সাগরে বাঁশখালীর ৬৫ মাঝি-মাল্লা জিম্মি জলদস্যুদের হাতে

সাগরে বাঁশখালীর ৬৫ মাঝি-মাল্লা জিম্মি জলদস্যুদের হাতে

ভাগ

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:

বঙ্গোপসাগরের ‘লাশের দ্বার’ নামক স্থানে বাঁশখালী চাম্বল বাংলাবাজার এলাকার পাঁচটি মাছধরা নৌকার ৬৫ মাঝি-মাল্লাকে জিম্মি করেছে ৪০-৫০ জনের জলদস্যু বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে তাঁদের জিম্মি করা হয়।

মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। এরই মধ্যে জলদস্যুরা এসব নৌকা থেকে ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের ইঞ্জিন, জাল ও মাছ লুট করেছে।জলদস্যুদের কবলে পড়া মাছধরা নৌকাগুলো হলো মো. ইলিয়াছের মালিকানাধীন ‘মায়ের দোয়া’, মো. ছৈয়দ নুরের ‘এমভি সাইফুল’, মোস্তাক আহমেদের ‘মোস্তাক সার্ভিস’, আবছারের ‘মায়ের দোয়া’, মো. শফি কোম্পানির ‘ফোর স্টার’। এসব নৌকার মালিকপক্ষ জানিয়েছে, কালু মাঝি, আমিন মাঝি, ইউসুফ মাঝি, মানিক মাঝি ও ইসমাইল মাঝিসহ ৬৫ জেলে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি। সবাইকে বঙ্গোপসাগরের ‘লাশের দ্বার’ নামক স্থানে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। প্রত্যেক নৌকার জন্য তিন লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে। মুক্তিপণ না দিলে মাঝি-মাল্লাদের মেরে লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ডাকাতিতে জড়িত রয়েছে সোনাদিয়ার শাহীন বাহিনী, মহেশখালী রাশেদ বাহিনী, কুতুবদিয়ার পুতু বাহিনী ও সালেহ আহমদ বাহিনী, বাঁশখালীর বড়ঘোনার বারেক, জাকের ও জসিম বাহিনী।

আক্রান্ত নৌকার মালিকদের অভিযোগ, জলদস্যুদের হাতে মাছধরা নৌকা ডাকাতি এবং মাঝি-মাল্লাকে জিম্মি করার খবর কোস্টগার্ডকে জানানো হলেও তাঁরা সহযোগিতা করছে না।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া জোনের কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. সোলেইমান কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা থেকে ভোররাত চারটা পর্যন্ত সাগরে টহলে ছিলাম। ওই সময় কোনো ডাকাতি হয়নি। তবে বাঁশখালীর কয়েকজন ফিশিং বোটের মালিক ফোন করে জানান, মঙ্গলবার (গতকাল) সকালে কয়েকটি বোটে ডাকাতি হয়েছে এবং মাঝি-মাল্লাকে জিম্মি করে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘ওই ফিশিং বোটের মালিকদের জিম্মিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য এবং মুক্তিপণ চাওয়া মোবাইল নম্বরগুলো আমাদের সরবরাহ করার কথা বলা হলেও তাঁরা দিচ্ছেন না। তাই সরাসরি অ্যাকশনে যেতে পারছি না। তবে আমরা সাগরে যেকোনো অপরাধ দমনে প্রস্তুত আছি। ’

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ফিশিং বোট ডাকাতি এবং জেলেদের জিম্মি করার খবর শুনেছি। বঙ্গোপসাগরে পুলিশের অভিযান চালানোর মতো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। কোস্টগার্ড সাগরের অপরাধ দমনে নিয়োজিত। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের আমার সাধ্যমতো সহযোগিতা করব। ’কালেরকণ্ঠ

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ