শত্রুরসঙ্গেও সুন্দর ভাষায় কথা বলার আদেশ দিয়েছে কোরআন

শত্রুরসঙ্গেও সুন্দর ভাষায় কথা বলার আদেশ দিয়েছে কোরআন

ভাগ

মাহফুজ আবেদ, অতিথি লেখক,

কোরআনে কারিমের বহু আয়াতে মুমিনদের বলা হয়েছে, তারা যেন কাউকে তাচ্ছিল্য করা, কারও দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ানো কিংবা কাউকে নোংরা উপাধি বা উপনামে ডাকা ইত্যাদি থেকে নিজেদের বিরত রাখে।

সূরা হুজরাতের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! এক কওম যেন অন্য কওমকে বিদ্রূপ না করে। হতে পারে তারাই এদের চেয়ে উত্তম। আর নারীরাও যেন অন্য নারীদের বিদ্রূপ না করে। হতে পারে তারাই এদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অপরকে বিদ্রূপ করো না এবং পরস্পরকে খারাপ নামে ডেকো না।’

মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব। আর সামাজিকতার প্রয়োজনে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক করা ব্যক্তির নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বকে উন্নত করে। তবে এই সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন শিষ্টাচার রক্ষা করে চলা অর্থাৎ অপরকে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া।

জ্ঞান ও সভ্যতার বাহ্যিক উন্নতি যদি আপাত দৃষ্টিতে সমৃদ্ধির উচ্চ শিখরে আরোহন করে, তারপরও সেই সমাজকে মানবীয় পূর্ণতায় সমৃদ্ধ সমাজ বলা যাবে না। যে সমাজের লোকজন একে অপরের কাছে অনিরাপদ বোধ করে কিংবা একে অপরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পোষণ করে, পরস্পরের মঙ্গল কামনা করে না বরং ভেতরে ভেতরে শত্রুতা ও ক্ষতি কামনা করে, ষড়যন্ত্র করে, অপরের সম্পদের প্রতি লোভ-লালসা লালন করে, সেই সমাজে কোনোরকম শান্তি ও স্বস্তির অস্তিত্ব নেই।

পক্ষান্তরে যদি কোনো সমাজের জনগণের অন্তরাত্মায় নৈতিক গুণাবলি বিরাজ করে, একে অপরের প্রতি দয়াপরবশ হয়, সেবা-যত্ন করে, পরস্পরের প্রতি দয়া-মায়া-মমতা ও ক্ষমাশীল দৃষ্টি পোষণ করে, দুনিয়ার সম্পদ ও স্বার্থের মোহে লোভাতুর হয় না, পরস্পরের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে কেউ বাধা হয় না এবং যে সমাজের লোক ধৈর্যশীল, সহিষ্ণু ও নম্র চরিত্রের অধিকারী- এমন সমাজ যদি পার্থিব সম্পদের দিক থেকে খুব বেশি অগ্রসরও না হয়, তারপরও ওই সমাজের লোকজন সুখে শান্তিতে জীবন কাটায়।সূত্র-বাংলানিউজ

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ