নিজস্ব মেধাশক্তি ও ক্ষমতায় আস্থা রাখুন-প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব মেধাশক্তি ও ক্ষমতায় আস্থা রাখুন-প্রধানমন্ত্রী

ভাগ

আলোকিত কক্সবাজার :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব মেধাশক্তি ও ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার জন্য দেশের নারীসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নারী ও পুরুষ উভয়ে মিলেই দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে।

আমরা চাই দেশের সকল নারী-পুরুষ দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবে। মেয়েদেরও সব সময় এটা ভাবতে হবে, যার যে মেধা, যার যে শক্তি সে যেন সেটাকে বিকশিত করে। ’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া দিবস ও রোকেয়া পদক-২০১৭ বিতরণ উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

পাঁচজনকে বেগম রোকেয়া পদক ২০১৭তে ভূষিত করা হয়। তাঁরা হলেন সংগঠক মাজেদা শওকত আলী, মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদ (মরণোত্তর), চিত্রশিল্পী সুরাইয়া রহমান, লেখক শোভা রানী ত্রিপুরা এবং সমাজকর্মী মাসুদা ফারুক রত্না।

প্রধানমন্ত্রী গত বছরই বেগম রোকেয়া পদক বিতরণের সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ বছর থেকে দুজনের পরিবর্তে আরো বেশি সংখ্যক নারীকে, বিশেষ করে যাঁরা নিভৃতে নারী উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে এই পদক বিতরণ করা হবে। ১৯৯৫ সাল থেকে প্রদান করা এই পদকে ভূষিত করে এ পর্যন্ত ৪৬ জন নারীকে সম্মানিত করা হয়েছে। এ বছর বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন মাজেদা শওকত আলী।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আরো বলেন, ‘আমাদের নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই চলতে হবে।

সেটা নিজেদের উদ্যোগে নিতে হবে, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে নয়। ’ তিনি বলেন, ‘চলার পথে নানা বাধা থাকে, বাধা আসবেই, সেই বাধাকে অতিক্রম করে আমাদের নারীদের এগিয়ে যেতে হবে। ’

মা-বোনদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকলের উচিত আমাদের সমাজে যারা একেবারে অবহেলিত জনগোষ্ঠী তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং তাদের সহযোগিতা করা। সকলে মিলে কাজ করলে নিশ্চয়ই এই সমাজ গড়ে উঠবে। ’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ট্রেডে নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দিচ্ছি, যাতে করে দেশে-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। কাজেই আমরা চাই যে সবাই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই দেশকে উন্নত করার জন্য কাজ করবে। ’

নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে তাঁর সরকারের ব্যাপক কার্যক্রমের সাফল্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একের পর এক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশ শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

তাঁর সরকারের সময় দেশে নারী জাগরণে বিপ্লব ঘটেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বক্ষেত্রে এই নারীরা এখন অগ্রগামী। নারী নীতিমালা প্রণয়ন, নারী উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারণ, দরিদ্র-অবহেলিত নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনয়ন এবং সর্বোপরি সমাজের প্রান্তিক, অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারীদের উন্নয়নে সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মধ্যযুগের অন্তপুরের বাসিন্দা নারীদের আলোকবর্তিকা হাতে পথ দেখানো নারী মুক্তির অগ্রদূত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নেপথ্য কারিগর তাঁর মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের বিভিন্ন সাহসী ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মায়ের একটা দৃঢ়চেতা মনোভাব ছিল। সময়োচিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। আমার মা রাজনীতিতে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বাবার পাশেই সব সময় থেকেছেন। ’ সূত্র : বাসস।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ