বিয়ের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা হয়তো আর নাও পেতে পারেন!

বিয়ের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা হয়তো আর নাও পেতে পারেন!

ভাগ

আলোকিত কক্সবাজার ডেক্স:

গত কয়েক দশকে অসংখ্য গবেষণায় বিয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য ভালো থাকার অনেক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিয়ে করেন তারা বেশিদিন বাঁচেন।

অবসাদে আক্রান্ত হন কম। তাদের স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকও হয় কম।

কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল সায়েন্স কোয়ার্টারলিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বিয়ে করার ফলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায় বলে আমরা এতদিন ভেবে আসছিলাম সেসব হয়তো আর নাও পাওয়া যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্মের জন্য বিয়ে করার সঙ্গে স্বাস্থ্যবান থাকার যে সম্পর্ক ছিল তা দুর্বল হয়ে এসেছে। ফলে যারা আগেভাগেই বিয়েটা সেরে ফেলেন তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, এই কথাটা এখন আর সত্য হিসেবে টিকবে না। এমনটাই বলেছেন, ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী দিমিত্রি তুমিন। যিনি ওই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

গবেষকরা কী আবিষ্কার করেছেন?
তুমিন ১৯৫৫ এবং ১৯৮৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া বিবাহিত লোকদের মধ্যে তুলনা করেছেন নানা মেয়াদের বিয়ের ক্ষেত্রে।

সংক্ষিপ্ত মেয়াদের দাম্পত্যকে ধরা হয়েছে চার বছরের কম সময়ের বিবাহিত জীবনকে।

মধ্যম মেয়াদের দাম্পত্যের দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছে পাঁচ থেকে নয় বছর। আর দীর্ঘ মেয়াদের বিয়ের সময়কাল ১০ বছর বা তার বেশি।

যদিও পুরোনো প্রজন্মের লোকদের মধ্যে যারা বিবাহিত জীবন-যাপন করছেন তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকতে দেখা গেছে। তথাপি বিয়ের ফলে এই স্বাস্থ্য ভালো থাকার বিষয়টি প্রজন্মান্তরে কমে যেতে দেখা গেছে।

তুমিন বলেন, আগের প্রজন্মের বিবাহিত লোকদের জীবন-যাপনের ধরনে হয়তো অবিবাহিতদের চেয়ে ভালো কোনো ভিন্নতা ছিল। যার ফলে বিবাহিত লোকদের স্বাস্থ্য ভালো থাকত।

অবশ্য, বিয়ে কেন আর স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি থাকছে না তার কারণগুলো পরীক্ষা করে দেখেননি তিনি। তবে তিনি বলেন, এমনটা হতে পারে বিয়ে করা এবং অবিবাহিত থাকা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাওয়ার ফলেও।

তিনি বলেন, অবিবাহিতরা এখন অনেক বেশি বন্ধু-বান্ধব বা বাবা-মাকে নিয়ে বসবাস করেন। আগে অবিবাহিতরা যতটা একা থাকতেন তার চেয়ে এখন অনেক কম একা থাকেন। বরং এখন বিবাহিতরাই অনেক বেশি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলে আগের প্রজন্মের অবিবাহিতদের বেলায় যে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির বিষয়টি আরোপ করা যেত এখনকার প্রজন্মের অবিবাহিতদের বেলায় আর তা করা যাচ্ছেনা।

মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হুই লুই বলেন, শুধু বিয়ের ফলেই লোকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে কিনা তা নিয়ে অবশ্য ভিন্নমতও আছে। কারণ গবেষণায় স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ারও অনেক নজির দেখা গেছে।

তিনি বলেন, বিবাহিত লোকেরা সাধারণত একটু বেশি আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন পারিবারিক যৌথ আয়ের ফলে। বাড়তি আর্থিক সুবিধার কারণে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারা, একটু ভালো বাসা-বাড়িতে থাকা এবং উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবা কিনতে পারা যায়। ফলে স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।

একটি ভালো বিয়ে আবেগত এবং সামাজিক সমর্থনও যুগিয়ে থাকে। যার ফলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। কিন্তু বাজে বিয়ের সম্পর্কের কারণে মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হয় লোকে। আর মানসিক অবসাদ একটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

পশ্চিমা বিশ্বে ৯০% মানুষ ৫০ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিয়ে ভেঙ্গে যায়।

মনোবিজ্ঞানী ড. নিল বার্টন তার বই ‘ফর বেটার ফর ওয়ার্স’ বইতে লিখেছেন, জীবনের সবচেয়ে অবসাদজনক ঘটনাগুলোর একটি ডিভোর্স। মধ্য বয়সের পরে গিয়ে বিয়ে  বিচ্ছেদ হলে বিবাহিত লোকদের স্বাস্থ্য অবিবাহিতদের চেয়ে খারাপ থাকে। এমনকি পুনরায় বিয়ে করলেও আর স্বাস্থ্য ভালো হয় না।

তিনি বলেন, শারীরিক এবং মানসিক উভয় ভাবেই সুস্থ্য থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চা করার মতোই গুরুত্বপূর্ণ বিয়ে করা।

বার্টন বলেন, বিয়ে করার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা মূলত পার্টনারের সামাজিক সাপোর্ট থেকে আসে। তবে বিয়ে ছাড়াও এই ধরনের সামাজিক সাপোর্ট পাওয়া যেতে পারে।

অবিবাহিতরাও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং প্রেমিক-প্রেমিকার কাছ থেকে একই রকম সুবিধা পেতে পারেন। এছাড়া পোষা প্রাণি রেখেও এই স্বাস্থ্যগত উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে। পোষা প্রাণি থাকলে মানসিক এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

বার্টন বলেন বিয়ে কীভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে তা বিয়ের ধরনের ওপরও নির্ভর করছে।

প্রতিটি মানুষই আলাদা এবং প্রতিটি বিয়েও আলাদা। আপনি যদি সুখিভাবে দাম্পত্য জীবন-যাপন করতে পারেন তাহলে বিয়ে আপনার জন্য বেশ সুফলই বয়ে আনবে। কিন্তু তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামা কখনো বিয়ে করেননি। তাও তিনি দুর্বিনীত স্বাস্থ্যের অধিকারী।

সূত্র: হেলথ লাইন/কালের কণ্ঠ

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ