বাচ্চাদের চেয়ে স্বামীরাই নারীদের জন্য দ্বিগুণ বেশি স্ট্রেসের কারণ!

বাচ্চাদের চেয়ে স্বামীরাই নারীদের জন্য দ্বিগুণ বেশি স্ট্রেসের কারণ!

ভাগ

আলোকিত কক্সবাজার:

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৬% নারীর জন্য বাচ্চাদের চেয়ে স্বামীরাই বেশি বিরক্তি এবং মানসিক চাপের কারণ। ওই গবেষণায় স্বামী-সন্তান আছে এমন ৭ হাজার নারীর ওপর জরিপ চালানো হয়।

ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ নারী জানিয়েছেন তাদের স্বামীরাও মাঝেমধ্যে শিশুদের মতোই আচরণ করেন।

গবেষণায় আরো যেসব বিষয় উঠে এসেছে,

১. বেশিরভাগ নারীই বলেছেন তারা প্রতিদিনের কাজ সারার জন্য যথেষ্ট সময় পান না।
২. প্রতি চারজনের তিন জনই বলেছেন, বেশিরভাগ ঘরকন্না এবং সন্তান লালন-পালনের কাজ তাদেরকেই করতে হয়।
৩. প্রতি ৫ জন মায়ের একজন বলেছেন, তাদের প্রতিদিনের অযাচিত মানসিক চাপের বেশিরভাগই আসে স্বামীদের কাছ থেকে। যারা আসলে কোনোভাবেই তাদেরকে সহয়াতা করতে পারেন না।

বিবাহিত নারীদের জন্য স্বামীরা কেন মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের উৎস হয়ে ওঠেন?
স্বামী-সন্তান নিয়ে পরিবার চালানো বেশ কঠিনই বটে। বিশেষ করে নারীরা যখন অনুভব করেন যে তিনিই একমাত্র ঘরকন্নার সব কাজ করছেন। একজন বিবাহিত নারীকে একই সঙ্গে বাবুর্চি, বুয়া, ড্রাইভার, শিক্ষক, নার্স, বিশেষ ইভেন্টের আয়োজক এবং ঘরের আর সব কাজই করতে হয়। এমনকি ঘরের বাইরে গিয়ে চাকরি করলেও তাকেই ঘরের সব সামলাতে হয়।

কিন্তু স্বামী যখন তাকে এসবে কোনো সহায়তা করেন না তখনই তিনি মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হন।

নারীরা কেন স্ট্রেস অনুভব করেন?
নারীরা যখন সব কাজ করেন তখন তারা মনে করেন সব তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেই ঠিক থাকবে। ফলে তারা তাদের স্বামীদেরকে কোনো কিছু নিখুঁতভাবে করতে পারে বলে মনে করেন না। স্বামীদের এই অক্ষমতার কারণে তারা তাদেরকে সমান জীবনসঙ্গীও মনে করতে পারেন না। আর এর ফলে তারা মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হন।

অবসাদ কমানোর উপায় কী?

১. যোগাযোগ প্রধান চাবিকাঠি:
বিষয়টি নিয়ে পার্টনারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কারণ কথা না বললে কেউ বুঝতে পারবে না আপনি কী সমস্যায় আছেন।

২. পরিকল্পনা তৈরি করুন
ঘরের কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন। এরপর সেগুলো দুজনের সুবিধা মতো ভাগ করে নিন। এতে আপনার পার্টনারকে সহজেই কাজে লাগানো যাবে।

৩. স্বামীরা চাইলে আরো বেশি অবদান রাখতে পারেন
একজন স্বামীকে বুঝতে হবে যে তার স্ত্রী ঘরের কাজ ও বাচ্চাদের নিয়ে বেশ কঠোর পরিশ্রমই করেন। ফলে আপনি যদি স্ত্রীকে সহায়তা করেন তাহলে তিনি আপনার প্রতি শুধু সন্তুষ্টই হবেন না বরং চির কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবেন। আর এতে আপনাদের সম্পর্কও আরো শক্তিশালী হবে।

৪. স্ত্রীরাও মাঝে মধ্যে একুট ছাড় দিতে পারেন
একজন স্ত্রী হিসেবেও আপনাকে বুঝতে হবে যে সবকিছুই সবসময় একেবারে নিখুঁত হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সুতরাং মাঝে মধ্যেই কাজ বাদ দিয়ে নিজের জন্য একটু সময় একান্তে ব্যয় করুন। একটা কথা মনে রাখবেন আপনি নিজে যদি সুখি হতে না পারেন তাহলে অন্য কাউকেই আপনি সুখি করতে পারবেন না।

৫. সম্পর্কটা একটু ঝালাই করে নিন
অনেক সময় বিয়ের পরে পার্টনারের সঙ্গে সম্পর্ক একটু পিছিয়ে পড়তে পারে। কেননা শুধু বাচ্চাদের সঙ্গে সময় দেওয়ার ফলে পার্টনারের কথা আর মনে থাকে না। কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন বিয়ের পরও পার্টনারের সঙ্গে সময় না দিলে সম্পর্কটাই একসময় মরে যাবে। সুতরাং শুধু পরিবারের জন্যই সবকিছু নিখুঁত করার চিন্তা না করে বরং পার্টনারের সঙ্গেও একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ বের করুন।সূত্র-কালেরকণ্ঠ

ভাগ

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ