৪১ যুদ্ধজাহাজের মহড়া বঙ্গোপসাগরে

৪১ যুদ্ধজাহাজের মহড়া বঙ্গোপসাগরে

ভাগ

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের নৌবাহিনীর অংশগ্রহণে বঙ্গোপসাগরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া। ৪১টি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে মঙ্গলবার থেকে বঙ্গোপসাগরে শুরু হচ্ছে মহড়া।

সঙ্গে রয়েছে তিনটি মেরিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট ও চারটি হেলিকপ্টার। শুধু যুদ্ধজাহাজ নয়, সাধারণ জাহাজও যদি বিপদে পড়ে, কিভাবে উদ্ধার করা যাবে এরও মহড়া চলবে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গতকাল কক্সবাজারের ইনানী বিচে প্রধান অতিথি হিসেবে মহড়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ইয়নস মাল্টিলেটারাল মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এক্সারসাইজ (আইএমএমএসএআরইএক্স-২০১৭) নামে এ মহড়া আজ ও আগামীকাল বুধবার বঙ্গোপসাগরে সম্মিলিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভারতের চার, চীনের এক, ইন্দোনেশিয়ার এক, ইরানের দুই ও বাংলাদেশের ৩৩টি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে। মহড়ায় আইওএনএসের (ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম) ৩২টি দেশের মধ্যে

বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া ৯টি পর্যবেক্ষক দেশের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং নৌপ্রধান, ঊর্ধ্বতন নৌ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের মেরিটাইম বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ থাকছে মহড়ায়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো দেশের একার পক্ষে সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না। এ ক্ষেত্রে তিনি সুনামি, সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

‘ব্লু ইকোনমি’ তথা সমুদ্র অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোকে মেরিটাইম ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘স্থলসীমান্ত দেশগুলোকে আলাদা করে রাখলেও সাগরের বন্ধুত্বের বন্ধন আমাদের একসঙ্গে রাখতে পারে। আইওএনএস শুধু ভারত মহাসাগর অঞ্চলের নয়, বরং এশিয়া প্যাসিফিক ও সংলগ্ন অঞ্চলের আশার প্রতীক। ’

অনুষ্ঠানে আইওএনএসের বর্তমান চেয়ারম্যান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং আইওএনএসের প্রতিষ্ঠাতা দেশ হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান শুভেচ্ছা বক্তব্য দিবেন। নৌবাহিনী প্রধান রাষ্ট্রপতির হাতে ইমসারেস্ক ২০১৭-এর স্মারক তুলে দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমান্ডার বিএন ফ্লিট রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আশরাফুল হক মহড়ার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সেনা ও বিমানবাহিনী প্রধান, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং কূটনীতিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারতের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল সুনিল লাম্বা, মালয়েশিয়ার নৌবাহিনী প্রধান টেন ফ্রি আহমেদ ও মিয়ানমারের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল টিং অং ফান। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আইওএনএস রচনা প্রতিযোগিতা ২০১৬-এর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এরপর প্রধান অতিথি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী যুদ্ধজাহাজগুলোর ফ্লিট রিভিউ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য বিচ কার্নিভালের উদ্বোধন করেন।

নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমবারের মতো ভারত ও চীনের জাহাজ সমুদ্রে পাশাপাশি থাকছে এবং একসঙ্গে কোনো মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। বিষয়টিকে নৌকূটনীতির সফলতা হিসেবে মনে করে বাংলাদেশ। মহড়ায় প্রথমে মিয়ানমারের একটি জাহাজ অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটা আসেনি। তবে তাদের নৌবাহিনী প্রধান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। ইমারেক্সের সদস্য রাষ্ট্র বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আশপাশে যেসব দেশ রয়েছে তারাই কেবল এর সদস্য হতে পারবে। এর বাইরে কেউ সদস্য হতে পারবে না। তবে পর্যবেক্ষক হিসেবে যেকোনো দেশ থাকতে পারবে।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যকার নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চোরাচালান দমনসহ বিভিন্ন পেশাগত সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান ওশান নেভাল সিম্পোজিয়াম (আইওএনএস) প্রতিষ্ঠিত হয়। সূত্র-কালেরকণ্ঠ

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ