রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে সুইজারল্যান্ড- প্রেসিডেন্ট অ্যালেন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে সুইজারল্যান্ড- প্রেসিডেন্ট অ্যালেন

ভাগ

ওয়াহিদ রুবেল, কক্সবাজার 

চলমান রোহিঙ্গা সংকটকে মানবতার চরম বিপর্যয় উল্লেখ করে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বারসেট বলেছেন,  রোহিঙ্গারাও মানুষ হিসেবে সম্মানজনক জীবন যাপন করা তাদের অধিকার। নিজ দেশের সরকারি বাহিনীর নির্যাতনে তাদের বাস্তুচ্যুতি বর্তমান সভ্য সমাজে কখনো কাম্য নয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেছেন।
রোহিঙ্গাদের চরম মূহুর্তে মানবিক সাহায্যে এগিয়ে আসায় বাংলাদেশের প্রসংশা করেন তিনি বলেন, এ সংকটের সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রশ্ন জড়িত।
তিনি বলেন, মানবতা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বরাবরের মতো বাংলাদেশের পাশে থাকবে সুইজারল্যান্ড। নিজ দেশ মিয়ানমারে পাশবিকতার শিকার হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সরেজমিন দেখতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পৌঁছান। এর আগে বেলা ১১টার দিকে সুইস এয়ারফোর্সের বিশেষ বিমানে কক্সবাজার বিমান বন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতপালং, বালুখালী থাইংখালী, টেকনাফের লেদা, শামলাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয় সরকার।
এ সংকট শুরুর পর থেকে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের পাশে দাঁড়ায় সুইজারল্যাল্ড সরকার। তাদের অবস্থা সরেজমিন দেখতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসেন বাংলাদেশে সফররত সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন।
সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্মান ও মর্যদার সঙ্গে রোহিঙ্গারা যাতে স্বদেশে ফেরত যেতে পারে সুইজারল্যান্ড এ লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আর এতো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার ভরণ-পোষন বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সুইজারল্যান্ড সরকার রোহিঙ্গা সংকটে ত্রাণ সহায়তাসহ নানা তৎপরতার মাধ্যমে আন্তরিকভাবে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। যতদিন রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে না ততদিন রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে সাহায্য অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন অ্যালেইন বারসেট।
সুইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন ককর্মকর্তা, আইওএম ও ইউএনএইচসিআর সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, প্রেসিডেন্ট অ্যালেন বারসেট কুতপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লক ঘুরে দেখেন। এসময় ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের উপর ঘটে যাওয়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কাহিনী শুনেন তিনি। সুইস রাষ্ট্রপ্রধান কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকের চিকিৎসা কার্যক্রম এবং ডি-৫ ব্লকের ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন ছাড়া সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর এনজিও চালিত নানা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন সুইচ প্রেসিডেন্ট। এরপর কথা বলেন স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফিরে সৈকত এলাকার একটি তারকা হোটেলে দুপুরের আহার সারেন তিনি। এরপর বিকালে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পূর্বে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ভিজিট করেন সুইস প্রেসিডেন্ট। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় ও রোহিঙ্গা রোগীদের চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করতেই সুইস সরকার মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান করেছেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড: মোহাম্মদ শাহিন আব্দুর রহমান চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য শ্চিত করতে সুইস সরকারের পক্ষ থেকে ১’শ বেড, একটি শক্তিশালী ইকো-কার্ডিওগ্রাফি মেশিন, একটি বায়োকেমিক্যাল এনালাইজার,বিশটি বেডসাইড লকার, একটি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন এবং ৫০ টি স্যালাইন স্টেন প্রদান করেছেন।
এদিকে, সুইস প্রেসিডেন্টের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকে ঘিরে মেরিন ড্র্রাইভ কোটবাজার মরিচ্যাসহ পুরো উখিয়া জুড়ে কয়েক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। নিছিদ্র নিরাপত্তার কারণে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে প্রশাসনের পপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বন্ধ থাকে দোকানপাটও। একই অবস্থা ছিল কক্সবাজার শহরেও। মঙ্গলবার ভোর থেকেই এপরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, চারদিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশ এসেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাঁর কার্যালয়ে এক বৈঠকে-রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিক আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সফররত সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট। এ সময় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ১২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাংক (১০৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা) অনুদানের ঘোষণা দেন তিনি।
ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ