ঈদগাঁওতে জমে যাচ্ছে ফসলী জমি

ঈদগাঁওতে জমে যাচ্ছে ফসলী জমি

ভাগ

এম আবুহেনা সাগর,ঈদগাঁও

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে কমে যাচ্ছে ফসলী জমি। ফলে অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার আশংকা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। আবার এসব ফসলী জমিতে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত পাকা, আধা-পাকা বাসস্থান। এতে এতদঞ্চলে আশংকা জনক হারে ফসলী জমি কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রকটতর হবে বলে ধারণা করছেন অভিজ্ঞ মহল।

দেখা যায়, বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের ইসলামাবাদ, ইসলামপুর, জালালাবাদ, চৌফলদন্ডী, পোকখালী, ভারুয়াখালী খুটাখালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিত্তশালীরা ফসলী জমিতে মাটি ভরাট করে বাসস্থান প্রস্তুত করছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে বাসস্থান তৈরীর কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতি না থাকায় স্বচ্চল মানুষ গুলো ফসলী জমির মাঝখানে ঘর নির্মাণ করায় বাড়ির লোকেরা গৃহস্থলীর বিভিন্ন বর্জ প্রদার্থ এমনকি নলকূপের পানি, পায়খানার নল পাশ্ববর্তী বিলে ছাড়ায় উক্ত জমি গুলোর উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এতে বাধ্য হয়ে আশপাশের জমিতে হয় ঘর নির্মাণ করতেছে নতুবা উক্ত জায়গা গুলো ঘরের নবাগত কর্তার কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। এভাবে ফসলী জমি গুলোতে আবাস ভূমি অথবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মিত হওয়ার মাধ্যমে ফসলী জমি আবাসিক এলাকায় পরিণত হচ্ছে। এক সময় জালালাবাদের ধনকাবিল, ঈদগাঁও ঝাইক্যা কাটা বিল, বোয়ালখালী বিল ও মাছুয়াখালী সংলগ্ন বিলে মাইলের পর মাইল কোন ঘর দেখা যেতনা। অত্র অঞ্চলে শুধু ফসলী জমীতে সবুজ ধান লক্ষ্য করা যেত।

এই সবুজের মনোরম দৃশ্য দেখে প্রকৃতি প্রেমিক মানুষের মন ভরে যেতে। কিন্তু আজ সেই দৃশ্যের উল্টো চিত্রটাই ভেসে উঠেছে। ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের সেই মন ভূলানো দৃশ্য আর দেখা যাচ্ছেনা। বরং দেখা যাচ্ছে বাড়ি আর বাড়ি। এভাবে অপরিকল্পিত বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মিত হতে থাকলে এক যুগ পর অত্র অঞ্চলে ফসলী জমির অস্থিত্ব থাকবে না। অন্যদিকে বিভিন্ন ইটভাটিতে মাটির উপরি অংশ কেটে নেয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে পানি সেচের অভাবে বিভিন্ন ধানী জমিতে ধানের পরিবর্তে অনেকেই সবজি চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। প্রতিনিয়ত ফসলি জমি কমে যাওয়ায় জমি সংকটের কারণে জমির দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ