উখিয়াতে পিএসসি পরিক্ষার চার খাতা উদ্ধার

উখিয়াতে পিএসসি পরিক্ষার চার খাতা উদ্ধার

ভাগ

বিশেষ প্রতিবেদক:

উখিয়ায় পিএসসি পরিক্ষার চারটি খাতা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার চোয়াংখালী এলাকার নজির আহম্মদের বাড়ি থেকে এসব খাতা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা খাতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষা অফিসারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। উখিয়ার সহকারী কমিশনার ভূমি একরামুল হুদা খাতা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সকালে চোয়াংখালী গিয়ে ৪টি খাতা উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক চোয়াংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করে ইউএনও স্যারকে রির্পোট দিয়েছি। এ ধরনের দায়িত্বহীন কর্মকান্ডের জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত পিএসসি পরিক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য চোয়াংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিবুল্লাহকে খাতা দেয়া হয়। নিজে এসব খাতা মূল্যায়ন না করে স্থানীয় নজির আহম্মদের কন্যা তসলিমাকে ৪০টি খাতা মূল্যায়নের জন্য দেন। কিন্তু তসলিমার বড়ভাই বেলালা উদ্দিন বোনের হাতে পিএসসি পরিক্ষার খাতা দেখে খাতাগুলো জব্দ করে স্থানীয় সাবেক মেম্বারসহ সচেতন মহলকে অবহিত করেন। তারা সাথে সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খাতা সম্পর্কে অবহিত করেন। বিষয়টি জানতে পেরে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান সহকারি কমিশনার (ভূমি)কে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতা উদ্ধারের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে মঙ্গলবার সকাল অনুমান সাড়ে দশটার দিকে চোয়াংখালীতে গিয়ে ৪ টি খাতা উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া এসব খাতা ইউএনওর মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয়দের মতে, এটি একটি জঘন্য অপরাধ। পাশাপাশি এটি দায়িত্বশীল শিক্ষকের কাজ হতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের ভবিষ্যত অন্ধকার হবে বলে মনে করেন তারা। তাই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

বেলাল উদ্দিন জানান, আমার বোনের কাছে পিএসসি পরিক্ষার ৪০টি খাতা দেখতে পেয়ে আমি স্থানীয়দের জানাই। তারা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে খবর দিলে আজ (মঙ্গলবার) সকালে এসে খাতাগুলো নিয়ে যায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শুভ্রতা কুমার ধর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি জঘন্য অপরাধ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে একটি লিখিত রিপোর্ট দেবেন, সেটির উপর আমি একটি রির্পোট লিখে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর পাঠিয়ে দেব। রির্পোটের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে শাস্তি দেবেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আমি ঔ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করে একটি রির্পোট দিয়েছি। সে মতো করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি খাতা হারিয়ে যেতো বা কেউ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতো তবে অভিযুক্ত শিক্ষক থানায় জিডি করলো না কেন। পাশাপাশি আমাকে ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেও জানাই নি। এখন খাতা উদ্ধার করার পর সে নিজেকে নিরাপরাধ দাবি করতেই পারে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হবে না। কারণ এটি একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ