রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন অমানবিক : ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন অমানবিক : ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

ভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেছেন, নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন অমানবিক। ভিন দেশে আশ্রিত জীবন কখনও সুখকর নয়। নিজ দেশে ফেরাটাই প্রশান্তির। তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবসনে ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। প্রত্যাবাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে সব ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে ইন্দোনেশিয়া।

রোববার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, রোহিঙ্গারা যতদিন বাংলাদেশে থাকবে ততদিন ইন্দোনেশিয়া ত্রাণ, চিকিৎসাসহ মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

এ সময় তিনি কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর সঙ্গে আলাপ করেন। তাদের মুখ থেকে রাখাইনে সহিংসতার বিবরণ শোনেন এবং চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের তিনি মর্যাদার সঙ্গে নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

এরপর তিনি ইন্দোনেশিয়া সরকারের অর্থায়নে স্থাপিত মেডিকেল ক্যাম্প, স্কুল, ত্রাণ কেন্দ্র এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

রোববার দুপুর ১টার দিকে তিনি বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান। সেখান থেকে সোজা চলে যান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন ফার্স্ট লেডি ইরিয়ান জোকো উইদোদোসহ একাধিক মন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান আলী, শরণার্থী সচিব আবুল কালাম, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার ড. একে এম ইকবাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেন।

এর আগে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার ঢাকায় পৌঁছান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রোববার রাতেই ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ডের বাংলাদেশ ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ