শৈতপ্রবাহে বিপর্যস্ত ঈদগাঁওর জনজীবন

শৈতপ্রবাহে বিপর্যস্ত ঈদগাঁওর জনজীবন

ভাগ

এম আবুহেনা সাগর,ঈদগাঁও

সারাদেশের ন্যায় প্রচন্ড শীত, সেই সাথে উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশা বাড়ছে শীতের তীব্রতা। শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে  ঈদগাঁওর জনজীবন। বেশ কয়দিন ধরে কনকনে শীতে হাবুডুবু খাচ্ছে সর্বস্থরের মানুষজন। এখনো শৈত্যপ্রবাহ চলছে। কয়েকদিন ধরে এই অবস্থা চলমান রয়েছে। দিনে কোন রকম সূর্যের আলো দেখা গেলেও সূর্য ডোবার সাথে সাথে প্রচন্ড ঠান্ডা ও উত্তরে বাতাস বইতে শুরু করেছে।

শীতের তীব্রতায় দিনের বেলাতে ঈদগাঁও বাজারের জনসমাগম যেমন কমে গেছে, তেমনি সন্ধ্যার পরপরই হাটবাজার গুলো ফাঁকা ভাব লক্ষ্যনীয়। প্রচন্ড শীতের কারণে কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর ঘন কুয়াশায় শীতের দাপট কমেনি। তীব্র শীতের কারণে মানুষের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। খুব সকালে মাঠে প্রতিদিনের মতো চাষিদের দেখা মিলছেনা। চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল মানুষগুলোকে। হাড় কাঁপানো শীতে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবন। অন্যদিকে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এলাকার সাধারন লোকজন। ঈদগাঁও বাজারের সর্বত্রই উপচেপড়া ভিড় দেখা যায় শীতবস্ত্রের কাপড়ের দোকানগুলোতে। কয়েক লবণ চাষীরা জানান, প্রতিদিন তারা ভোরে লবণ মাঠে যান। কিন্তু গত কয়দিনের প্রচন্ড শীতের কারণে দুপুরের দিকে মাঠে যাচ্ছে তাতেও কাঁপন ধরছে।

সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে এলাকার শিশু শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও উপস্থিতির হার কমেছে। তীব্র শীতে শিশুরা নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ঈদগাঁওর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শিশু রোগীর ভিড় বাড়ছে। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃদ্ধরাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে তারা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বৃহত্তর ঈদগাঁওর ৬টি ইউনিয়ন তথা ঈদগাঁও, পোকখালী, জালালাবাদ, ইসলামাবাদ, ইসলামপুর ইউনিয়নের হরেক রকমের পেশায় শ্রমজীবী মানুষ যারা প্রচন্ড ঠান্ডা ও শীতের কারনে ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। ঠান্ডা শীত সেই সাথে কুয়াশার সংমিশ্রণে তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শৈত্য প্রবাহের কারণে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে বৃহত্তর এলাকার প্রত্যান্ত জনপদ।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ