও সুপেয় পানী সরবরাহ নিশ্চিত করা। ১৪. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ থেকে লাশঘর সরানো এবং বর্জ্য ফেলা বন্ধ রাখা।১৫. পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বকেয়া বেতন প্রদান।১৬. ২৪ ঘন্টা লিফট সচল রাখা।১৭. সৌদি সরকার কর্তৃক প্রদেয় টাকা ৫০০ শয্যা হাসপাতালের জন্য বরাদ্ধ রাখা। ১৮. দালাল চক্রের দৌরাত্ম বন্ধ নিশ্চিত করা।
এসব দাবি পূরণে ব্যবস্থা নেয়া না হলে কক্সবাজারের সচেতন সবাইকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা।
মুক্তিযুদ্ধা সংসদ কক্সবাজারের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন,  কমরেড সমীর পাল, ঐক্যনেপের আহবায়ক রবিন্দ্র বিজয় বড়ুয়া,  সমুদ্রকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মঈনুল হাসান পলাশ, কামাল উদ্দি রহমান পিয়ারু, কমরেড অনীল দত্ত, পৌর কমিশনার রফিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন দোলাল, সাংস্কৃতিক জেটের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন, প্রভাষক হাসিম উদ্দিন, কলিম উল্লাহ, শেখ মেহাম্মদ মহসিন, এমইউআর মাসুদ, শ্রমিক নেতা ফরিদ আহম্মদ, শিল্পি সনজিত ধর, আব্দুল আলীম নোবেলসহ অন্যরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা আল মনছুর, সাহাব উদ্দিন, এসএম সিরাজ, এমএ হাসিব বাদল, কাশেম আলী, ফরিদুল আলম হেলালী, শহিদুল্লাহ কায়সার, শফিকুল ইসলাম, মো:ইয়াকুব, মো: হামিদুল হক, মোহাম্মদ সেলিম, নাজমুল হোসেন মিঠু,রফিকুল ইসলাম সোহেল।
উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল হাতে ও তুথনিতে জখম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসনে কলাতলীর হাসান মাহমুদ (৩৬) নামে এক যুবক। জরুরি বিভাগে থেকে তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি দিলে সেখানে চিকিত্সা নিতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে তার স্বজনদের কলহ হয়। এরই জের ধরে চিকিৎসকদের প্রহারের অভিযোগে হাসপাতালে তালা দেয় ইন্টার্নরা।
হাসপাতালে তালা মারা নিয়ে যেসব সাংবাদিক রিপোর্ট করেছে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেয় ইন্টার্নরা। তাদের অপকর্ম আড়াল করতে পরের দিন (১৮ এপ্রিল) হাসপাতালে ঢুকা ও সড়ক চলাচল বন্ধ করে মানববন্ধন করে তারা।
সেখানে পেশাগত দায়িত্বপালন করতে যাওয়া এবং আগে হাসপাতাল বন্ধের বিরোধীতাকারি এক সাংবাদিককে নারী ইন্টার্নকে ইভটিজিংয়ের মিথ্যা কলংক ছড়ায়। তাদের মামলায় কারান্তরিণ রয়েছে জখমী রোগী হাসান। এটি প্রচার পাবার পরই ফুঁসে উঠেছে কক্সবাজারবাসী।
ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ