ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নতিকরণে

ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নতিকরণে

ভাগ

আব্দুল আলীম নোবেল,কক্সবাজার

ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে কর্মকক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জতিক মানে উন্নীতকরণে। এই প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ ভাগ হয়েছে রানওয়ের। চলতি বছরের শেষের দিকে বিমানবন্দরের মূল কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ১৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের মিয়াদ শেষে হলেও পুরো শেষ হতে আরো সময় লাগতে পারে।

তবে রান ওয়ের কাজ ছাড়া সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মাণের কাজ এখনও শুরু হয়নি। জমির ক্ষতিপুরণের প্রক্রিয়াটিও নানা জটিলতায় আটকে আছে।

কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরকে আন্তর্জতিক মানে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে সরকার। ২০০৯ সালে ৩০২ কোটি টাকা এবং ২০১২ সালে ব্যয় পুনঃনির্ধারণ করে ৫৪৯ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে উন্নয়নের পরিকল্পনা করলেও বিভিন্ন সমস্যায় তাস্তবাবায়ন হয়নি।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২ জুলাই ১১৯৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দর উন্নয়নের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই প্রকল্পের অন্তরর্ভুক্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও ব্রিজ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। অবশিষ্ট টাকা বিমানবন্দরের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প শেষ করার সময় ধরা হয়েছে ৩০ মাস।

প্রকল্প অনুযায়ী বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে ৯ হাজার ফুট, প্রস্থ ১৫০ মিটার থেকে ২০০ ফুট করা হবে। এ লক্ষ্যে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বিমান রানওয়ে থেকে টার্মিনালে আসার ১ লাখ ৯৭ হাজার টেক্সিওয়ে এবং রানওয়ের পিসিএন (পেভমেন্ট শক্তি বৃদ্ধিকরণ) বর্তমান ১৯ একক থেকে ৯০ তে উন্নীতকরণের কাজ করছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান শুধুমাত্র দিনের বেলায় অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে পারে। রাতের বেলায় বিমান উঠানামার জন্য কোনো ধরনের লাইটিং ও নেভিগেশন যন্ত্রপাতি নেই। আন্তর্জতিক মানে রূপান্তরের অংশ হিসেবে এ বিমানবন্দরে ভিওআর, ডিএমই, ৯০০ মিটার অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

যাতে দিনের মত রাতেও বিমান অবতরণ করতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির এসব যন্ত্রপাতি ফ্রান্স, জার্মানি এবং লাইটিং সিস্টেমের সর্বশে প্রযুক্তি ইতালি থেকে আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ফায়ার ফাইটিং ভেহিক্যাল কেনা হবে।

বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে রয়েছে ৮ হাজার ৩৯০ বর্গমিটার নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এখনো নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ছাড় পেলে নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প কর্মকর্তারা।

প্রকল্পের জন্য ১১২ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। একই প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩.৮৭ কিলোমিটার সুরক্ষা বাঁধ ও এলজিইডির ৫৯৫ মিটার ব্রিজ নির্মাণ কাজ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও টেন্ডার জটিলতায় এখনও আটকে আছে ব্রিজ নির্মাণের কাজ। অভিযোগ আছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নিতে না পারায় টেন্ডার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বৃহস্পিতিবার বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, একদিকে শ্রমিকরা অন্যদিকে স্কেভেটর দিয়ে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। যে অংশে ভরাটের কাজ শেষ সে অংশে এসফল্ট (কার্পেটিং পুরুত্ব ১-১.৫ ফুট) লাগানোর কাজ চলছে।

দেশীয় প্রকৌশলীদের সাথে কোরিয়ান হল্লা করপোরেশনের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন সমানতালে। পুরো কাজের মান নিশ্চিত করতে কাজ করছে কোরিয়ান ইউশিং ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের কনসালটেন্টরা। কাজের সুবিধার্থে রানওয়ের লাইট রাতে খুলে রেখে আবার সকালে তা লাগানো হয়।

বিমানবন্দরের কাজের জন্য প্রকল্প এলাকার পাশে পাথর ভাঙা, বালু স্তূপীকরণ ও রড কাটার কাজ করছে নির্মাণ শ্রমিকরা।

হল্লা করপোরেশনের সাথে দেশীয় প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে। প্রকল্প কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২১০ কোটি টাকা অর্থ ছাড় দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে যার পুরোটাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমিনুল হাসিব বলেন, ‘দিনরাত ২৪ ঘণ্টা পুরোদমে উন্নয়ন কাজ চলছে।

দুই শিফটে শ্রমিকরা কাজ করছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মূল বিমানবন্দরের কাজ শেষ হবে এবং প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ করা হবে। ইতিমধ্যে পুরো কাজের ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রানওয়ের কাজ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রকল্পে রানওয়ের পিসিএন বৃদ্ধি (শক্তিশালীকরণ) করার ফলে ৩৫০ টনের অধিক ওজনের বিমান এখানে অবতরণ করতে পারবে। বর্তমানে যেখানে ৫৪ টনের অধিক ওজনের বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়া হয় না। এক কথায় সম্পূনূরূপে আন্তর্জতিক মানের বিমানবন্দর হবে কক্সবাজার।’

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের কাজ শেষ হলে এখানে ৭৭৭ বোয়িং বিমান উঠানামা করতে পারবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা সরাসরি কক্সবাজার আসতে আবার এখান থেকে চলে যেতে পারবে। এখন ঢাকা হয়ে আসতে হয় কক্সবাজার আর তখন পর্যটকদের আগ্রহের কারণে কক্সবাজার হয়ে ঢাকা যাবে বিমান। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের মত পর্যটকরা সরাসরি আসতে পারবে। পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে বিমানবন্দরকে ঘিরে।’

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হলে এখানে পর্যটকদের সমাগম বৃদ্ধি পাবে। এখানকার পর্যটন শিল্প উন্নত হবে। এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের পাশাপাশি শহরের মধ্যেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন হবে।

ইতিমধ্যে আন্তর্জতিক মানে উন্নীতকরণকে ঘিরে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টসূত্র জানিয়েছে, ইউনাইটেড এয়ার আবার এ রুটে বিমান পরিচালনার পরিকল্পা করছে পাশাপাশি ইউএস বাংলা এবং রিজেন্ট এয়ার বড় বিমানে করে যাত্রী পরিবহনের কথা ভাবছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন জানান, কক্সবাজারে অন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্ধর পুরোদমে চালু হলে পাল্টে যাবে কক্সবাজারের চেহেরা। কক্সবাজার উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনালের চেয়রম্যান সিআইপি আতিকুল ইসলাম জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে বিশ্বমানের করতে হলে আরো অনেক বেশি পরিকল্পনা দরকার। যেটি হচ্ছে সেটি নামে আন্তর্জাতিক হলেও মানে হবে না। কারণ বিশ্বের বিমানবন্দর গুলোর সাথে তালমিলাতে হলে সরকারকে অনক ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহরণ করতে হবে।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ